ছাতকে বোরো ধান পাকা: শ্রমিক সঙ্কট, চিন্তিত কৃষক

প্রকাশিত: ১১:৫৪ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১০, ২০২০

ছাতকে বোরো ধান পাকা: শ্রমিক সঙ্কট, চিন্তিত কৃষক

ছাতক সংবাদদাতা :: সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলা জুড়ে বোরো জমিতে সোনালী ধান। চার দিকে পাকা ধানের মৌ মৌ গন্ধ। ফসল ঘরে তোলার অপেক্ষার প্রহর গুনছেন কৃষক। কিন্তু করোনা ভাইরাসে শ্রমিক সঙ্কটের কারণে পাকা ধান কাটা নিয়ে চিন্তিত কৃষক পরিবার।

শনিবার (১১ই এপ্রিল) উপজেলা বিভিন্ন হাওরে ঘুরে দেখা গেছে ক্ষেতে ধান পাকা শুরু হয়েছে কিন্তু বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে কৃষক-শ্রমিকসহ সবাই ঘরমুখো। ফসল ঘরে তুলতে দেখা দিয়েছে শ্রমিক সঙ্কট।

দক্ষিণ খুরমা ইউপির জাতুয়া গ্রামের জমির অালী নামের এক কৃষক জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর বোরো ধানের ফলন ভালো হয়েছে। মাত্র কয়েকদিন পরই পুরোপুরি ধান কাটা শুরু হবে। ৫শ টাকা দৈনিক শ্রমমূল্যেও মিলছে না ধান কাটার শ্রমিক। ফসল ভালো হওয়াতে কৃষকরা খুশি। সে খুশি যেন আর স্থায়ী হতে পারছে না। মোবারক অালী নামের আরেক কৃষক জানান, তিনি ব্যাংক থেকে লোন উঠিয়ে এ বার প্রায় ৩শ’ ৮০ শতক বোর ধান আবাদ করেছিলেন। সময় মত ধান ঘরে না তুলতে পারলে আর্থিক ক্ষতিতে পড়তে হবে তাকে। ব্যাংক লোন পরিশোধ করতেও সমস্যা হবে বলে অাশঙ্কা করছেন।

ছাতক উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. গোলাম কবির তাঁর ফেসবুকে লিখেছেন, ১৪হাজার হেক্টর জমিতে ধান রয়েছে। এগুলো প্রায় এক লক্ষ বিঘা জমির সমান। হিসাব করে তিনি বের করেন, প্রায় ২ লক্ষ শ্রমিক ১ দিন অথবা প্রতিদিন ১০হাজার শ্রমিককে ২০ দিন ধান কাটার কাজ করলে ধান কাটা সুন্দরভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। তিনি সতর্ক করে অারো লিখেছেন, বর্তমান সময়ে কোনভাবেই জেলার বাহিরের কাউকে শ্রমিক হিসাবে কাজে লাগানো যাবে না। এতে করোনা সংক্রমণ অনেকাংশেই হ্রাস হবে। এ বিষয়ে তিনি উপজেলার সকল ইউপি চেয়ারম্যানদের প্রতি অাহবান করে বলেন, প্রত্যেকের ইউনিয়নের সকল ভ্যান চালক, ইজিবাইক চালক, সিএনজি অটো রিকশা চালক ও রিকশা চালক অথবা অন্য যে কোন ধরনের স্থানীয় শ্রমিকদের অাসন্ন ধান কাটার কাজে সম্পৃক্ত করে মাইকিং করার জন্য বলা হয়।

হাওরে শ্রমিকদের থাকার জন্য প্রয়োজনে ত্রানের তাবু লিখিত ভাবে দেয়া যেতে পারে। উপসহকারি কৃষি অফিসার এলাকাভিত্তিক ধানকাটা শ্রমিকদের বিষয়ে সমন্বয় করবেন। যেসব এলাকায় ধানকাটার মেশিন Combined Harvestor /Reaper ব্যবহার করা যাবে সেসব এলাকায় মেশিনগুলো যথাযথভাবে ব্যবহার করুন। প্রয়োজনে অন্য এলাকার হতে এনে কাজে লাগাতে পারেন। মাঠে নিয়োজিত শ্রমিকদের জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যা দেখাদিলে অতি দ্রুত তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিতে হবে অথবা চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে। ধানকাটার সরঞ্জাম, কাচি, পলিথিন, প্লাস্টিকের, ত্রিপলের, কামারের দোকান খোলা থাকবে।

যেহেতু পাহাড়ি ঢল বা অতিবৃষ্টি ফলে হাওরের ফসল ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা আছে, সেহেতু দ্রুত ধানকাটার বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।

এদিকে শ্রমিক সঙ্কটের কারণে দক্ষিণ খুরমা ইউপির জল্লার হাওরে সাংবাদিক হাসান আহমদের নেতৃত্বে একদল যুবকদের নিয়ে হাওরে সেচ্ছাশ্রমে ধান কাটা শুরু হয়েছে।

বিশ্বব্যাপী প্রাণঘাতিকরোনা ভাইরাসের কারণে গরিব কৃষকরা পাচ্ছেন না শ্রমিক। জমিতে পাকা ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় তিনি কয়েকজন যুবকদের নিয়ে সেচ্ছায় অসহায় গরিবদের পাশে দাড়িয়েছেন।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..