আদালতের নির্দেশ উপক্ষো করে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে ফের বাণিজ্য মেলা!

প্রকাশিত: ১০:২৭ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২২, ২০১৮

আদালতের নির্দেশ উপক্ষো করে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে  ফের বাণিজ্য মেলা!

ডেস্ক রিপোর্ট:: খেলার চেয়ে মেলার আয়োজনেই ব্যবহার হচ্ছে সিলেটের শাহী ঈদগাহে অবস্থিত শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম। মাঠটি ঘিরে দুই চেম্বার পর পর মেলা করার প্রতিযোগিতায় ত্যাক্ত বিরক্ত সিলেটের সাধারণ ব্যবসায়ীরা। উচ্চ মুনাফা লাভের আশায় আবারো বাণিজ্য মেলার আয়োজন করা হচ্ছে।

দি সিলেট চেম্বার অব কমার্স মাসব্যাপী মেলা শেষ হতে না হতেই এবার সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ড্রাস্ট্রির মেলার করার উদ্যোগ নিয়েছে। জানুয়ারিতে নগরীর শাহী ঈদগাহ শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে আবারো শুরু হচ্ছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ২০১৯। এরই মধ্যে মেলার লে-আউট প্লান প্রস্তুত করা হয়েছে।

শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম মূলত জেলা প্রশাসনের নামীয় রেকর্ডীয় ভূমি। এই ভূমি নিয়ে উচ্চ আদালতে একটি মামলা বিচারাধীন। কিন্তু সদর উপজেলা প্রশাসন বিগত ৫ বছর থেকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা এবং পশুর হাটের জন্য মাঠটি ইজারা দিয়ে আসছে। অথচ জেলা প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে একটি বেআইনী কার্যক্রমকে কেনো উৎসাহিত করা হচ্ছে- এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।

এই ভূমিটি বিগত জরিপে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে জেলা প্রশাসকের নামে এক নম্বর খতিয়ানে রেকর্ডভুক্ত হয়। অথচ সরকারের এই ভূমি অবৈধভাবে ব্যবহার করছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। গত দেড় মাস ধরে একই স্থানে চলছে সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির আয়োজনে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা-২০১৮। অতীতে এই ভূমিতে ১৭ লাখ টাকার বিনিময়ে সদর উপজেলা পরিষদ পশুর হাটের জন্য ভাড়া দেয়া হয়েছিলো। এখন মেলার জন্য তাড়া ভাড়া দিয়েছেন।
গত বছর খেলার মাঠকে মেলার স্থান হিসেবে ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে একটি রিট আবেদন করেছিলেন নগরীর শাহী ঈদগাহের বাসিন্দা মনজু জামান চৌধুরী। পরে আদালত মাঠটিকে স্থানীয় শিশু কিশোরদের জ্য খেলার মাঠ হিসেবে রাখার জন্যও নির্দেশনা প্রদান করেন।
গত বছরে ১৪ ডিসেম্বর তিনি একটি রিট আবেদনের শুনানি শেষ বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি কে.এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ রুল জারি করেন।

একটি সূত্র জানিয়েছে, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সরকারের খাস জমিতে সিলেট আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা-২০১৯ আয়োজন করেছে সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স ইন্ড্রাস্ট্রির সদস্য এবং মেলার সমন্বয়কারী এম.এ মঈন খান বাবলু।

সদর উপজেলা শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের মাঠের খোলা জায়গায় বিভিন্ন এলাকার এবং স্থানীয় শিশু-কিশোর খেলাধুলা করতো।

মেলার আয়োজকরা জানান, তারা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পেয়েছেন ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদও এ বিষয়ে অবগত রয়েছেন। তারা সবাই অনুমতি নিয়েই মেলা করবেন।

আইন অনুযায়ী খেলার মাঠে খেলা ছাড়া অন্য কোন কাজে ব্যবহার কিংবা ভাড়া দেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু এই আইন লঙ্ঘন করেই খেলার মাঠ (বর্তমান নির্মাণাধীন শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম) মেলা জন্য ভাড়া দিচ্ছেন সদর উপজেলা প্রশাসন।

খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান, উদ্যান ও প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন-২০০০ এর ৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী, খেলার মাঠ অন্য কোনোভাবে ব্যবহার বা অনুরূপ ব্যবহারের জন্য ভাড়া, ইজারা বা অন্য কোনোভাবে হস্তান্তর করা যাবেনা। এই আইন লঙ্ঘনে অনধিক পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় সাজার বিধান রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের ভূমিতে নগরীর কয়েকটি এলাকার ছেলেরা খেলাধুলা করত। এখন বাণিজ্য মেলার কারণে এই মাঠে স্থানীয় খেলোয়াড়রা খেলাধুলা করতে পারছেনা। আমার কষ্ট হয় যখন শুনি এই মাঠের পশুর হাট, বাণিজ্য মেলার আয়োজন করছে। যখন কেউ এই মাঠে পশুর হাট, বাণিজ্য মেলার জন্য মাটির উপর ইট দেওয়া, আবার মাটির মাঝে গর্ত করা হয়। আমার কাছে তখন মনে হয়- ওরা শেখ রাসেলের বুক চিরে এসবের আয়োজন করছে।

সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স ইন্ড্রাস্ট্রির সদস্য এবং মেলার সমন্বয়কারী এম.এ মঈন খান বাবলু বলেন, আমরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়েই মেলার আয়োজন করছি।

সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি হাসিন আহমদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

আগামী জানুয়ারি মাসে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট হবে দাবি করে সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ বলেন, সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ড্রাস্ট্রির উদ্যোগে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা-২০১৯ আয়োজন হচ্ছে। এ বিষয়টি আমার জানা নেই।

এই মাঠ সদর উপজেলার মাঠ কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এইমাঠ ডিসি খতিয়ানের, সদর উপজেলার মাঠ বলেই চলছে। দীর্ঘদিন থেকেই এই মাঠ নিয়ে একটি মামলা চলছে, আর এই মামলা সদর উপজেলা প্রশাসন পরিচালনা করছে।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..