সিলেট ৫ই এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ৬ই শাওয়াল, ১৪৪৬ হিজরি
প্রকাশিত: ৯:৫৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২০, ২০১৯
নিন্দা করার লোকের অভাব নেই সমাজে। অমুক এতটা কালো, অমুকের স্বভাবে দোষ আছে কিংবা একটু বেটে নয়তো লম্বা। এমন রসালো কথার ফুলঝুরি ছোটাতে আমাদের ব্যস্ততার অন্ত নেই। আমরা ধর্মকে না মেনে অধর্মের পূজারী হয়ে উঠছি দিন দিন। ছিদ্রান্বেষণ ছাড়া যেনো আমাদের গতি নাই। ‘সূচ হয়ে ঢুকে ফাল’ হয়ে বের হওয়া স্বভাবে পরিণত হয়েছে। বিপরীতে নিজের ঢোল নিজে পেটাতে এতটাই ব্যস্ত আমরা অন্যের হাতে পড়লে ফেটে যাওয়ার ভয় পুষে রাখি হৃদয়ে। কখনোই নিজেদের দোষ চোখে পড়ে না। অথচ উচিত কাজ হলো নিজের দোষ খুঁজে বের করে সংশোধন করা। অন্যের গুণ খুঁজে তার অনুসরণ করা। মানুষ হিসেবে আমরা তখনই সফল হব, যখন অন্যের গুণগুলো নিজে ধারণ করতে পারব। অকৃপণভাবে অন্যের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হতে পারব। ছোটবেলায় বন্ধুদের সাথে বিভিন্ন এলাকার গলিতে আড্ডা দিতাম। সে সময়টা জোশ ছিল। মনে হত ‘হামছে বড়া, কোন হ্যায়’। আড্ডায় আড্ডায় কতজনের যে নিন্দা করেছি। কখনো কারো প্রশংসা করেছি বলে মনে পড়ে না। বয়স কিছুটা বাড়ার পর কখনো কোন কোন সৃজনশীল আড্ডায় বইয়ের গল্প হতো। দেশের গল্প হতো। মুক্তিযুদ্ধের গল্প হতো। কিন্তু অন্যের প্রশংসার গল্প হতো না। প্রশংসার গল্প যে হতো না, এমনটা নয়। যে গল্প কৈশোরে সকলেই করেছে, তাই হতো। তবে এখন ওই প্রশংসার বিষয় বললে অনেকে প্রকাশ্যে চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। এলাকার মাস্তান টাইপের বন্ধু থেকে শুরু করে লিপস্টিক বন্ধুও প্রশংসা করতো কোনো মেয়ে সহপাঠীর। কখনো কখনো ওই সহপাঠীর চৌদ্দপুরুষেরও গুনগান করত। এটা কৈশোরে কিংবা তারুণ্যের বাস্তবতা। কেউ বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবে না, সুন্দরী সহপাঠীনির দিকে আড়চোখে চেয়ে নিজেকে নায়ক ভাবেনি। অনেকে হয়ত তর্কের খাতিরে বলবে, আমি এমনটা করিনি। তথ্য প্রমাণ কিংবা বর্তমান ডিজিটাল যুগের স্ক্রীনসট নাই বলে পরাজয় মেনে নিতে হবে। কিন্তু যিনি এমনটা দাবি করবেন তিনি কী অতীতের সেই চোরাবালির কথা ভুলে যেতে পারবেন? যাক ‘ধান ভানতে শিবের গীত’ অনেক হলো। আমরা প্রশংসা করতে পারি না, অন্যের গুণগান গাইতে জানি না। এটা অনেকটা ভুল প্রমানিত হলো গত ১৭ আগস্ট ২০১৯ তারিখে ১ মলাটে ১২১ বন্ধুর গুণগান লিপিবদ্ধ করা সাংবাদিক ম. আনফর আলীর ‘বন্ধু-ছড়া’ পেয়ে। ৯ প্যারায় ৩৬ লাইনে সীমাবদ্ধ প্রতিটি লেখা। কোনো পক্ষপাতিত্ব নেই। সব লেখাই সমান, কোনোটা বড় কোনোটা ছোটও নয়। যাদের নিয়ে লেখা হয়েছে, তারা প্রত্যেকেই নিজ নিজ ক্ষেত্রে সফল। আর প্রত্যেকেই ‘বন্ধু-ছড়া’র লেখকের ফেসবুক বন্ধু। এ সকল লেখায় ফুটে উঠেছে, প্রত্যেকের পরিচয়, গুণের খবর। আমরা প্রকাশ্যে সমালোচনা করতে পারলেও সাংবাদিক ম. আনফর আলী ফেসবুকের ওপেন প্ল্যাটফর্মে সকলের গুণের গোপন খবর ফাঁস করে দিলেন। খুলে দিলেন সকল বন্ধ কপাট। যাদের নিয়ে লেখা হয়েছে, এ তালিকায় চোখ বুলালেই বুঝা যায় ম. আনফর আলী পরিচিত, অপরিচিত, দেখা, অদেখা বন্ধুদের খবর নিয়েছেন সন্তর্পনে। তবে খবর নিতে গিয়ে চেপে গেছেন, বন্ধুদের দোষের কথা। শুধু গুণের খবর জানিয়েছেন। পাশাপাশি লেখকের সঙ্গে বিষয়ভূক্ত ব্যক্তিদের সম্পর্ক, তাঁদের পেশা কবি-সাহিত্যিক, লেখক, সাংবাদিক, প্রাবন্ধিক, গল্পকার, ব্যবসায়ী, আইনজীবী, চেয়ারম্যান, মেম্বার, প্রবাসীদের গুণগান এক মোড়কে আবদ্ধ করেছেন। এর আগে এই লেখাগুলো ফেসবুকে নিজের টাইমলাইনেও প্রকাশ করেছেন। প্রত্যেকেই ‘রিপ্লাই’ দিয়ে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন কবিকে। আর এ রিপ্লাই বইয়ে জুড়ে দিয়ে চমক দেখিয়েছেন, সাংবাদিক ম. আনফর আলী। এতে করে দেখা যায়, কবি যেখানে গুণগান করেছেন, তার বিপরীতে নিজেদের বিনয় দেখিয়েছেন প্রায় সকলেই। নিঃস্বকবি নামে পরিচিত হওয়া ম. আনফর আলী অন্যের ঢোল পিটালেও তা ফাটিয়ে ফেলেননি। আবার প্রশংসার বিপরীতে যে বিনয় প্রদর্শণের দরকার ছিল, তাও দেখিয়েছেন কবিতার বিষয় হওয়া সকল শ্রেণির মানুষগুলো। বন্ধু-ছড়া কেমন হবে, তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন বইয়ের শুরুতে। মৌলিক ছড়া, আর ‘বন্ধু-ছড়া’র পার্থক্য তুলে ধরেছেন কবি নিজে। তিনি বলেছেন, বন্ধু-ছড়া’য় একজন ব্যক্তির পরিচিতি ছন্দে ছন্দে তুলে ধরা হয়। সকলেই জানি যে, লেখালেখি হচ্ছে শব্দের কারিগরি। বিশেষ করে ছড়া-কবিতা লিখতে মাত্রা-বৃত্তের প্রয়োজনে যে-কোনো শব্দের প্রতিশব্দ ব্যবহার করা হয়। যেমন: চাঁন, চন্দ্র। সোনা, স্বর্ণ। তিনি আরো লেখেন, ‘বন্ধু-ছড়া’য় এই সুযোগ নেই। চাঁন মিয়ার পরিবর্তে ‘চন্দ্র মিয়া’, সোনা মিয়ার পরিবর্তে ‘স্বর্ণ মিয়া’ লেখা যাবে না। তাতে ব্যক্তির নাম পরিবর্তন হয়ে যায়। তেমনি মাত্রা কমাবার জন্য সাংবাদিক-এর জায়গায় সাংবা, সাংবাদি, লেখা যাবে না; ‘সাংবাদিক-ই লিখতে হয়। এসব কারণে মৌলিক ছড়া’র সঙ্গে ‘বন্ধু-ছড়া’র মিল খুঁজে পাওয়া যাবে না। চারণকবি, স্বভাবকবি’র ন্যায় মুখে মুখে ছন্দকাটার মতো বিশেষ করে অন্তমিল রেখেই ‘বন্ধু-ছড়া’ লেখা হয়েছে। বন্ধু-ছড়ায় লেখার তারিখ অনুযায়ী সাজানো হয়েছে। কাউকে বিশেষ গুরুত্ব কিংবা কাউকেই অবহেলা করা হয় নি। তালিকায় যারা আছেন তারা হলেন, (১) শাহাদাত করিম, (২) দোলোয়ার হোসেন দিলু, (৩) শামীম আহমেদ, (৪) লিয়াকত খান, (৫) এম. এ. রব, (৬) অজিত রায় ভজন, (৭) জোসেফ জাহাঙ্গীর, (৮) আহমেদ শামীম, (৯) আব্দুল হামিদ মানিক, (১০) হোসনে আরা হেনা, (১১) মোসলেহ উদ্দিন মুসলিম, (১২) সৈয়দ মাসুম, (১৩) ওবায়দুল মুন্সী, (১৪) তারেক লিমন, (১৫) জোৎস্না খান, (১৬) অহিদ উদ্দীন, (১৭) এমডি নুরুল হক, (১৮) আহমেদ হাসান, (১৯) আব্দুল ওয়াহিদ, (২০) ইমতিয়াজ সুলতান ইমরান, (২১) মোসলেহ উদ্দিন বাবুল, (২২) দেবব্রত রায় দিপন, (২৩) আবুল কাইয়ুম, (২৪) বাউল এম হোসাইন, (২৫) ইব্রাহিম, (২৬) বেলাল হোসেন, (২৭) সৈয়দ দুলাল, (২৮) সিরাজ ইসলাম, (২৯) রাহেলা বেগম, (৩০) আব্দুল মুকিত অপি, (৩১) হাসান মতিউর রহমান, (৩২) শামীমা রিতু, (৩৩) কুতুব আফতাব, (৩৪) মোহাম্মদ বাদশা গাজী, (৩৫) সৈয়দ হিলাল সাইফ, (৩৬) শাম্মী চৌধুরী, (৩৭) ওয়াহিদ বকুল, (৩৮) প্রিন্স সদরুজ্জামান চৌধুরী, (৩৯) শরিফুল আলম, (৪০) আ.ফ.ম. সাঈদ, (৪১) রুহুল আমিন রুহেল, (৪২) শামসুল আলম সেলিম, (৪৩) মোহাম্মদ মহসীন, (৪৪) রেবিন চৌধুরী, (৪৫) মহিবুল ইসলাম ফারুক, (৪৬) শাহীন উদ্দিন, (৪৭) এম. রহমান মুহিব, (৪৮) হরিপদ চন্দ, (৪৯) এম.এস ইসলাম শিমুল, (৫০) ইব্রাহিম খলিল, (৫১) কাজী শাহেদ বিন জাফর, (৫২) নোমান আহমেদ চৌধুরী, (৫৩) সুফিয়ান আহমদ চৌধুরী, (৫৪) এমডি কুতুব উদ্দিন চৌধুরী, (৫৫) এ কে এম আব্দুল্লাহ, (৫৬) আবু সালেহ আহমদ, (৫৭) অজয় বৈদ্য অন্তর, (৫৮) এফ. হাসান লস্কর, (৫৯) জুবেদ আহমেদ, (৬০) এম. আলী হোসাইন, (৬১) সুমা জায়গীরদার, (৬২) জয়নব জোনাকি, (৬৩) সিরাজ আনোয়ার, (৬৪) দেলোয়ার হোসাইন দিলু, (৬৫) বিদ্যুৎ রঞ্জন দেবনাথ, (৬৬) আহমেদ মালিক, (৬৭) শেখ কাওসার আলী, (৬৮) মো. বোরহান উদ্দিন, (৬৯) নবীন সিদ্দেক, (৭০) নিখিল রায় পূজন, (৭১) এমদাদুল হক, (৭২) আফতাব চৌধুরী, (৭৩) সেলিম আউয়াল, (৭৪) আরিফা আশরাফ তামান্না, (৭৫) ইমাদ উদ্দিন বুলবুল, (৭৬) আজিজ আহমেদ সেলিম, (৭৭) শামীমা শিল্পী, (৭৮) সৈয়দ আবদুল মজিদ, (৭৯) পুলিন রায়, (৮০) একে শাহ, (৮১) মুহিত চৌধুরী, (৮২) রতন মজুমদার, (৮৩) এমডি নুরুল আমিন, (৮৪) মিনহাজ ফয়সল, (৮৫) শ্যামল কান্তি সোম, (৮৬) বোরহান উদ্দিন রব্বানী, (৮৭) মেহেদী কাবুল, (৮৮) জসিম মুহাম্মদ রুশনী, (৮৯) আবু সুফিয়ান চৌধুরী, (৯০) টিএ সুলেমান, (৯১) মুহাম্মাদ শহীদুল ইসলাম, (৯২) বীজহান অপু, (৯৩) কাজী হাসান আলী, (৯৪) অ্যাডভোকেট আফছর আহমেদ, (৯৫) রিয়াজ উদ্দিন ইসকা, (৯৬) আওলাদ হোসাইন, (৯৭) ফারুক আলমগীর, (৯৮) আবদুর রশিদ রেনু, (৯৯) দিপু সিদ্দিকী, (১০০) হারুনুজ্জামান চৌধুরী, (১০১) বশির আহমদ জুয়েল, (১০২) ড. জহির অচিনপুরী, (১০৩) এম কামাল মিয়া, (১০৪) নুরুল হক শিপু, (১০৫) মাহবুবুর রশিদ, (১০৬) কামাল উদ্দিন রাসেল, (১০৭) নিজাম মেম্বার, (১০৮) কে.এম আবু তাহের চৌধুরী, (১০৯) কামরুল চৌধুরী, (১১০) মো. হুমায়ুন কবির, (১১১) কাজী জসিম উদ্দিন, (১১২) বেগম নাসিমা, (১১৩) মো. ইমদাদ হোসেন, (১১৪) সাইয়্যিদ শাহীন, (১১৫) দৌলত মিজান, (১১৬) মোহাম্মদ আলী চৌধুরী, (১১৭) হাফিজ পাঠান, (১১৮) সৈয়দ আছলাম হোসেন, (১১৯) জাকারিয়া তালুকদার, (১২০) মুকতাবিস-উন-নূর। এছাড়া বইয়ে নিঃস্বকবির জীবনকথা নামে নাতিদীর্ঘ একটি লেখাও রয়েছে।
Sharing is caring!
………………………..
Design and developed by best-bd