কানাইঘাট পৌরসভায় সরকারী বরাদ্দকৃত চাল বিতরণে অনিয়ম

প্রকাশিত: ১০:৫৭ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৮, ২০২০

কানাইঘাট পৌরসভায় সরকারী বরাদ্দকৃত চাল বিতরণে অনিয়ম
কানাইঘাট প্রতিনিধি :: সিলেটের কানাইঘাট পৌরসভায় সরকারী ভাবে বরাদ্দকৃত অনুদানের চাল বিতরণে অনিয়মের ঘটনায় পৌর কার্যালয়ে আজ বুধবার সকাল ১০টার দিকে কিছুটা উত্তেজনার সৃষ্টি হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বারিউল করিম খান ও থানা পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
পৌরসভার ২, ৫, ৬ ও ৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও পৌরসভায় চাল নিতে আসা অনেকে জানিয়েছেন, মেয়র নিজাম উদ্দিনের অনুপস্থিতিতে তারই চাচাতো ভাই ৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বিলাল আহমদ আজ বৃহস্পতিবার সকালে পৌরসভার ৭ ও ৮নং ওয়ার্ডের তালিকাভুক্ত কার্ডধারীদের মধ্যে সরকারী নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও ১০ কেজির স্থলে ৫কেজি করে চাল বিতরণ শুরু করলে সেখানে উপস্থিত হয়ে তার প্রতিবাদ করেন ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শরিফুল হক, ৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবিদুর রহমান, ৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মাসুক উদ্দিন। এ সময় চাল নিতে আসা লোকজন বলেন, আমরা সরকারী ভাবে ১০কেজি করে চাল পাব, কিন্তু আমাদেরকে ৫ কেজি করে দেয়া হচ্ছে।
এ নিয়ে পৌর কার্যালয়ে উত্তেজনার সূত্রপাত হলে খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বারিউল করিম খান, কানাইঘাট সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল করিম ও থানার ওসি (তদন্ত) আনোয়ার জাহিদ। তারা সেখানে উপস্থিত হয়ে ৫ কেজি করে চাল বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ করে দেন এবং সরকারী নির্দেশ অনুযায়ী ১০ কেজি করে চাল বিতরণের জন্য পৌর কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। একপর্যায়ে পৌর মেয়র নিজাম উদ্দিন সেখানে উপস্থিত হলে নির্বাহী কর্মকর্তা বারিউল করিম খান ও পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুল করিম তাকে বলেন, ইতিমধ্যে পৌরসভার যে ৫টি ওয়ার্ডে ৫ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে, সেই সব কার্ডধারীদের মধ্যে আরো ৫ কেজি করে চাল বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেয়ার জন্য বলেন এবং সরকারী ভাবে যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে সেভাবে অন্যান্য ওয়ার্ডে ১০কেজি করে চাল বিতরণ করতে হবে। জানা যায়, পৌরসভার জন্য ইতিমধ্যে সরকারী ভাবে দুই ধাপে ৯টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
তবে পৌর মেয়র নিজাম উদ্দিন জানিয়েছেন, সরকারী বরাদ্দকৃত চাল বিতরণে কোন ধরনের অনিয়ম করা হয়নি। পৌর পরিষদের সভা করে ৯টি ওয়ার্ডে বেশি পরিবারকে চাল দেয়ার জন্য আমরা ওয়ার্ড ভিত্তিক ১০০ জনের তালিকা করি। সেইভাবে ৫ কেজি চালের সাথে পৌর পরিষদের পক্ষ থেকে ১কেজি ডাল, ২কেজি আলু, ১কেজি পেঁয়াজ, ১টি সাবান দেয়া হয়েছে। এখন থেকে আমরা সরকারী নির্দেশনা মেনে বরাদ্দকৃত চাল বিতরণ করব। পৌরসভার ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য একটি মহল নানা ধরনের মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।
অপরদিকে পৌর কাউন্সিলর শরিফুল হক ও মাসুক আহমদ বলেন, পৌর পরিষদের কোন ধরনের কাউন্সিলরদের নিয়ে সভা না করে মেয়র নিজাম উদ্দিন একক ভাবে ৯টি ওয়ার্ডে ৫ কেজি করে চাল বিতরণের যে সিন্ধান্ত নেন তা কাউন্সিলরা জানেন না। অধিকাংশ ওয়ার্ডে কাউন্সিলদের পাশ কাটিয়ে মেয়র তার কিছু লোকজনের মাধ্যমে কার্ডধারীদের তালিকা তৈরি করে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে চাল বিতরণ করছেন। এতে করে অনেক প্রকৃত দরিদ্র-অসহায় পরিবার চাল পাচ্ছেন না। আমরা তার প্রতিবাদ করেছি এবং ১০ কেজি করে চাল বিতরণের জন্য প্রশাসনের স্মরনাপন্ন হলে তারা সেখানে উপস্থিত হয়ে চাল বিতরণ সাময়িক বন্ধ করে ১০ কেজি করে চাল বিতরণের নির্দেশ দিয়েছেন। উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম বলেন, পৌরসভার মেয়র নিজাম উদ্দিন যা ইচ্ছা তাই করে যাচ্ছেন।
তিনি সরকারী বিধি বিধান সব-সময় লঙ্গন করে একক ভাবে পৌর পরিষদ চালাচ্ছেন। সরকারী খাদ্য সামগ্রী মেয়র নিজের অনুদান হিসেবে চালাচ্ছেন। যেখানে ১০ কেজি করে চাল দেবার কথা সেখানে ৫ কেজি করে দিচ্ছে। অনেক ওয়ার্ডে কাউন্সিলরদের চাল না দিয়ে মেয়র নিজস্ব লোক দিয়ে বিতরণ করাচ্ছেন। আমরা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ চাল বিতরণে অনিয়মের বিষয়টি প্রশাসনকে জানিয়েছি। তারা যদি ব্যবস্থা না নেয় আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসকের কাছে অনিয়মের বিষয়টি তুলে ধরবেন।
নির্বাহী কর্মকর্তা বারিউল করিম খান বলেন, পৌরসভা কার্যালয়ে সরকারী বরাদ্দকৃত চাল বিতরণ নিয়ে ঝামেলা হলে, সেখানে আমি সহ পুলিশ উপস্থিত হয়ে ১০কেজির পরিবর্তে ৫ কেজি চাল বিতরণের বিষয়টি প্রত্যক্ষ করি। তাৎক্ষণিক চাল বিতরণ বন্ধ করে দেই এবং সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী ১০কেজি করে চাল প্রতিটি ওয়ার্ডে বিতরণের জন্য নির্দেশনা দিয়েছি। তবে মেয়র নিজাম উদ্দিন বলেন, স্বজনপ্রীতির কোন আশ্রয় না নিয়ে সুষ্ঠুভাবে প্রতিটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলরদের মাধ্যমে চাল বিতরণ করা হচ্ছে।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..