সিলেট ৪ঠা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ৫ই শাওয়াল, ১৪৪৬ হিজরি
প্রকাশিত: ৫:৩৫ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৪, ২০২০
নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে বিরোধের জেরে আব্দুল মালিক ওরফে মানিক মিয়া নামের এক বৃদ্ধকে নির্যাতন করেছে ও হত্যার হুমকি দিয়েছে প্রতিপক্ষ। তিনি উপজেলার শ্রীবহর কোনার গ্রামের মৃত ইসাদ আলীর পূত্র।
বৃদ্ধ আব্দুল মালিক ও তার স্ত্রী বর্তমানে প্রাণ নাশের আশংকায় ভীত। জীবনের নিরাপত্তা ও নির্যাতনের বিচার চেয়ে গত ২৯ মার্চ গোলাপগঞ্জ থানায় (৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩০৭/৫০৬/১১৪/৩৪) ধারায় মামলা দায়ের করেছেন। যার নং-২১।
মামলার অভিযোগ পত্র থেকে জানা গেছে, বাদী আব্দুল মালিকের সাথে একই গ্রামের (শ্রীবহর কোনারচর) সিরাজ উদ্দিন, তার দুই পূত্র সাদেক আহমদ ও সাহিদ আহমদ একই বাড়ির লোক। প্রতিপক্ষের সাথে আব্দুল মালিকের দেওয়ানী মামলা চলছে। তাদের উভয়ের বাড়িতে বিদ্যু্ৎ সংযোগ রয়ে্ছে।
জানা গেছে, সিরাজ উদ্দিন ও তার দুই পুত্র তাদের বাড়িতে নতুন করে বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে চাইলে আব্দুল মালিক সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ-১ ও গোলাপগঞ্জ জোনাল অফিসে অভিযোগ দিয়ে দাবী জানান, নিরপেক্ষ জায়গা দিয়ে বিদ্যুৎ লাইন টানার জন্য, যাতে কারো কোন ক্ষতি না হয়।
আব্দুল মালিকের অভিযোগের প্রেক্ষিতে, পল্লী বিদ্যুতের লোকজন সরেজমিন তদন্ত পূর্বক নতুন বিদ্যুৎ লাইন না টানাতে নির্দেশ দিয়ে যান। কিন্তু সিরাজ উদ্দিন এবং তার দুই পূত্র সাদেক আহমদ ও সাহিদ আহমদ নিষেধাজ্ঞা না শুনে গত ২৭ মার্চ সকালে জোর পূর্বক নিজস্ব ইলেকট্রিশিয়ান দিয়ে নতুন বিদ্যুৎ লাইন টানতে পায়তারা করেন। এসময় আব্দুল মালিক পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিসের সাথে যোগাযোগ করে জানতে পারেন ইলেকট্রিশিয়ান পল্লী বিদ্যুতের লোক নন। এসময় প্রতিপক্ষের লোকজন দা, শাবলসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আব্দুল মালিকের উপর হামলা চালায়। তাকে দা দিয়ে কোপ দেয়। এসময় তার স্ত্রী আলতারুন্নেছা তাকে বাচাতে আসলে হামলাকারীরা তাকেও এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি দিয়ে ফুলাজখম করে।
পরে আব্দুল মালিক ও তার স্ত্রী সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নেন। আব্দুল মালিক জানান, তিনি ও তার স্ত্রী বাড়িতে একা থাকেন। তার সন্তানরা সবাই প্রবাসী। প্রতিপক্ষ তাকে অস্ত্র-সস্ত্র দেখিয়ে হুমকি দিয়ে বলেছে, মামলা মোকাদ্দমা করছে তাকে খুন করবে। তাই তিনি প্রাণ নাশের ভয়ে আছেন।
আব্দুল মালিক আরো জানান, মামলা দায়ের করার পর দীর্ঘ তিন সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও কোন আসামী এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং তাকে হুমকি ধামকি দিচ্ছে।
ঘটনার সত্যতা ও অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে গোলাপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমানের সাথে মুটোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সংযোগ পাওয়া সম্ভব হয়নি।
Sharing is caring!
………………………..
Design and developed by best-bd