সিলেট ৬ই এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ৭ই শাওয়াল, ১৪৪৬ হিজরি
প্রকাশিত: ১১:১৮ অপরাহ্ণ, মে ১৬, ২০১৯
কানাইঘাট পৌরসভার মাতৃত্ব ভাতার টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলনের পর ভাতা প্রাপ্ত মহিলাদের কাছ থেকে উৎকুচ আদায়ের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ব্যাপক ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
জানা যায় কানাইঘাট পৌরসভার কয়েকটি ওয়ার্ডের মাতৃত্ব ভাতার টাকা গতকাল বৃহস্পতিবার কানাইঘাট জনতা ব্যাংক শাখা থেকে ভাতাপ্রাপ্ত মহিলারা উত্তোলন করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে প্রথমে আশিক আহমদ নামে এক ব্যবসায়ীর আইডি থেকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ক্লিপে দেখা যায় পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের মাতৃত্ব ভাতাপ্রাপ্ত মহিলাদের কাছ থেকে ওয়ার্ডের বিষ্ণুপুর গ্রামের মৃত আনিছুল হকের পুত্র ফয়েজ আহমদ ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের পর বেরিয়ে আসার সময় তাদের কাছ থেকে টাকা গ্রহন করে হাতে নিচ্ছেন। ফয়েজ আহমদ ভাতা প্রাপ্ত মহিলাদের কাছ থেকে উৎকুচের টাকা তুলে পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাহাব উদ্দিন চৌধুরীকে দেন বলে ফেইসবুক পেইজে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকে নানা ধরনের মন্তব্য করে বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও পৌরসভার মেয়র নিজাম উদ্দিনের প্রতি অনুরোধ জানান। তবে ৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাহাব উদ্দিনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমার ওয়ার্ডের মাতৃত্ব ভাতা প্রাপ্ত মহিলাদের কাছ থেকে উৎকুচের টাকা গ্রহনের কোন প্রশ্নই আসে না। ভাতাপ্রাপ্ত কোন মহিলা বলতে পারবে না আমি তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছি। মাতৃত্ব ভাতার টাকা উত্তোলনের সময় তিনি একবার ব্যাংকে গিয়ে ছিলেন কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে জড়িয়ে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। ফয়েজ আহমদ কে তিনি চিনেন সে তার ওয়ার্ডের বিষ্ণুপুর গ্রামের বাসিন্দা। আমি খোজ নিয়ে দেখেছি তার এক ভাবি ও ভাতিজি মাতৃত্ব ভাতা পান। তাদের টাকা ব্যাংক থেকে বের হওয়ার পর গুনে দেওয়ার সময় ভিডিওটি ধারন করে ফেইসবুকে প্রচার করা হয়।
এব্যাপারে ফয়েজ আহমদের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমি জনতা ব্যাংকে গিয়ে ছিলাম আমার ভাবি মিনারা বেগম ও ভাতিজি রাহমানা বেগম কে নিয়ে। তারা মাতৃত্ব ভাতার টাকা পান। সেই টাকা ব্যাংকের বাহিরে ছিড়ির সামনে গুনে দেওয়ার পর আমি কিছু টাকা তাদের কাছ থেকে নিয়ে পকেটে রাখি। কিন্তু ফয়েজ আহমদ এমন কথা বললেও ভিডিওতে দেখা যায় তিনি অনেক ভাতা প্রাপ্ত মহিলার কাছ থেকে টাকা নিচ্ছেন। ৯নং ওয়ার্ডের অনেকে জানিয়েছেন ৩/৪ শত টাকা করে ভাতা প্রাপ্ত মহিলাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ফয়েজ আহমদ কাউন্সিলর সাহাব উদ্দিন কে দেন। কিন্তু কাউন্সিলর এসব ভিত্তিহীন বলে জোর গলায় দাবী করেন। ফেইসবুকে ভিডিও ক্লিপ পোস্টকারী বিষ্ণুপুর গ্রামের ব্যবসায়ী আশিক আহমদ জানান তার নিকট আত্মীয় ভাতাভোগী মহিলা তার কাছে এসে জানান কাউন্সিলর সাহাব উদ্দিনের কথা বলে ফয়েজ আহমদ নামে এক ব্যক্তি ভাতাপ্রাপ্ত প্রত্যেকের কাছ থেকে ৩শ টাকা করে উৎকুচ নিচ্ছেন। তখন তিনি ব্যাংকের বাহিরে অবস্থান করে বিষয়টির সত্যতা দেখে ভিডিও ধারন করে সকলের দৃষ্টি আকর্ষনের জন্য নিজের ফেইসবুক আইডিতে পোষ্ট করেন। অনেকের অভিযোগ পৌরসভার কয়েকজন পুরুষ ও মহিলা কাউন্সিলর সহ বিভিন্ন ইউনিয়নের অনেক ইউপি সদস্য ও মহিলা ইউপি সদস্যা মাতৃত্ব ভাতা সহ অন্যান্য ভাতায় নাম অন্তর্ভূক্তি কালে এবং ব্যাংক থেকে ভাতার টাকা উত্তোলনের সময় তাদের মনোনীত লোকজনের মাধ্যমে ৩শত থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত উৎকুচ আদায় করে থাকেন।
Sharing is caring!
………………………..
Design and developed by best-bd