সিলেট ৩রা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা শাওয়াল, ১৪৪৬ হিজরি
প্রকাশিত: ৭:১৫ অপরাহ্ণ, জুন ২৪, ২০২০
ক্রাইম সিলেট ডেস্ক :: করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমাতে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন সেন্টারে ব্যক্তি সহায়তায় বসানো হলো বিশেষ যন্ত্র ‘হ্যাপা ফিল্টার সিস্টেম’। সাড়ে ২৮ লাখ টাকা দামে জীবাণুমুক্তকরণ ফিল্ডারটি সিলেটবাসীর কল্যাণে দান করেছেন সিলেট-৩ আসনের সাবেক এমপি শফি আহমদ চৌধুরী।
করোনা আতঙ্ক দূর করে রোগীর স্বজন ও সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপদ রাখতে সিলেটের করোনা রোগীদের জন্য শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে স্থাপন করা হয় বিশেষ পদ্ধতির ভেন্টিলেশন সিস্টেম। যেটাকে বলা হয় ‘হ্যাপা ফিল্টার সিস্টেম’।
এই ফিল্টার প্রতি মিনিটে ৬০ বার বাতাসের মাধ্যমে করোনার জীবাণু গ্রহণ করে বিশুদ্ধ বাতাস প্রবাহিত করে। এর মাধ্যমে ৯৯.৯৭ শতাংশ বিশুদ্ধ বাতাস সরবরাহ করতে সক্ষম।
সিলেট সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে স্থাপিত ফিল্টারটি দিয়েছেন সিলেট-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বিএনপি নেতা শফি আহমদ চৌধুরী। বিশেষ যন্ত্রটি স্থাপনের কাজ করেছে রাজধানীর ভলটাস ইঞ্জিনিয়ারিং। গত ১৭ মে থেকে এই ফিল্টার সিস্টেম স্থাপন কাজ শুরু হয়ে কাজটি শেষ হয় ২০ জুন।
এ বিষয়ে সাবেক সংসদ সদস্য শফি আহমদ চৌধুরী বলেন, ওষুধ কোম্পানি করার জন্য আমেরিকা থেকে আমদানি করেছিলাম এই যন্ত্রটি। কিন্তু সম্প্রতি আমাদের সিটি কপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী আমার সঙ্গে যোগাযোগ করলে সিলেটের মানুষের ঝুঁকিমুক্ত চিকিৎসাসেবা দেয়ার জন্য আমি শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে এটি দান করে দিয়েছি। এই হাসপাতালে সিলেটের বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা করোনা রোগীদের চিকিৎসার একমাত্র ভরসা। এ কথা চিন্তা করেই উপহার হিসেবে দিয়েছি মেশিনটি।
তিনি বলেন, সেদিন সিটি মেয়র নিজে গাড়ি পাঠিয়ে নিয়েছেন। যেভাবে প্যাকেট করা ছিল সেভাবেই তারা নিয়ে গেছেন। এটি ২৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে আমদানি করেছিলাম।
শামসুদ্দিন আহমদ সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. সুশান্ত কুমার মহাপাত্র বলেন, আগে চিকিৎসক, নার্সসহ যারা আইসিইউ বেডে করোনা আক্রান্ত রোগীর সেবা করতেন, তারা প্রচণ্ড ঝুঁকিতে থাকতেন। কিন্তু বর্তমানে এই ঝুঁকি কমল। হ্যাপা ফিল্টার মিনিটে ৬০ বার জীবাণু নিয়ে বিশুদ্ধ বাতাস প্রদান করছে। তাই রোগীর সেবায় যারা আছেন, তাদের নিরাপত্তা বৃদ্ধি পেয়েছে। বলতে গেলে একজন থেকে অন্যজন সংক্রমিত হওয়ার শঙ্কা কমে গেছে।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, এ ধরনের মেশিন সাধারণত দেশের বড় বড় ওষুধ কোম্পানিগুলোতে ব্যবহার হয়। এর বাইরে ইউনাইটেড হাসপাতাল, স্কয়ার হাসপাতাল ও সিএমএইচ হাসপাতালে এটি লাগানো আছে। রাজধানীর বাইরে সিলেটেই প্রথম এটি বসানো হলো।
তিনি বলেন, ফিল্টারটি সাবেক সংসদ সদস্য শফি আহমদ চৌধুরী ওষুধ কোম্পানি করার জন্য আমদানি করেছিলেন। ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার ইউনুছুর রহমান এ তথ্য আমাকে জানান। আমি শফি আহমদ চৌধুরী সাহেবের সঙ্গে কথা বললে তিনি সিলেটবাসীর কল্যাণে মেশিনসহ ফিল্টারটি বিনামূল্যে দান করেছেন। আমরা সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে এটি স্থাপন করে দিয়েছি।
Sharing is caring!
………………………..
Design and developed by best-bd