শাহ আরফিনে বেপরোয়া জুয়েল!

প্রকাশিত: ৮:৩৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৪, ২০২০

শাহ আরফিনে বেপরোয়া জুয়েল!

কোম্পানীগঞ্জে শাহ আরফিন টিলায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন মাকসুদুল হাসান জুয়েল। মামা শ্বশুর মোহাম্মদ আলীর ইন্ধনে পাথর কোয়ারীতে হামলা, চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছেন। তার এসব কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় পাথর ব্যবসায়ী ও জনসাধারন।

জানা যায়- পাথর রাজ্যে একক আধিপত্য বিস্তারকারী বিএনপি নেতা মোহাম্মদ আলীর ভাগনির জামাই মাকসুদুল হাসান জুয়েল। তিনি উপজেলার নতুন জালিয়াড় পার গ্রামের ছোরাব মিয়ার পুত্র। সীমান্ত এলাকায় রয়্যালটির নামে চাঁদাবাজি করে আসছেন জুয়েল। প্রতিটি ট্রাক্টরের কাছ থেকে ১১’শ টাকা করে চাঁদা আদায় করেন। প্রতিদিন কমপক্ষে ১ হাজার পাথর বোঝাই গাড়ি যাতায়াত করে। এভাবে প্রতিদিন ১১ লাখ টাকার মতো চাঁদা আদায় করছে জুয়েল।
তার নেপথ্যে রয়েছেন বিএনপি নেতা মোহাম্মদ আলী। তার ইন্ধনেই শাহ আরফিন টিলায় জুয়েলের বাহিনী গড়ে উঠেছে। চাঁদা তুলে প্রতিদিন বাহিনীর কাছে ভাগ বাটোয়ারা করে নেওয়া হয়। তার এই বাহিনীর হামলা, মামলা ও নির্যাতনের ভয়ে স্থানীয় পাথর ব্যবসায়ীরা তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে পারছেন না।

কোম্পানীগঞ্জের কাঠালবাড়ি গ্রামের মোহাম্মদ আলী শাহ আরফিন টিলা ধবংশ করেন পাথর উত্তোলন করে। এই টিলা ধ্বংসের দায়ে তার বিরুদ্ধে আড়াইশ’ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ মামলা করে পরিবেশ অধিদপ্তর। তবে ক্ষতিপূরণের এ টাকা আদায়ে কোনো উদ্যোগই নেওয়া হয়নি। শুধু মোহাম্মদ আলী নন- তার বাবা জিয়াদ আলীও পুলিশ, বিজিবিসহ বিভিন্ন মহলের সঙ্গে যোগসাজশে অবৈধভাবে বিভিন্ন স্থান থেকে পাথর তোলেন। পাথররাজ্যের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে গত কয়েক বছরে কোটি কোটি টাকা ছাড়াও একাধিক বাড়ি, স্টোন ক্রাশার মেশিন, ফেলুডার, ভলগেট নৌকা ও এক্সক্যাভেটরসহ ৮-১০টি গাড়ির মালিক হয়েছেন মোহাম্মদ আলী।

পাথররাজ্যে বিভিন্ন সময় অরাজকতা, সন্ত্রাস, হত্যা, পরিবেশ ধ্বংস, পাথর লুট ও অভিযানের সময় হামলা চালানোর দায়ে ডজনখানেক মামলা হয়েছে আলীর বিরুদ্ধে। সর্বশেষ ২৬ মার্চ আরেফিন টিলায় পাথরবাহী ট্রাক্টর থেকে চাঁদা আদায়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের ওপর হামলা ও ভাংচুর মামলার আসামি হন আলী। এসআই খায়রুল বাশার বাদী হয়ে এ মামলা করেন। ২০০৯ সালে মোহাম্মদ আলী ও তার ভাই আক্কাস আলী মিলে ভোলাগঞ্জ কোয়ারীতে তেলিখাল ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান কাজী আলফু মিয়ার ছোট ভাই জলফু মিয়াকে নির্মমভাবে হত্যা করেন। যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। গত ১৮ ফেব্র“য়ারি আরেফিন টিলায় বোমা মেশিন উদ্ধার ও পাথর চুরির অভিযোগে মোহাম্মদ আলীসহ ৪০ জনের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা [নং ১৬ (২) ১৯] হয়। নামে এক ব্যক্তিকে এছাড়া জনস্বার্থমূলক মামলায় (নং ৫৮৭৩/২০০৯) তার বিরুদ্ধে রুল জারি করে আরেফিন টিলা কাটার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন উচ্চ আদালত, যা এখনও বলবৎ রয়েছে।

মোহাম্মদ আলীর পাথর রাজ্য পরিচালনা করছেন মাকসুদুল হাসান জুয়েল। অপরাধের নরক রাজ্যে ফ্রন্ট লাইনে মোহাম্মদ আলী আসলেও জুয়েল থেকে আড়ালে। আড়ালে থেকেই পাথর রাজ্য সামলে নিচ্ছে জুয়েল ও তার বাহিনী।

গেল বছরের ১১ জুলাই রাতে শাহ আরেফিন টিলা ধ্বংসের আরেক হোতা, ২০ মামলার আসামি জালিয়ার পাড়ের বশর মিয়াকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করে র‌্যাব-৯। অথচ ৮-১০টি মামলার আসামি হওয়ার পরও মোহাম্মদ আলী ও তার ভাগনির জামাই জুয়েল এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..