নুসরাত হত্যা : ডেথ রেফারেন্স শুনানিতে হাইকোর্টে বেঞ্চ গঠন

প্রকাশিত: ৮:১০ অপরাহ্ণ, মার্চ ২, ২০২০

নুসরাত হত্যা : ডেথ রেফারেন্স শুনানিতে হাইকোর্টে বেঞ্চ গঠন

ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যা ঘটনায় ১৬ আসামির মৃত্যুদণ্ডের সাজা সম্বলিত মামলা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির জন্য হাইকোর্টের বেঞ্চ গঠন করেছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। মামলাটি বিচারপতি সৌমেন্দ্র সরকার ও বিচারপতি শাহেদ নূরউদ্দিনের হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানির জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র মোহাম্মদ সাইফুর রহমান আজ সোমবার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এরই মধ্যে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নির্দেশে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এ মামলায় পেপারবুক প্রস্তুত করা হয়েছে। পেপারবুক ছাপানো সম্পন্ন হওয়ার পর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় পৌছে দেওয়া হয়েছে সরকারি ছাপাখানা বিজি প্রেস থেকে। এ অবস্থায় নিয়ম অনুযায়ী এখন ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিল শুনানির জন্য প্রধান বিচারপতি বেঞ্চ নির্ধারণ করে দিয়েছেন।

ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ গতবছর ২৪ অক্টোবর এক রায়ে নুসরাত হত্যা মামলায় ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। ফৌজদারি কার্যবিধির (সিআরপিসি) ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী ফাঁসির রায় অনুমোদনের জন্য ফেনীর আদালত থেকে ডেথ রেফারেন্স হিসেবে রায়টি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। নিম্ন আদালতের রায়ের কপি (যা ডেথ রেফারেন্স হিসেবে পরিচিত)সহ যাবতীয় নথি গতবছর ২৯ অক্টোবর হাইকোর্টে পৌঁছার পর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পেপারবুক তৈরির কাজে হাত দেয় সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। প্রয়োজনীয় কাজ শেষে পেপারবুক ছাপানোর জন্য সরকারি ছাপা খানায় (বিজি প্রেস) পাঠানো হয়। নিম্ন আদালত থেকে হাইকোর্টে রায়ের কপি পৌঁছার তিন মাসের মধ্যেই পেপারবুক প্রস্তুত হওয়ায় একটি নজীর স্থাপিত হয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

যৌন নির্যাতনের অভিযোগে গতবছর ২৭ মার্চ একই মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে মামলা করেন নুসরাতের মা শিরিন আক্তার। মাদরাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারে রাজি না হওয়ায় গতবছর ৬ এপ্রিল পরীক্ষার হল থেকে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয় মুখোশধারী ও বোরকা পরা দুর্বৃত্তরা। অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় প্রথমে নুসরাতকে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। কিন্তু তার অবস্থা মারাত্মক হওয়ায় তাকে ফেনী সদর হাসপাতালে ও পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুসরাত গতবছর ১০ এপ্রিল বুধবার রাতে মারা যায়।

এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তদন্ত শেষে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) গতবছর ২৯ মে ১৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। এরপর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল বিচার শেষে ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় দেন।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..