সিলেট ৩রা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা শাওয়াল, ১৪৪৬ হিজরি
প্রকাশিত: ১০:২৩ অপরাহ্ণ, জুন ২১, ২০২০
বাবর হোসেন :: মামলার নাম পুলিশ এ্যাশল্ট মামলা,প্রাথমিক তথ্য বিবরনীতে আসামীর নাম ঠিকানার কলামে কারো নাম উল্লেখ নেই। লেখা রয়েছে অজ্ঞাতনামা ১৫০০/১৭০০ জন। মামলার বাদী দক্ষিন সুরমা পুলিশ ফাঁড়ীর এস আই নুরে আলম সিদ্দিক। ঘটনাস্থল কদমতলীস্থ এনা বাস কাউন্টারের সামনে,মামলা নং ২(৬)২০ ধারা ১৪৭।১৪৮।১৮৬।৩৩২।৩৫৩।৪২৭।১১৪ পেনাল কোড।
মামলাটি রেকর্ড করেছেনে এসএমপির দক্ষিন সুরমা থানার অফিসার ইনচার্জ ইন্সপেক্টর খায়রুল ফজল। তদন্তের ভার দেয়া হয়েছে ফাঁড়ীর ইনচার্জ সাব ইন্সপেক্টর ফায়াজ উদ্দিন ফয়েজ কে। ঘটনার তারিখ ২জুন বিকাল ৩টা৪৫ মিনিট ও সন্দ্ধা ৬ টা। এ্যাশল্ট পুলিশের সংখ্যা একজন কনেষ্টবল নং ৩৪৩ আব্দুল খালেক। ঢিল পড়েছিলো তাঁর উপর। মামলার ঘটনার সময় কোনো গ্রেফতার ছিলোনা, মামলা রেকর্ডের ১৯ দিন অতিবাহিত হতে চলেছে ১৫/১৭শত আসামীর মধ্যে একজনও গ্রেফতার নেই। সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের শ্রমিকদের কল্যান ফান্ডের টাকার হিসাব সক্রান্ত বিষয় নিয়ে দুইদল শ্রমিকের সংঘর্ষের ফসল হলো উক্ত পুলিশ এ্যাশল্ট মামলা।
মামলার মুল এজাহার গর্ভে দুই পক্ষের নেতৃত্ব দানকারী হিসেবে ফলিক মিয়া ও ময়নুল ইসলাম নামে দুজনের নাম উল্লেখ রয়েছে।
এজাহারের নীচের দিকেও উল্লেখ রয়েছে `উপস্থিত বিবাদীদের হুকুমে’ উপস্থিত বিবাদী হিসেবে যদি নেতৃত্ব দানকারী দুজনকে বু্ঝানো হয়,তবে এফ আই আর এ আসামী হিসেবে উক্ত দুজনের নাম উল্লেখ না করার কারন কি থাকতে পারে? ঘটনার দিনের প্রত্যেক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন,সেদিন শ্রমিক নয় এমন লোকজন ও উভয় পক্ষে দাঙ্গায় জড়িত ছিলো।ফলিক মিয়ার পক্ষে ভার্থখলা ঝালোপাড়া ও চাঁদনীঘাটের অশ্রমিক লোকজন যেমন ছিলো, ময়নুল ইসলামের পক্ষেও তেতলি এবং আহমদ পুরের অশ্রমিক লোকজন ছিলো বলে প্রত্যেক্ষদর্শরা জানিয়েছেন।
আলোচিত পুলিশ এ্যাশল্ট মামলাটি নিয়ে কথা বলার সময় দক্ষিন সুরমা থানার ওসি খায়রুল ফজল নিজেই বলেছেন,মামলাটির চার্জশীট দেবার কোনো সম্ভাবনা নেই,এফ আর টি হবে।
মামলাটি নিয়ে অপরাধ বিশেষজ্ঞদের অভিমত হলো, মামলাটি দায়ের ও রুজু করা হয়েছে এক পক্ষের স্বার্থ রক্ষার জন্য, সাধারন শ্রমিকরা যাতে কল্যান ফান্ডের টাকা নিয়ে আর আন্দোলন করতে না পারে এবং করলেই গ্রেফতার করে পুলিশ এ্যাশল্ট মামলার আসামী হিসেবে জেল হাজতে প্রেরনের ফাঁদ পেতে রাখা হলো।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পুলিশ এ্যাশল্ট মামলায় গাড়ী ও বাস কাউন্টার ভাংচুরের ১লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি উল্লেখ করার কারনে পুলিশের আসল উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত রয়েছে।
কারন মামলায় উভয় পক্ষের শ্রমিকরাই এজাহার অনুযায়ী আসামী কিন্তু ক্ষতিগ্রস্হ বাস কাউন্টারের মালিকানা কিংবা তত্বাবধায়ক সেই নেতৃত্ব দানকারী এবং হুকুমদায়ী একজন শ্রমিক নেতা। যার স্বার্থ রক্ষার জন্য পুলিশ প্রশাসন এ্যাশল্ট মামলাটি করেছে ,যাতে কল্যান ফান্ড নিয়ে আর কেউ কথা বলতে না পারে।
Sharing is caring!
………………………..
Design and developed by best-bd