সিলেট ৩রা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা শাওয়াল, ১৪৪৬ হিজরি
প্রকাশিত: ১:২৫ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৪, ২০১৭
ডেস্ক নিউজ : সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক ও দোয়ারাবাজার) আসনে দলের মনোনয়ন নিয়ে মতানৈক্য দেখা দিয়েছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে। বিএনপির জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল এ কারণে যে, দলটির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের মনোনয়ন চাইছে জামায়াতে ইসলামী ও খেলাফত মজলিস।
গত ১০টি সংসদ নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা চারবার, স্বতন্ত্র প্রার্থীরা তিনবার, জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা দুবার, বিএনপি ও জাসদের প্রার্থীরা একবার করে জয়ী হয়েছেন। বর্তমানে এ আসনের এমপি আওয়ামী লীগের মুহিবুর রহমান মানিক। তিনবারের এই এমপির বিরুদ্ধে এরই মধ্যে উন্নয়নের নামে লুটপাট ও দুর্নীতির অভিযোগ করছেন দলের অনেক নেতাকর্মী।
অবশ্য এ অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন মুহিবুর রহমান মানিক। তিনি বলেন, এ আসনে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার উন্নয়নকাজ করেছেন। যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্পায়ন ও বিদ্যুতায়ন থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রেই উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। এসব উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ঈর্ষান্বিত হয়েই একটি মহল মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।
আগামী নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের বিজয় নিশ্চিত করতে এমপি মানিক নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রমে শামিল হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন। তিনি আবারও দলের মনোনয়ন চাইবেন। দোয়ারাবাজার উপজেলার চেয়ারম্যান ইদ্রিস আলী বীরপ্রতীক বলেন, জনপ্রিয়তা আছে বলেই মানিক ১৯৯৬, ২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। এ আসনে তার বিকল্প নেই।
ছাতক উপজেলার চেয়ারম্যান অলিউর রহমান চৌধুরী বকুল অবশ্য ভিন্নমত পোষণ করছেন। তিনি বলেন, ভোটাররা আগামী নির্বাচনে স্বচ্ছ ইমেজের নতুন মুখ দেখতে চাইছেন। জেলা পরিষদের সদস্য আজমল হোসেন সজলের মতে, ছাতক পৌরসভার তিনবারের মেয়র আবুল কালাম চৌধুরীর ছোট ভাই শামীম আহমদ চৌধুরীকে ছাড়া অন্য কাউকে মনোনয়ন দিলে এ আসনে আওয়ামী লীগের জয়ের সম্ভাবনা ক্ষীণ হবে।
শামীম আহমদ চৌধুরী বলেন, উন্নয়নের নামে যারা সরকারি সম্পদ লুট করেছে, তারা কালো তালিকাভুক্ত হয়েছে। এ অঞ্চলের উন্নয়নবঞ্চিত মানুষ আগামীতে নৌকার কাণ্ডারি হিসেবে লুটপাটকারীদের দেখতে চান না। শামীম আহমদ চৌধুরী গত নির্বাচনে দলের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। তিনি আগামী নির্বাচনেও দলের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। বর্তমানে তিনি দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময় করছেন।
দোয়ারাবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ফরিদ আহমদ তারেক বলেন, দোয়ারাবাজার উপজেলাবাসী নিজেদের এলাকার নেতাকেই এমপি দেখতে চান। এ কারণেই তিনি দলের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন।
যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতা আইয়ুব করম আলীও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইবেন। দলের মনোনয়ন না পেলে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। তিনি বলেন, ভোটাররা এমপি মনোনয়নে নতুন মুখের প্রত্যাশী। তিনি এলাকার সার্বিক উন্নয়নের জন্য আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে চাইছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক নেতা মাওলানা আখতার আহমদও আওয়ামী লীগের মনোনয়নের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
বিএনপির তিন নেতা দলের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। এ ক্ষেত্রে এই আসনে তিনবারের এমপি ও দলের জেলা সভাপতি কলিম উদ্দিন মিলন কিছুটা এগিয়ে রয়েছেন। তবে মনোনয়নের দৌড়ে তার শক্ত প্রতিপক্ষ হবেন ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও ছাতক উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরী মিজান।
দীর্ঘদিন ধরেই ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলা বিএনপিতে মতবিরোধ চলছে। এ কারণে এই দুই উপজেলায় কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি। অবশ্য অভ্যন্তরীণ কোন্দলের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন দলের কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন। তিনি জানান, দলে কোনো কোন্দল নেই। আর দ্রুতই দুই উপজেলার কমিটি গঠন করা হবে। তার অভিযোগ, সরকার উন্নয়নের নামে ভাগবাটোয়ারা নিয়ে ব্যস্ত। এ আসনের অধিকাংশ রাস্তাঘাট বেহাল হয়ে আছে। এলাকার মানুষ এখন ক্ষুব্ধ। মিলন দলের মনোনয়ন চাইবেন।
মিজানুর রহমান চৌধুরী মিজান বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল পর্যায়ে গণসংযোগ ও দলকে সুসংগঠিত করছেন। শেষতক তিনিই দলের মনোনয়ন পাবেন বলে আশা করছেন।
শিল্পপতি ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ মুনসেফ আলী দলীয় মনোনয়নের প্রত্যাশায় কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখছেন।
জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন পার্টির প্রবীণ নেতা আ ন ম ওহিদ কনা মিয়া ও পার্টির দোয়ারাবাজার উপজেলা সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম। পার্টি চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের নির্দেশেই গণসংযোগ শুরু করেছেন বলে দাবি করেছেন জাহাঙ্গীর আলম।
খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা শফিক উদ্দিন ২০ দলীয় জোটের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। তিনি ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে ইসালামী ঐক্যজোটের প্রার্থী ছিলেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এদিকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের মনোনয়ন না পেলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামী আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ দলের কয়েকজন নেতা জানান, ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলায় তাদের শক্ত অবস্থান রয়েছে।
Sharing is caring!
………………………..
Design and developed by best-bd