সুনামগঞ্জের হাওরে বাঁধ নির্মাণ শুরু হয়নি, দুশ্চিন্তায় কৃষকরা

প্রকাশিত: ২:৪৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৯, ২০২০

সুনামগঞ্জের হাওরে বাঁধ নির্মাণ শুরু হয়নি, দুশ্চিন্তায় কৃষকরা

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :: সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় নীতিমালা অনুযায়ী পিআইসি গঠনের সময় পেরিয়ে গেলেও হাওরের পিআইসি গঠন হয়নি। একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পিআইসির নামের তালিকা গোপনে অর্থের বিনিময়ে পরিবর্তন করার জন্যেই এখনও পর্যন্ত তাহিরপুর উপজেলার হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ শুরু হয় নি আর কমিটির নামের তালিকা প্রকাশ করেছেন না সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এমন অভিযোগ উঠেছে এখন কৃষকসহ সর্বস্থরের জনসাধারনের মাঝে।

জানাযায়,তাহিরপুর উপজেলায় সর্বসম্মতিক্রমে উপজেলা মনিটরিং কমিটির উপদেষ্ঠা সুনামগঞ্জ-১আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন,তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুনা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল,উপজেলা মনিটরিং কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সদস্য সচিবসহ মনিটরিং কমিটির সকল সদস্যদের উপস্থিতিতে গত ২৬ডিসেম্ভর ইউএনওর কার্যালয়ে ৭০টি পিআইসি কমিটি চুড়ান্ত করা হয়েছে তাহলে কেন কমিটির নামের তালিকা আজও প্রকাশ করা হচ্ছে না। আলোচিত বিভিন্ন সংঘটনের নামে পদধারীরা তেলবাজি আর তদবির করে চেয়ারম্যানদের যোগসাযোসে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সর্বসম্মতিক্রমে দেওয়া নামের তালিকার বাহিরে অনেক কেই নতুন করে পিআইসি কমিটির সভাপতি বানানো চেষ্টা করছে। এদিকে কমিটি গঠন করা ৩৬ডিসেম্ভর শেষ হয়েছে স্বীকারও করে সদস্য সচিব ও তাহিরপুর উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারি প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান,রবিবার(৮ই,জানুয়ারি)তাহিরপুর উপজেলার ৭০টি পিআইসি কমিটি করা হয়েছে। এখনও নামের তালিকা প্রকাশ বা ঘোষনা করা হয় নি। কারন হিসাবে তিনি জানান,আমি এখানে নতুন এসেছি অনেক কেই আমি চিনি না। এখনও যাচাই বাচাই চলছে ইউএনও স্যারের কাছে সকল কাগজ আছে।

আরো জানাযায়,হাওর এলাকায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ক্ষতিগ্রস্থ বাঁধ মেরামত,নদী ও খাল পুনঃ খননের জন্য স্কীম প্রস্তুত ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংশোধিত কাবিটা নীতিমালা অনুযায়ী পিআইসি গঠন প্রক্রিয়া আবশ্যিকভাবে ৩০নভেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করে পিআইসি কমিটি গুলো ১৫ই ডিসেম্ভরের মধ্যে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ শুরু করে ২৮ফেব্রæয়ারির মধ্যে কাজ সমাপ্ত করার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু ১মাসের বেশী সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত তাহিরপুর উপজেলায় ৮জানুয়ারী পর্যন্ত হাওরের ফসলরক্ষা দুটি বাঁধের কাজ শুরু হয়েছে। অন্যান্য কমিটি নাম প্রকাশ করছে না সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অদৃশ্য কারনে। ফলে বাঁধের কাজ শুরু হচ্ছে না। আর কে বাঁধের কাজ পেল তা জানতে বার বার পিআইসি হতে আবেদনকারীরা তাহিরপুর উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারি প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান কাছে গেলে জানাচ্ছেন না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পিআইসি তালিকার থাকা একাধিক ব্যাক্তি জানিয়েছেন,উপজেলা ৭০টি পিআইসির মধ্যে প্রায় ৩০টিই দক্ষিন শ্রীপুর ইউনিয়নে। এখানে আলোচিত বিভিন্ন সংঘটনের নামে পদধারীরা তেলবাজি আর তদবির করে চেয়ারম্যানের যোগসাযোসে সর্বসম্মতিক্রমে দেওয়া নামের তালিকার বাহিরে অনেক কেই নতুন করে পিআইসি কমিটির সভাপতি বানানো চেষ্টা করছে। আর অন্যান্য ইউনিয়নেও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সংঘবদ্ধ একটি চক্র। সেজন্যই পিআইসি তালিকা প্রকাশ করতে তালবাহানা শুরু হয়েছে। তারা আরো জানায়,সর্বসম্মতিক্রমে এমপি মহোদয়ের দেওয়া তালিকা অর্থের বিনিময়ে পরিবর্তন করার জন্যই পিআইসি তালিকা প্রকাশ করতে তালবাহানা শুরু হয়েছে। না হলে কেন এত দেরী হচ্ছে। দেরী হলে বাঁধ তৈরীতে দেরী হবে ক্ষতি হলে কৃষকের হবে তাদের ত লাভ হবে।

দ্রæত বাঁধের কাজ শুরু করার দাবী জানিয়েছেন উপজেলার শফিকুল,মাজিদুলসহ শনি,মাটিয়ান ও মহালিয়া হাওরসহ সবকটি হাওর পাড়ের কৃষকগন। তারা বাঁধ নিমার্ন শুরু না হওয়ায় এক ফসলী বোরো জমি রোপন ও বৈশাখ মাসে ধান কাটা নিয়ে সর্বস্থরের জনসাধারণের মাঝে চরম খুব বিরাজ করছে। আর উৎবেগ আর উৎকণ্ঠার সময় পার করছে পাহাড়ী ঢলের চিন্তায়।

এ বিষয়ে মনিটরিং কমিটির উপদেষ্ঠা সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেন,মনিটরিং কমিটির সকলের উপস্থিতিতে সর্বসম্মতিক্রমে পিআইসির তালিকা চুড়ান্ত করা হয়েছে। যদি অর্থের বিনিময়ে নতুন করে কাউকে পিআইসি করা হয় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেয়া হবে।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..