সিলেট ৩রা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা শাওয়াল, ১৪৪৬ হিজরি
প্রকাশিত: ৯:০৬ অপরাহ্ণ, জুন ১৫, ২০২০
ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুজ্জামানের বিরুদ্ধে এসএসসি পরীক্ষার্থী ধর্ষণের ঘটনায় মামলা না নেয়ার অভিযোগ করেছে ধর্ষিতার স্বজনরা। আজ দুপুরে নেত্রকোনা জেলা প্রেসক্লাবে কেন্দুয়া উপজেলার পাড়াতলী গ্রামের ধর্ষিতার ভাই কামরুল ইসলাম আনুষ্ঠানিক সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে এই অভিযোগ তুলে ধরেন থানার ওসির বিরুদ্ধে। এ সময় নেত্রকোনা জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।
ভিকটিমের ভাই কামরুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারী উপজেলার শান্তনগর সোহরাব মাস্টারের বাড়িতে আমার বোনকে একই উপজেলার ছিলিমপুর গ্রামের প্রভাবশালী মুকুল খানের ছেলে প্রিন্স খান বাবু ধর্ষণ করে। এ সময় খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ধষক প্রিন্স বাবু ও ধর্ষিত আমার বোনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পরে ঘটনার পর দিন ৩০ জানুয়ারী আমি ধর্ষকের বিরুদ্ধে আমার বোনকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষনের অভিযোগ এনে থানায় মামলা করতে চাইলে ঘটনাটি ওসি সাহেব প্রথমে পজেটিভ ভাবে গ্রহণ করলেও পরে অজ্ঞাত কারণে আমাকে থানার একটি কক্ষে ১৪ ঘটনা আটকে রাখোর পর আমাকে ওসি সাহেব হুমকি দিয়ে, বলেন এ বিষয়ে মামলা করলে আমাকে ও আমার বোনকে মিথ্যা মামলা দিয়ে কোর্টে চালান করে দিবেন।
এছাড়াও ওসি সাহেক আমাকে শাসিয়ে আরো বলেন, আমার বোন নাকি খারাপ প্রকৃতির মেয়ে। সে নাকি পতিতার ব্যবসা করে। পরে আমার ও আমার কিশোরী বোনের কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে থানা থেকে বের করে দেন।
পরে ধর্ষিতার ভাই কামরুল ইসলাম বিষয়টি নেত্রকোনা পুলিশ সুপারকে অবহিত করলে,পুলিশ সুপার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি সাহেবকে মামলা নেয়ার নির্দেশ দেন। কামরুল আরো জানান, পরে এসপি স্যারের কথায় ওসি সাহেব আমাকে ও আমার বোনকে ফোন করে থানায় মামলা নেয়ার কথা বলে থানায় নিয়ে যান। পরে আমার বোনকে থানার একটি আলাদা কক্ষে দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখেন। তখন তিনি হুমকি দেন তোর কতো বড় সাহস,আমার বিরুদ্ধে এসপির কাছে অভিযোগ করিস। পরে আমাকে ও আমার বোনকে ৪৮ ঘন্টা থানায় আটকে রাখার পর পৃথক দুটি সাদা কাগজে আমাদের ইচ্ছের বিরুদ্ধে স্বাক্ষর রেখে বলেন তোরা এখন যা মামলা নেয়া হবে।
কিন্তু ঘটনার ৬ মাস পেরিয়ে গেলেও অভিযোগটি মামলা আকারে অন্তভূক্ত করেননি। দেশে করোনা পরিস্থিতির কারণে আমরা আদালতের মামলা দায়ের করতে পারিনি। ধর্ষক এলাকার প্রভাবশালী ব্যাক্তির ছেলে হওয়া তার ভয়ে আমরা ৬ মাস যাবৎ আতংকে দিনাতি পাত করছি পলাতক হিসেবে।
সংবাদ সম্মেলনে তার বোনের পক্ষে কামরুল জানান, আমার বোন আমাকে জানিয়েছে ওসি রাশেদুজ্জামান তাকে খারাপ ভাষায় গালিদেয়ায়, আমার বোন ওসি সাহেব কে বলে, স্যার আমি আপনার মেয়ের মতোতারপরও তিনি আমার বোনকে বেশ্যা বলে আখ্যায়িত করে। কামরুল আরো জানান, প্রিন্স এলাকার প্রভাবশালী হওয়া বিষয়টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছেন ওসি সাহেব। তাই তিনি এই ঘটনার সুষ্ট তদন্ত ও ওসি সাহেবের এমন আচরনের বিচার প্রাথর্না করে পুলিশ মাহা-পরির্দশক (আইজিপি) বরাবরে গত ১০ জুন একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
ধর্ষেণের শিকার ঔ কিশোরী জানান, আমার মতো এমন ধষর্ণের শিকার যেন কেউ না হয়। আমি এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। আর আমাকে কেন ওসি স্যার এমন বাজে কথা বললো, আমার অভিযোগ কেন নিল না তার বিচার চাই।
এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাশেদুজ্জামানকে একাধিকবার তার সরকারী মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলেও তিনি ফোন ধরেননি। নেত্রকোনা পুলিশ সুপার আকবর আলী মুন্সি জানান, সংবাদ সম্মেলনের খবরটি শুনেছি, যেহেতু বিষয়টি অনেকদিন পূর্বের তাই খোঁজ খবর নিয়ে তার পর পরর্বর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
Sharing is caring!
………………………..
Design and developed by best-bd