সিলেট ৩রা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা শাওয়াল, ১৪৪৬ হিজরি
প্রকাশিত: ৫:৫২ অপরাহ্ণ, মার্চ ৫, ২০২০
ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : ‘আমার সঙ্গে তাঁর (পাপিয়া) কখনো দেখাই হয়নি। কিন্তু তদন্তে তো আপনার নাম আসছে। কি বলেন, সত্য নয়। মানসম্মানটা রাইখেন। আমি অনৈতিক কাজে জড়িত নই।’ অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে যুব মহিলা লীগ থেকে বহিষ্কৃত শামীমা নূর পাপিয়ার সঙ্গী ছিলেন বা ছিলেন না—এমন শতাধিক প্রভাবশালী লোক ভীত হয়ে এভাবেই গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ফোন করে ‘আত্মপক্ষ সমর্থন’ করছেন। তাঁদের মধ্যে রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী, সচিব পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজন রয়েছেন জানিয়ে সরকারের একটি বিশেষ সংস্থার এক কর্মকর্তা বলেন, পাপিয়ার ঘনিষ্ঠ দুর্নীতিবাজ, অবৈধ অর্থের মালিকরা এখন রীতিমতো দৌড়াদৌড়ি করছেন। খোঁজ রাখছেন এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তের দিকেও।
গতকাল বুধবার সংশ্লিষ্ট একাধিক গোয়েন্দা সূত্রও এমন অনেক তথ্য দিয়ে জানিয়েছে, পাপিয়ার অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সরকারের সব গোয়েন্দা সংস্থা নজর রাখছে। তদন্তে যাদের নাম আসবে তাদের বিষয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হবে। সেই তালিকা অনুযায়ী আরো অনেক প্রভাবশালী লোকজনকে পর্যায়ক্রমে গ্রেপ্তার করা হবে। যেভাবে একসময় ক্যাসিনোকাণ্ডে জড়িতরা গ্রেপ্তার হয়েছিল।
এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, প্রতিদিনই কোনো না কোনো গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে ফোন করছেন গুলশানের ওই অভিজাত হোটেলে নিয়মিত যাতায়াত ছিল এমন অনেক প্রভাবশালী লোকজন। এর সঙ্গে না জড়াতে তাঁদের অনেকেই অনুরোধও করছেন।
জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি মিডিয়া) সোহেল রানা বলেন, ‘ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চলছে। এই অপকর্মের সঙ্গে যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাচ্ছে তাদেরকেও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।’
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পাপিয়ার মোবাইল ফোনে অনেক নম্বর পাওয়া গেছে, যারা বরাবরই বিতর্কিত। তাদের মোবাইল ফোনের কললিস্ট ও কথোপকথনের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ ছাড়া পাপিয়ার মোবাইল ফোনে যেসব ভিডিও পাওয়া গেছে সেগুলো পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।
পাপিয়াকাণ্ডে গুলশানের ওই পাঁচতারা হোটেলের তিন কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে খোঁজ নিতে ওই হোটেলে গেলে কেউ কথা বলতে রাজি হননি।
তদন্তসংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক কর্মকর্তা বলেন, হোটেল থেকে তিনজনকে চাকরিচ্যুত করার তথ্য পেয়ে যাচাই-বাছাই চলছে।
র্যাবের তদন্তে উঠে এসেছে, হোটেলটির পরিচালনা পরিষদের শীর্ষ ব্যক্তিরা পাপিয়ার অপকর্মের কথা জেনেও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কখনোই জানাননি। এটাও একটি অপরাধ। তাই এই অভিজাত হোটেলকেও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। পাপিয়ার বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্তভার আনুষ্ঠানিকভাবে পেতে এরই মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছে র্যাব। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত মামলা তদন্তের দায়িত্ব র্যাব পায়নি বলে কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন র্যাব-১-এর পরিচালক শাফী উল্লাহ বুলবুল।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাপিয়ার বিরুদ্ধে করা তিনটি মামলা তদন্তের ভার পেতে র্যাব যে আবেদন করেছে, তা গত রবিবার পুলিশ সদর দপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গেছে।
দেশ ছেড়ে পালানোর সময় গত ২২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পাপিয়া ও তাঁর স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে মতি সুমন এবং তাঁদের দুই সহযোগী সাব্বির খন্দকার ও শেখ তৈয়বাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-১। তাঁদের বিরুদ্ধে রাজধানীর শেরেবাংলানগর ও বিমানবন্দর থানায় পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলায় পাপিয়া ও সুমনের ১৫ দিনের রিমান্ড এবং বাকি দুজনের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সেই মামলায় ডিবিতে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত আছে।
Sharing is caring!
………………………..
Design and developed by best-bd