সিলেট ৪ঠা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ৫ই শাওয়াল, ১৪৪৬ হিজরি
প্রকাশিত: ৭:১৩ অপরাহ্ণ, মার্চ ৪, ২০২০
ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : সিলেট সদর উপজেলার সাহেবের বাজার হাই স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ দেবেন্দ্র কুমার সিংহের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম উল্লেখ করে সিলেট জেলা প্রশাসক বরাবরে অভিযোগ দাখিল করেছেন অত্র বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য। ২ মার্চ রোববার সিলেট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে ৯২ জন অভিভাবক সদস্য স্বাক্ষরে এই অভিযোগ দাখিল করেন তারা। যার ডকেট নং ৩১, তারিখ, ০২/০৩/২০২০।
অভিযোগে তারা উল্লেখ করেন, দেবেন্দ্র কুমার সিংহের ক্ষমতার দাপট ও অনিয়ম বেপরোয়া জীবন যাপন কলেজ কতৃপক্ষের নজরে আসে। তারপর পরিচালনা পরিষদ তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে, তদন্তে একের পর এক বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ঘটনাটির জন্য গঠন করা হয় তদন্ত কমিটি। তদন্ত কমিটির রির্পোট এ উঠে আসে কয়েক লক্ষ টাকার আর্থিক লেনদেনের গড়মিল, সহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ। পরে বেশ কয়েকটি সভা করে দেবেন্দ্র কুমার সিংহ থাকাকালীন সময়ে তার বিরুদ্ধে ৮ টি অভিযোগের কথা উল্লেখ করে যথা ক্রমে প্রথম নোটিশ ২৬/০১/১৮ ইং, দ্বিতীয় নোটিশ ১৮/০৪/১৮ ইং ও তৃতীয় নোটিশ ০৩/১০/১৮ ইং তারিখে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়। পরে কলেজ কর্তৃপক্ষের পাঠানো নোটিশ দেবেন্দ্র কুমার সিংহ হাতে পেয়ে ভিন্ন ভিন্ন তারিখে জবাব দেন তিনি। কতৃপক্ষের নিকট দেবেন্দ্র কুমার সিংহের পাঠানো নেটিশের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় তাকে দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ২৭ তারিখের ৬নং সভায় কলেজর গভর্ণিং বডির চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত মোতাবেক তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়।
অভিযোগে প্রকাশ করা হয়, তখন তার বিরুদ্ধে ৮টি আনিত অভিযোগ তদন্ত করতে গঠন করা হয় একটি তদন্ত কমিটি। এসময় প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরিন অডিট রির্পোটে উঠে আসে অসংখ্য অনিয়মের বিষয়। কলেজ কতৃপক্ষ তদন্ত করে ২০১৬ হতে ২০১৮ বর্ষে শিক্ষার্থীদের ভর্তি ও সনদপত্র সংক্রান্ত ২ লাখ ৪৯ হাজার টাকার কোনো হিসাব নেই। এছাড়াও গভর্নিং বডিকে না জানিয়ে তিনি প্রায় সাত লক্ষ টাকা বেতন মওকুফ হিসেবে দেখিয়েছেন। যা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত ও অনিয়ম। পাওয়া যায় সর্বমোট ১৫ লক্ষ ২০ হাজার ৮ শত ৭৫ টাকার আর্থিক লেনদেনে বিশাল গড়মিল। এছাড়াও অধ্যক্ষ দেবেন্দ্র কুমার সিংহের বিরুদ্ধে আনিত দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করতে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশে একটি তদন্তকমিটি গঠিত হয়। এই কমিটিতে ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার্ড আ.ফ.ম মিফতাহুল হক মাসুদ, আম্বরখানা স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ সৈয়দ মুহাদ্দিস আহমদ ও কালারুকা মডেল হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক আহমদ আলী। তদন্ত শেষে তারা প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন সাবেক কমিটির কাছে। সেখানেও উঠে আসে ব্যাপক অনিয়মে ১২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকার বিশাল গড়মিল। চুড়ান্ত রিপোর্টে দেবেন্দ্র কুমার সিংহের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমান পাওয়া যায়।
এব্যাপারে গত ৪ ফেব্র“য়ারি নতুন কমিটির কয়েকজন সদস্যকে মেনেজ করে আবারো স্বপদে বহাল থাকায় এলাকায় ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। যে কোন মুহুর্তে ঘটতে পারে অনাকাঙ্খিত ঘটনা। তাই দেবেন্দ্র কুমার সিংহকে দায়িত্ব থেকে অপসারণ করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার আহ্বান জানান তারা। -বিজ্ঞপ্তি
Sharing is caring!
………………………..
Design and developed by best-bd