সিলেট ৫ই এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ৬ই শাওয়াল, ১৪৪৬ হিজরি
প্রকাশিত: ১১:৩৯ অপরাহ্ণ, মে ২৫, ২০১৮
ডেস্ক রিপোর্ট :: সিলেট সদর ভূমি অফিসে জনভোগান্তি চরমে হয়ে উঠেছে। অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীদের একটি সিন্ডিকেটের হাতে অফিস জিম্মি হয়ে পড়ায় এ জনভোগান্তি। এসিল্যান্ডের ঘনঘন পদায়ন পদোন্নতি,ছুটি ও বদলী জনিত কারণেই গড়ে ওঠে কায়েমী স্বার্থবাদী এ সিন্ডিকেট। ফলে মামলা-সহ বিভিন্ন কাজে কর্তা-ব্যক্তিদের দ্বারে দ্বাওে ভোক্তভোগীদের ঘুরতে হচ্ছে বছরের পর।
অনুসন্ধ্যানে জানা গেছে, সিলেট সদর উপজেলা ভ’মি অফিসের প্রধান দায়িত্বশীল কর্তা-ব্যক্তি সহকারী কমিশনার (ভ’মি)-এর কোন স্থিতিশীলতা নেই। এ পদে বছরে বদলী ও পদায়ন হোন গড়ে ৩জন। পদায়নের তিনমাস যেতে না যেতেই পদোন্নতি ও বদলীর ডাকে সাড়া দিতে হয় তাকে। ফলে আগত এসিল্যান্ড-কে এ স্বল্প সময়ে কাজ বুঝে নিতে ও দায়িত্ব পালন করতে সম্পূর্ন নির্ভরশীল হতে হয় অধঃস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের। আর এ সুযোগে দীর্ঘ মেয়াদে ঘাপটি মেরে থাকা একশ্রেণীর কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা গড়ে তুলেছেন একটি ঘুষখোর সিন্ডিকেট। তাদের কেউ কেউ নিজেই এসিল্যান্ড’র ভ’মিকায় অবতীর্ন হয়ে যথেচ্ছভাবে পরিচালনা করছেন সিলেট সদর ভ’মি অফিস।
সিলেট সদর ভ’মি অফিসে বর্তমান সময়ে কোন এসিল্যান্ড নেই। এক মহিলা সহকারী কমিশনার দায়িত্ব গ্রহণের পরই আজ থেকে ২মাস পূর্বে ৬মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি নিয়ে অবকাশে চলে গেছেন। পরিবর্তে ভারপ্রাপ্ত হয়ে দক্ষিণ সুরমার এসিল্যান্ড সপ্তাহে দুদিন এখানে এসে দায়িত্ব পালন করে থাকেন। তাই নামজারী ও বিবিধ মোকদ্দমা-সহ নিয়মিত কাজে সাধারণ লোকের ভোগান্তির কোন শেষ নেই।
্এসিল্যন্ডের ঘন-ঘন বদলী, পদায়ন ও অনুপস্থিতির সুযোগ গ্রহণ করে সিলেটে সদর ভ’মি অফিসের কানুনগো নূরুল ইসলামের নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে একটি অসাধু ঘুষখোর সিন্ডিকেট। সরকারী দায়িত্বে ৩বছর একস্থানে না থাকার নিয়ম থাকলেও কানুনগো নূরুল ইসলামের ক্ষেত্রে সে নিয়ম প্রয়োজ্য নয়। তিনি সিলেট সদর ভ’মি অফিসের এই পদ আঁকড়ে ধরে আছেন দীর্ঘ ৪ বছর ধরে। নামজারী-সহ বিবিধকাজে তিনি আইনের দোহাই দিয়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে আর্থিক ফায়দা হাসিল করে চলেছেন। সামান্য কিছুতেই আইনের মারপ্যাচ দেখিয়ে সংশ্লিষ্টদের চাপে ফেলে আদায় করে থাকেন মোটা অংকের উৎকোচ। তিনি নিজে সরাসরি কারো কাছে টাকা দাবি করেন না। কিন্তু হয়রানীর হাত থেকে রক্ষা পেতে সংশ্লিষ্টরা তাকে টাকা দিতে বাধ্য হয়ে থাকেন। তার ঘুষ সিন্ডিকেটের অন্যতম অফিস সহকারী আবুল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে এই অফিসেই দায়িত্ব পালন করছেন। মাঝখানে কিছুদিনের জন্য নামমাত্র বদলী হলেও অজ্ঞাতকারণে আবার ফিরে এসেছেন ওই অফিসে। এই আবুল হোসেনও কানুনগো নূরুল ইসলামের অন্যতম সহযোগী। সিন্ডিকেট প্রধান কানুনগো নূরুলের আরেক সহযোগী অফিস সহকারী শামীম। তিনিও দীর্ঘদিন ধরে নিয়ম বহির্ভুতভাবে ওই অফিসে রয়েছেন । জন-হয়রানীর পথ সুগমে তিনিও পাকাহস্ত। কানুগো নূরুল ইসলাম তাদের সহযোগীদের নিয়ে সিন্ডিকেট করে লুটপাট করছেন জনগনের অর্থকড়ি। রাতারাতি হয়ে গেছেন আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ। সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারের অফিস থেকেই ভ’মি অফিসের কানুনগোরা বদলী হয়ে থাকেন। কিন্তু অদুশ্য কারণেই বদলী হচ্ছে না কানুনগো নূরুল ইসলামের।
কানুনগো নূরুল ইসলাম দম্ভসহকারে বলে থাকেন, তিনি উপরের কর্তা-ব্যক্তিকে সন্তুষ্ট করেই একই পদে বছরের পর বছর বহাল রয়েছেন। মোটা অংকের টাকা দিয়ে বদলী হওয়া বা বদলী ঠেকানোর রেওয়াজ আছে সরকারী অফিসের বিভিন্ন পদে। তবে কি সিলেট সদর ভ’মি অফিসের কানুনগো নূরুল ইসলাম এই পথ অবলম্বন করেই তার বদলী আদেশ রদ করে চলেছেন,এমন প্রশ্ন সচেতন মহলের।
সিলেট সদর ভ’মি অফিসে জনহয়রানী ও ভোগান্তি দূরী করনে ভোক্তভোগীরা এসিল্যান্ডের দীর্ঘমেয়াদী পেদায়ন ও অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী সিন্ডিকেট ভেঙ্গে দিতে সরকার ও প্রশাসনের উর্দ্ধতন মহলে আশু সুদৃষ্টি ও দ্রুততর পদক্ষেপ কামনা করছেন।
Sharing is caring!
………………………..
Design and developed by best-bd