শ্লীলতাহানি: ওসিসহ ১০ পুলিশ কর্মকর্তার মামলা তদন্তে পিবিআই

প্রকাশিত: ৭:২২ অপরাহ্ণ, মার্চ ৪, ২০২০

শ্লীলতাহানি: ওসিসহ ১০ পুলিশ কর্মকর্তার মামলা তদন্তে পিবিআই

ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : শ্লীলতাহানির অভিযোগে দক্ষিণখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) ১০ পুলিশ কর্মকর্তা ও সৎ মায়ের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (০৪ মার্চ) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫ এর বিচারক সামসুন্নাহার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। ৪৩ বছর বয়সী এক নারী মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার আসামিরা হলেন- দক্ষিণখান থানার ওসি শিকদার মো. শামীম হোসেন, এসআই আবদুল কাদির, আরিফ হোসেন, এএসআই মো. আ. রুপ, নুরুল ইসলাম, কনস্টেবল মনিরুল ইসলাম, জয়েন উদ্দিন, মো. তৌফিক, রুনা আক্তার ও ইয়াসমিন আক্তার এবং সৎ মা মার্জিয়া আক্তার (পুতুল)।

বাদীপক্ষের আইনজীবী ইমরুল হাসান এ তথ্য জানান।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ‘বাদীর সঙ্গে তার সৎ মায়ের ছেলে ইকবাল হোসেনের (স্বজল) জমি-জমা নিয়ে মামলা-মোকাদ্দমা চলছে। সম্প্রতি আদালত মার্জিয়া আক্তারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। বিষয়টি জানতে পেরে মার্জিয়া বাদী ও তার পরিবারকে উচ্ছেদের জন্য ফ্ল্যাটে ছুটে যান।’

‘ওসি শিকদার মো. শামীম হোসেন মামলা সম্পর্কে অবগত থাকা অবস্থায় মার্জিয়ার কাছ থেকে উৎকোচ গ্রহণ করে বাদীর বাসায় দরজা ভেঙ্গে প্রবেশ করেন। ওসি বাদীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। বাদীর পোশাক খুলে বিবস্ত্র করে বুকে, পেটে, স্পর্শকাতর অংশে লাঞ্চিত করেন।’

‘এসআই আবদুল কাদির বাদীকে নির্যাতন করেন। ওসি সেখানে উপস্থিত এক সাক্ষীকেও শ্লীলতাহানি করেন। বাদী এবং সাক্ষীকে তখনই বের হয়ে যেতে বলেন ওসি। বের না হলে তাদের গণধর্ষণের হুমকি দেন।’

এসময় বাদীর ১১ বছরের কন্যা চিৎকার করলে ওসি ৩ নং সাক্ষীর গালে জোরে থাপ্পড় মেরে রক্তাক্ত করেন। বাদীর স্বামী ও ২ নং সাক্ষীর স্বামী মোবাইলে ভিডিও ধারণ করতে থাকা অবস্থায় ওসির নির্দেশে অন‌্য পুলিশ সদস্যরা তাদের মোবাইল কেড়ে নেন এবং তাদের মারধর করেন।’

‘পরে পুলিশ তাদের ভ্যানে উঠিয়ে তাদের দিকে বন্দুক তাক করে রাখে। এ সময় সব আসামি দুই সাক্ষীকে বিবস্ত্র অবস্থায় টানাহেঁচড়া করে বাসার নিচতলায় নামিয়ে মেইন গেটে তালা দিয়ে বাদী ও অপর সাক্ষীদের বাসা থেকে উচ্ছেদ করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। যাওয়ার সময় হুমকি দেন বেশি বাড়াবাড়ি করলে ওই দুইজনকে ক্রসফায়ারে দেবে।’

পরে ওসি মার্জিয়াকে দিয়ে বাদী ও সাক্ষীদের বিরুদ্ধে দক্ষিণখান থানায় মামলা দায়ের করেন।

Sharing is caring!

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..