সিলেট ৪ঠা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ৫ই শাওয়াল, ১৪৪৬ হিজরি
প্রকাশিত: ৬:৫৩ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৮, ২০১৭
ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : রাজশাহীর গোদাগাড়ী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের সীমান্তে পদ্মার এক চরে সন্দেহভাজন জেএমবি জঙ্গিদের একটি আস্তানা ঘিরে র্যাবের অভিযানে গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের পর তিনজনের দেহাবশেষ পাওয়া গেছে।রাজশাহী র্যাব-৫ এর অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল মাহাবুব আলম জানান, মঙ্গলবার ভোরের দিকে গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের মধ্যে বাঁশ আর টিনের তৈরি ওই ঘরে আগুন ধরে যায়।
সকালে আগুন নেভার পর বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সদস্যরা ওই বাড়ির ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালিয়ে তিনজন পুরুষ নিহত হওয়ার কথা জানান।
পরে র্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান ঘটনাস্থলে এক ব্রিফিংয়ে বলেন, বিস্ফোরণে লাশগুলো খণ্ড খণ্ড হয়ে গেছে। মাথা ও শরীরের অংশ দেখে তারা তিনজন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন।
এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে অবিস্ফোরিত তিনটি আইইডি (ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) উদ্ধার করে নিষ্ক্রিয় করেছে র্যাব। উদ্ধার করেছে দুটি পিস্তল, সাতটি ডেটোনেটর, ১২টি পাওয়ার জেল ও বোমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম।
ওই বাড়ির মালিক রাশিকুলের স্ত্রী নাজমা বেগম, নাজমার বাবা খোরশেদ আলম ও মা মিনারা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গোদাগাড়ীর সাব্দিপুর সরকারপাড়া গ্রাম থেকে আটক করেছে র্যাব।
মুফতি মাহমুদ বলেন, নিহত ওই তিন ‘জঙ্গি’ জেএমবি সদস্য বলে তাদের ধারণা। ঢাকার মোহাম্মদপুরে গ্রেপ্তার এক জেএমবি সদস্যের দেওয়া তথ্যেই তারা চাঁপাইনবাবগঞ্জে এই জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পান।র্যাব-৫ অধিনায়ক মাহাবুব বলেন, জঙ্গি আস্তানার তথ্য পেয়ে সোমবার রাত ৩ টার দিকে চর আলাতলির মধ্যচর গ্রামের ওই বাড়ি ঘিরে ফেলেন র্যাব-৫ এর সদস্যরা।
“বাড়ি ঘেরাও করে মাইকে জঙ্গিদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হয়। কিন্তু তারা বাড়ির ভিতর থেকে দুটি গ্রেনেড ছোড়ে ও গুলি চালায়। এ সময় র্যাবও পাল্টা গুলি চালায়।”
বেশ কিছু সময় থেমে থেমে গোলাগুলির এক পর্যায়ে ওই বাড়ির ভেতরে তিনটি বিস্ফোরণ হলে পুরো বাড়িতে আগুন ধরে যায়। সকাল সাড়ে ৬টার পর্যন্ত সেখানে আগুন জ্বলে।
পরে বেলা ১২টার দিকে র্যাবের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে সেখানে তল্লাশি শুরু করেন। র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) কর্নেল মো. আনোয়ার লতিফ খানও হেলিকপ্টারে করে ঘটনাস্থলে আসেন।
ওই চরের এক কিলোমিটার দূরে ভারতের শাহগোলা সীমান্ত। সকালে চরে গিয়ে দেখা যায় টিনের বাড়িটি ধ্বংস্তূপে পরিণত হয়েছে। মাথা তুলে আছে কেবল কয়েকটি বাঁশের খুঁটি।ওই জমির পাশেই কয়েকটি মহিষ চরতে দেখা যায়। আশপাশের এক থেকে দেড় কিলোমিটারের মধ্যে আর কোনো বাড়ি নেই।
আলাতলি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মিজাবাহুল হক বলেন, ওই বাড়ির মালিক রাশিকুল পেশায় একজন কৃষক, তিনি পরিবার নিয়ে থাকেন গোদাগাড়ীতে। বছর চারেক আগে আলাতলিতে এসে খোলা ওই জমিতে ঘর তুলে ভাড়া দেন।
“মাস খানেক আগে কয়েকজন লোক এসে এনজিও করার কথা বলে বাড়িটি ভাড়া নেয়। প্রায়ই অপরিচিত লোকজন সেখানে আসত। তবে আমরা কারও নাম জানি না।”
Sharing is caring!
………………………..
Design and developed by best-bd