সিলেট ৩রা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা শাওয়াল, ১৪৪৬ হিজরি
প্রকাশিত: ৭:৩৪ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৩, ২০২০
স্টাফ রিপোর্টার :: করোনাভাইরস আতঙ্কে ফাঁকা হয়ে আছে সিলেট নগরী। রাস্তার পাশে টং দোকানে দাঁড়িয়ে চা খেতে খেতে আড্ডায় মেতে ওঠা মানুষ খুব একটা নেই। করোনাভাইরাসের আতঙ্কে সময়ে সময়ে নীরব হয়ে ওঠছে সিলেট নগরী।
সোমবার পর্যন্ত নগরী অনেকটা ফাঁকা হয়ে আছে। চৌহাট্টা পয়েন্টেও ছিলো না চিরচেনা ট্র্যাফিক সিগনাল কিংবা চৌহাট্টা-আম্বরখানাগামী গাড়ির দীর্ঘ যানজট। এমনকি উন্নয়নকাজে ‘ছোট হয়ে আসা’ কোন সড়কেও ছিলো না যানজট। সব মিলিয়ে এ যেন এক অপরিচিত সিলেট নগরী।
চীনের উহান থেকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস বাংলাদেশে হানা দেয়ার সাথে সাথে সারা দেশে জনসমাগম রোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বেশ কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। সময়ে সময়ে দেশে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে করোনা মোকাবেলায় কঠোর হয় প্রশাসন। এমনকি জনসমাগম রোধে বিয়ে, ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানসহ সামাজিক ঐতিহ্য রক্ষাকারী সকল অনুষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা দেয় সরকার। বন্ধ করে দেয়া হয় দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তারপরও ছিল জনগণের খামখেয়ালিপনা। কিন্তু সম্প্রতি দেশে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ার সাথে সাথে সিলেটের জনসাধারণের মনে এর প্রভাব পড়ে।
সর্বশেষ রোববার (২২ মার্চ) ভোররাতে সিলেটে শহীদ শামসুদ্দিন (সদর) হাসপাতালে করোনা সন্দেহে ভর্তি লন্ডন ফেরত এক নারীর মৃত্যুর পর আতঙ্ক ছড়ায় নগরীতে। এ খবর রোববার গণমাধ্যমে প্রকাশের পরপর টনক নড়ে নগরবাসীর। আর যার প্রভাব পড়ে নগরে।
সোমবার নগরীর সুরমার পাড় ঘুরে দেখা যায় একদম শুনশান নীরবতা। অন্যান্য দিনের মতো চা, ফুচকা, স্ট্রীট কিংবা বাহারি খাবারের টং দোকান বসেনি। নগরীর অন্যান্য বিনোদনীয় স্থানগুলোতেও নেই টং দোকান। সবাই যেন নিজ উদ্যোগে এসব বন্ধ করে করোনা মোকাবেলায় ঘরে বসেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাইতো লোকে লোকারণ্য থাকা এসব জায়গা যেন এখন অনেকটা সুনসান নীরব। দেখে অবাক হবারই কথা। ফাঁকা জিন্দাবাজার, বন্দরবাজার, লামাবাজার, মদিনা মার্কেটসহ নগরীর সকল এলাকা। রেস্টুরেন্টগুলোতেও নেই ক্রেতাদের চীরচেনা ভিড়। তাই বলাই যায় ‘সুস্থ থাকতে, দেশের মানুষকে সুস্থ রাখতে সকলেই সচেতন এবং প্রস্তুত।’
এদিকে গতকাল সোমবার করোনাভাইরাস সন্দেহে মারা যাওয়া যুক্তরাজ্যে প্রবাসী নারীকে দুপুরে সংক্রমণ বিধি মেনে সিলেটের মানিক পীর গোরস্থানে তার দাফন করা হয়। একই সাথে বাসার সবাইকে বাধ্যতামূলক হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। গতকাল দুপুরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গিয়ে বাসার সবাইকে এ নির্দেশনা দেন।
Sharing is caring!
………………………..
Design and developed by best-bd