৩য় শ্রেনীর ছাত্রীকে ধর্ষণ করে হত্যা! ধর্ষকের বাড়িতে উত্তেজিত জনতার আগুন

প্রকাশিত: ৮:৫৮ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৬, ২০১৯

৩য় শ্রেনীর ছাত্রীকে ধর্ষণ করে হত্যা! ধর্ষকের বাড়িতে উত্তেজিত জনতার আগুন

ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে তেতুলের প্রলোভন দেখিয়ে এক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় উত্তেজিত জনতা ধর্ষকের বাড়িঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে।

উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের গজারিয়া গ্রামে শনিবার এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ধর্ষক বাপ্পিসহ পাঁচজনকে আটক করেছে।

নিহত শিশু শিক্ষার্থী গজারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। পুলিশ শনিবার সকালে নিহতের লাশ উদ্ধার শেষে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, গজারিয়া গ্রামের ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেনের কন্যা স্কুল ছাত্রী তাওহীদা ইসলাম ইলমা(৯) কে ধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ পাশের মরা ডাকাতিয়া নদীতে পুতে রাখে।

নিহতের মা হাছিনা বেগম, পার্শ্ববর্তী বাড়ির আবুল খায়ের, ওই গ্রামের নুর মোহাম্মদ, আবদুল মতিনসহ এলাকাবাসী জানান, স্কুল ছাত্রী ইলমাকে শুক্রবার বিকেলে পাশ^বর্তী বাড়ির জাকির হোসেনের বখাটে মাঈন উদ্দিন বাপ্পি(২০) ও একই বাড়ির আবুল কালামের ছেলে মিজানুর রহমান(১৯) তেতুলের প্রলোভন দেখিয়ে বাপ্পিদের ঘরে ডেকে নিয়ে যায়।

সেখানে তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করে প্রথমে লাশ বাপ্পির ঘরের সিলিংয়ের উপর লুকিয়ে রাখে। পরে রাতে বাড়ির পার্শ্ববর্তী মরা ডাকাতিয়া নদীতে লাশটি উলঙ্গ অবস্থায় কাঁথা মুড়িয়ে পানির নিচে ডুবিয়ে রাখে।

এদিকে শুক্রবার রাত পর্যন্ত স্কুল ছাত্রী ইলমাকে খুঁজে না পেয়ে তার পরিবারের পক্ষ থেকে মাইকিং ও পাশের ডাকাতিয়া নদীতে খুঁজতে থাকে। এক পর্যায়ে শনিবার সকালে এলাকাবাসী সন্দেহভাজন হিসেবে বাপ্পিকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ডাকাতিয়া নদীর পানির নিচ থেকে লাশটি উদ্ধার করে।

উলঙ্গ লাশটির সাথে মোড়ানো কাঁথা ও মশারি ধর্ষক বাপ্পির বলে জানা যায়। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়। এক পর্যায়ে উত্তেজিত জনতা ধর্ষক বাপ্পির দুইটি ঘর, একটি খড়ের গাদা ও তার সহযোগি মিজানের দুইটি ঘর ভাংচুর করে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। খবর পেয়ে চৌদ্দগ্রাম থানার বিপুল সংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্কুল ছাত্রী ইলমার মা হাছিনা বেগম আরও জানান, ধর্ষক বাপ্পির বাড়িতে একটি তেতুল গাছ রয়েছে। ইলমা স্কুল থেকে আসা-যাওয়ার পথে প্রায় ধর্ষক বাপ্পি তাকে তেতুলের প্রলোভন দেখাতো। ঘটনার দিন শুক্রবার দুপুরে বাপ্পি স্কুল ছাত্রী ইলমাকে তেতুলের কথা বলেই তার ঘরে নিয়ে যায়।

এদিকে সৃষ্টি হিউম্যান রাইটস সোসাইটি জানান, মিজান, বাপ্পী এবং ঐ মহিলাকে এলাকাবাসী আটকিয়ে রেখে পুলিশকে ফোন দিলে পুলিশ গড়িমসি করলে বিষয়টি সৃষ্টি হিউম্যান রাইটস সোসাইটির নজরে আসে। সাথে সাথে সৃষ্টি হিউম্যান রাইটস সোসাইটি থানাতে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ফোন দিয়ে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা সহ আসামিদের পুলিশের হেফাজতে নেওয়ার ব্যবস্থা করে। বর্তমানে এই ঘটনার যাবতীয় আইনী সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছে সৃষ্টি হিউম্যান রাইটস সোসাইটি। ঘটনা তদন্তে জানা যায় ঐ মিজান এবং বাপ্পী এর আগেও খুনের এবং ধর্ষণের মামলার আসামি। সৃষ্টি হিউম্যান রাইটস সোসাইটি ঐ দর্শকদের ফাঁসির দাবি জানাচ্ছে।

শনিবার বিকেলে চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) আবদুল্লাহ আল মাহফুজ জানান, স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় মূল আসামী বাপ্পিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরও চারজনকে আটক করা হয়েছে। উত্তেজিত জনতা বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..