আকাশে কালো মেঘের গর্জনে সুনামগঞ্জ হাওরে আতঙ্ক

প্রকাশিত: ১:৪৩ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২০, ২০২০

আকাশে কালো মেঘের গর্জনে সুনামগঞ্জ হাওরে আতঙ্ক

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :: বৈশাখ মাষের শুরু এই ভাল এই মন্দ। ক্ষনিকের মধ্যেই রুপ বদলায় আবহাওয়া বদলায় আকাশ। যে বৈশাখ মাসকে গিড়ে হাওরপাড়ের কৃষকগন সোনালী ফসল ঘোলায় তুলার লালিত স্বপ্ন নিয়ে বিভোর থাকার কথা সেখানে এখন কষ্টের ফলানো বোরো ধানের স্বপ্ন ভেঙ্গে দিয়ে দুস্বপ্নে পরিনত হবার উপক্রম হয়েছে। মেঘে ডাকা আকাশে,কালো মেঘের গর্জন,বজ্রপাত আর কাল বৈশাখী ঝড়ের আর্তংকে উঠে কৃষকের বুক। এবার আরো যোগ হয়েছে মরণ ব্যাধি করোনা ভাইরাস।
প্রতি বছরেই একের পর এক দূর্যোগ হানা দেয় সুনামগঞ্জ জেলায়। প্রকৃতির বৈরী আচরনে হাওর রক্ষাবাঁধ ভাঙ্গা,কালবৈশাখী ঝড়,বজ্রপাতে নিহত,পাকা ধান কাটার শ্রমিক না পাওয়া সব মিলিয়ে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় সুনামগঞ্জের ১১টি উপজেলার হাওরাঞ্চলে কৃষক,নারী,পুরুষ,শিশু ও বৃদ্ধসহ সর্বস্তরের জনসাধারন মাঝে।
এবারও এই আত্নংক নিয়েই হাওরে কষ্টের ফলানো বোরো ধান কাটতে শুরু করেছে কৃষকগন। রয়েছে ধান কাটার শ্রমিক সংকট। ফলে দিন-রাত করোনা ভাইরাসে নিজের ও পরিবারের জীবন রক্ষায় করোনা ভাইরাসের আত্নংকের মাঝে ঝড়ের সাথে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে দিন-রাত্রি যাপন করছে কৃষকগন নিজ বাড়িতেই। প্রতি বছরের মত এবারও হাওরপাড়ের অসহায় মানুষের মাঝে সারাক্ষনেই এখনও হাওর রক্ষা বাঁধ ভাঙ্গা,কালবৈশাখী ঝড়,বজ্রপাতের কারনে আত্নংক বিরাজ করছে। হাওরে প্রকৃতির এই বিরুপ নির্মমতা হতবাক হাওরবাসী।
জানা যায়, সুনামগঞ্জ জেলার ১১টি উপজেলার বিভিন্ন হাওরে বাঁধে নির্মানে কৃষকদের দাবি বাঁধে নিন্মমানের কাজ হয়েছে। এসব কিছুর আড়াল থেকে নেতৃত্ব দেন স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিরা। সেই সুযোগ কাজে লাগান পাউবোর কর্মকর্তারাও। রাজনৈতিক ফাঁয়দায় তাদেরও থাকে নিজস্ব সিন্ডিকেট। তবে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এই বিষয়ে ছিল তৎপর।
জেলায় গত ২০১৬ ও ২০১৭সালে হাওর রক্ষা বাঁেধে পুকুর চুরি করায় এক ফসলী বোরো ধান অকাল বন্যায় ৯০শতাংশ পানিতে তলিয়ে যায়। দুটি বছর কৃষকদের অপরিনীয় ক্ষতির হয়। হাওর ছেড়ে শহর মুখি হয় জীবন জীবিকার সন্ধ্যানে মিলকলখানায় হাজার হাজার মানুষ। সেই সব মানুষ গুলো করোনার কারনে এবার আসছে ফিরে ফলে আত্নংকে আছে হাওরবাসী।
সচেতন মহল জানান,মহামারী করোনা ভাইরাস ঘরবন্ধী করে রেখেছে হাওরবাসীকে। ফলে হাওরাঞ্চলে এখন শ্রমিক সংকট প্রকট আকার ধারন করছে। কাল বৈশাখী ঝড় হাওর পাড়ের বসবাসকারী অসহায় মানুষের ঘরের টিন,গাছ-পালা,মাটি ও ছনের তৈরী ঘর ও ফসলী জমি গুলোতে শিলা বৃষ্টি ও কাল বৈশাখী ঝড়ের আঘাতে ছিন্নভিন্ন হচ্ছে।
এ অবস্থা শুধু সুনামগঞ্জ নয় হবিগঞ্জ,মৌলভী বাজার,নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ জেলায় হাওরাঞ্চলে একেই অবস্থা বিরাজ করছে বলে জানাযায়।
জেলার শনির হাওর পাড়ের কৃষক সাদেক আলীসহ হাওরপাড়ের কৃষকগন বলেন,এবার হাওরেই বোরো ধানের ফলন ভাল হলেও করোনা ভাইরাসের কারনে শ্রমিক সংকট আর আবহাওয়ার বৈরী আচরনে আমাদের আবারও চিন্তার মধ্যে আছি। বর্তমান করোনা ভাইরাস আর বজ্রপাতের ভয়ে শ্রমিকরা ধান কাটতে হাওরে যেতে চায় না। আর যে কিছু শ্রমিক পাই তারা আবার মুজুরী বেশী দাবী করছে। আকাশে মেঘের পরে বৃষ্টি আত্নংকে থাকি পাহাড়ী ঢলে বাঁধ ভাঙ্গার ভয়ে। কারন এবারও বাঁেধ ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে।

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুনা সিন্দু চৌধুরী বাবুল জানান,এই উপজেলায় প্রকৃতির বৈরী আচরনে হাওর পাড়ে শ্রমিক সংকট বাড়িয়ে দিচ্ছে। আরো বাড়িয়েছে করোনা ভাইরাস। তার পরও কৃষকগন নিজেদের মত করে পরিবারে লোকজন নিয়েই পাকা বোরো ধান কেটে শেষ করার চেষ্টা শুরু করেছে। বজ্রপাত প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া খুবেই প্রয়োজন। ধান পেকে গেলে। কেটে ফেলার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে কৃষকদের।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ সফর উদ্দিন বলেন,হাওরের ধান কাটতে শ্রমিক ও কৃষককে প্রতিদিনই উৎসাহিত করছি। চলতি বোরো মৌসুমে জেলায় এবার সুনামগঞ্জে ২লাখ ১৯হাজার ৪৫০হেক্টর জমিতে হাইব্রিড,উফশি ও স্থানীয় জাতের বোরো ধান আবাদ করা হয়েছে। এতে ১৪লাখ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হওয়ার কথা,যার বাজার মূল্য হবে প্রায় চার হাজার কোটি টাকা। আশা করি সকল সংকট মোকাবেলা করে সুন্দর ভাবেই এবার কৃষকরা তাদের কষ্টের ফলানো ধান গোলায় তুলতে পারবে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সবিবুর রহমান বলেন,চলতি বছর পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে সুনামগঞ্জে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে ৬৪০কিলোমিটার ফসল রক্ষাবাঁধ নির্মাণ করেছে। আমরা সবোর্চ্ছ চেষ্টা করছি হাওরের বাঁধ রক্ষায়। প্রতিটি বাঁধ নজর দারীতে রেখেছি।

সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেন,করোনাভাইরাস আমাদের স্বাভাবিক জীবন পরিচালনা আরো কঠিন হয়েছে। আমাদের খাদ্য উদ্ধুত্ত জেলার হাওরে এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু শ্রমিক সংকট কৃষকদের চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। এই অবস্থায় কৃষকদের সাহস ও শ্রমিকদের উৎসাহ দিতে হাওরে নেমে সংহতি প্রকাশ করেছি। হাওরের ধান তোলতে পারলে আমাদের কোন অভাব থাকবেনা।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..