সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :: শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস,মহান বিজয় দিবসে শহীদদের প্রতি সম্মান জানাতে নির্মাণ করা হয়েছিল শহীদ মিনার। কিন্তু সংস্কার করার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হলেও রয়ে গেছে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের পকেটেই। ফলে দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক শহীদ মিনার তৈরির করা দুরের কথা সংস্কারেই করা হয় নি।
এই অবস্থায় শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে সংস্কার বিহীন শহীদ মিনারেই পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছেন শিক্ষক,ছাত্র-ছাত্রী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও এলাকার বিশিষ্টজনেরা ক্ষোবের সাথে জানান স্থানীয় এলাকাবাসী।
বলছিলাম সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের বাদাঘাট পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের কথা। বিদ্যালয়টি ১৯৬৫সালে নির্মানের পর স্কুলটির সম্মুখে তিনস্তম্ভের দৃষ্টনন্দন একটি শহীদ মিনারের নির্মান করা হয়। নির্মানের পর শহীদ মিনারের তিনস্তম্ভের মাথায় জাতীয় পতাকার রংয়ে বৃত্তাকার লাল-সবুজ দিয়ে তৈরি করা হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন থেকে শহীদ মিনারের মূল বেদী, অবকাঠামো ও স্তম্ভ তিনটির জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে।
এলাকার বিশিষ্টজনেরা জানান,প্রতিবছরই দিবসকেন্দ্রীক বিশিষ্টজনের উপস্থিতিতে শহীদ মিনার সংস্কারে আশ্বাস দেয়া হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। শহীদ মিনারের জন্য সংস্কারের জন্য সাবেক চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন ১লাখ টাকা বরাদ্দ দিলেও টাকার সংকট দেখিয়ে বরাদ্দ বাতিল করে দেয়া হয়। যার ফলে শহীদ মিনার সংস্কারের কাজ হয় নি।
২১ শে ফ্রেরুয়ারীর দিনে প্রতক্ষদর্শীরা জানান,স্কুলের শহীদমিনার তিনটি স্তম্ভের মাঝখানে জাতীয় পতাকার আদলে লাল-সবুজ বৃত্ত। তিন স্তম্ভের মাঝে লাগানো স্টিলের রেলিং খুলে নেয়া হয়েছে। আরেকটিতে এই স্টিলের রেলিংয়ের অংশ বেরিয়ে পড়েছে। মূল বেদীর মধ্যখানে ফাটল দেখা দিয়েছে। এছাড়া সিঁড়িতেও রয়েছে একাধিক ফাটল। আর মূলবেদীর পাশে পিলার থাকলেও সেগুলো কোন কাজে লাগছেনা ভেঙে পড়েছে।
শহীদ মিনারে ফুল দিতে আসা স্থানীয় এলাকাবাসী ও সচেতন মহল ক্ষোবের সাথে জানান,বহু পুরুনো এই দ্যালয়টির শহিদমিনারটি ও পুরুনো। সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ আর রুগ্নদশাই বিরাজ করছে এখন। এছাড়াও গরু ছাগল মুল বেদিতে উঠে মল ত্যাগ করে। যেন কারো কোন দায় নেই। শুধু আশ্বাস আর ধুয়ে মুছে কাজ চালানোর মাঝেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। শহিদদের শ্রদ্ধার এই স্থান এভাবে পড়ে থাকা খুবেই দুঃখজনক। তবুও জরাজীর্ণ এই শহিদমিনার সংস্কারের উদ্যোগ নিতে পারছে না।
শহীদ মিনারটির সংস্কার জন্য অনেকের ধারে ধারে গিয়েছেন কিন্তু এই কাজের জন্য কারো সারা পান নি বলে জানান,বাদাঘাট পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম ধানু। তিনি আরও বলেন,জরুরি ভিত্তিত্বে শহীদ মিনারটি সংস্কার করা প্রয়োজন। তার জন্য আমি সংশ্লিষ্টদের নিকট শহিদমিনারটির সংস্কারের জন্য বরাদ্দ অনুমোদন করানোর চেষ্টা করছি।
বাদাঘাট পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী,সমাজ সেবক ও বাদাঘাট বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাসুক মিয়া বলেন,প্রাচীন এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একটি দৃষ্টি নন্দন ও আকর্শনীয় একটি শহীদ মিনারটির নির্মাণ করা প্রয়োজন। কারন জরাজীর্ণ শহীদ মিনার এই ইউনিয়নের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী,শিক্ষক,বিভিন্ন রাজনৈতিক এবং বিভিন্ন সংগঠন,সাংস্কৃতিক দলের নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন দিবসে পুষ্পস্থবক অর্পন করেন। আশা করি সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ গুরুত্ব সহকারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবেন।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নিজাম উদ্দিন বলেন,আমি চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে ১লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছিলাম শহীদ মিনারটির সংস্কারের জন্য। পরবর্তীতে বর্তমান চেয়ারম্যান এসে এবরাদ্দ বাতিল করে দেন। আমি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে স্থানীয় সাংসদের নিকট শহীদ মিনারটির সংস্কারের মাধ্যমে আধুনিকায়ন করার জন্য আবেদন জানাব। বরাদ্দের টাকা সংস্কার করলে এত জরাজীর্ণ দেখাত না।
বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদের সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ আফতাব উদ্দিন বলেন,জয়নাল আবেদীন বালিকা বিদ্যালয়ে প্রায় ৩লাখ টাকা ব্যয়ে একটি শহীদ মিনার নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। টাকা অপ্রতুল হবার কারণে বাদাঘাট পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের শহীদ মিনার সংস্কার কাজ শুরু করা যায়নি। যে বরাদ্দ আছে তা বাতিল করা হয়নি। পর্যাপ্ত বরাদ্দ নিয়েই বাদাঘাট পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণেও একটি দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিকায়ন শহীদ মিনার তৈরির লক্ষ্যে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলব।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিজেন ব্যানার্জি বলেন,বিষয়টি খোঁজ নিয়ে শহীদ মিনারটির যুগোপযোগী সংস্কারের জন্য খুব দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
Sharing is caring!