বিশ্বনাথে চাঞ্চল্যকর জোড়া খুনের নেপথ্যে নায়ক ইউপি চেয়ারম্যান রুহেলকে গ্রেফতারের দাবি

প্রকাশিত: ৫:২৪ অপরাহ্ণ, জুন ২৬, ২০২০

বিশ্বনাথে চাঞ্চল্যকর জোড়া খুনের নেপথ্যে নায়ক ইউপি চেয়ারম্যান রুহেলকে গ্রেফতারের দাবি

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি :: সিলেটের বিশ্বনাথ থানার অলংকারী ইউনিয়নের মনোকোপা গ্রামের চাঞ্চল্যকর জোড়া খুনের ঘটনায় থানায় পৃথক দুইটি খুনের মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওই ঘটনার সাথে জড়িত ও নরু ইসলাম বাহিনীকে হামলার হুকুম দাতা অলংকারী ইউপি চেয়ারম্যান নাজমুল ইসলাম রুহেল। তিনি তাদের দুই পক্ষের ২লাখ টাকা জামানত আত্মসাৎ করতে বিচারে উপস্থিত না হয়ে নুরু ইসলাম বাহিনীকে প্ররোচনা দিয়ে এমন কান্ড করান। গতকাল সিলেট প্লাসের ফেসবুক লাইভে এসে সরাসরি ইউপি চেয়ারম্যান নাজমুল ইসলাম রুহেলকে দোষি করে এবং তাকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে এমন মন্তব্য করেন নিহত মখলিছুর রহমানের ভাইয়ের মেয়ে। তিনি বলেন, রুহেল চেয়ারম্যান জামানতের দুই লাখ টাকা আত্মসাৎ করতে তার পক্ষের লোকজন দিয়ে আমাদের আমার চাচাকে হত্যা করায়। আমরা চেয়ারম্যানসহ সকল জড়িতদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশ সুপারের হস্থক্ষেপ কামনা করছি।

অলংকারী ইউনিয়নের সচেতন মহল চেয়ারম্যান নাজমুল ইসলাম রুহেলকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে বলেন, সে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ইউনিয়নে একেরপর এক হত্যাসহ বড় বড় ঘটনার জন্ম দিচ্ছে। তার অনিয়মের বিরুদ্ধে কোন ইউপি সদস্য প্রতিবাদ করলে চেয়ারম্যান যেকোন বিষয়ে নাঠক সাজিয়ে ইউপি সদস্যদের হয়রানি করেন। এমন হয়রানীর শিকার হয়েছেন ইউপি সদস্য ও ১নং প্যানেল চেয়ারম্যান আলতাব আলী এবং ছয়দুর রহমানসহ আরও অনেকে। তার যন্ত্রণায় অতিষ্ট ইউনিয়নের শান্তিকামী মানুষজন। গত ২০ মে দুপুরে সিলেট থেকে বাড়ি ফেরার পথে অলংকারী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার, সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান ও অলংকারী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সদস্য রফিক মিয়াকে প্রাণে মারার উদ্যেশ্যে তার উপর এ সন্ত্রাসী হামালা চালায়। পরে গত ২৪ মে ওই সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালায় র‌্যাব-৯ সিলেটের সদস্যরা। তখন সন্ত্রাসীরা র‌্যাবের উপরও হামালা চালায়। ওই ঘটনার নেপথ্যেও রয়েছেন চেয়ারম্যান রুহেল। এরপর স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা চেয়ারম্যান রুহেলকে গ্রেফতারের দাবিতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ সভাও করেন। কিন্তু এত বড় বড় ঘটনা করার পরও এই বিতর্কিত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। বর্তমানে স্থানীয় ইউনিয়নের সচেতন মহলের একটাই দাবি চেয়ারম্যান রুহেলকে গ্রেফতার করে তাকে আইনের আওতায় এনে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের নিকট আশুহস্থক্ষেপ কামনা করছেন।

জানা গেছে, বিশ্বনাথ থানার অলংকারী ইউনিয়নের মনোকোপা গ্রামের চাঞ্চল্যকর জোড়া খুনের ঘটনায় থানায় পৃথক দুইটি খুনের মামলা দায়ের করা হয়েছে। অলংকারী ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার ফজলু মিয়ার ভাই মনোকোপা জামে মসজিদের মোতায়াল্লী নিহত মখলিছুর রহমানের পুত্র আকরাম হোসেন বাদী হয়ে অলংকারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমুল ইসলাম রুহেলকে খুনের হুকুমদাতা হিসাবে আসামী করে ৩১ জনের বিরোদ্ধে দন্ডবিধি আইনের ৩০২/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩২৬ ধারায় থানায় মামলা দায়ের করেন, (মামলা নং ১৬)।

অপর দিকে একই ধারায় প্রতিপক্ষের নিহত ওয়ারিছ আলীর স্ত্রী নুরুননেছা ২০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ৮/১০ জনকে আসামী করে থানায় অপর মামলাটি দায়ের করেন, (মামলা নং-১৫)।

মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্বনাথ থানার (তদন্ত) ওসি রমা প্রশাদ। জোড়া খুনের ঘটনায় যেমন এলাকায় আতঙ্কের সৃস্টি হয়েছে, তেমনি গ্রেফতার আতঙ্কে পুরুষ মহিলারা এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন বলে স্থানীয় বাসিন্ধারা জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় পুলিশ ৫জনকে গ্রেফতার করেছে। আটককৃতরা হলেন, নিহত মখলিছ মিয়ার ছোট ভাই ইউপি সদস্য ফজলু মিয়া (৫০) ও একই গ্রামের গিয়াস উদ্দিনকে (২৫) গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। অপর পক্ষ নিহত ওয়ারিশ আলীর ছেলে রুয়েল আহমদ (২৫), সুহেল আহমদ (১৮) ও পার্শ্ববর্তী বড়তলার মানিক মিয়াকে (৩৮)কে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে থানা পুলিশ।

এক পর্যায়ে অলংকারি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমুল ইসলাম রুহেলের কাছে দুপক্ষের ৫লাখ ৫লাখ করে টাকা জমা দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু ২ পক্ষ ১লাখ ১লাখ করে চেয়ারম্যানের নিকট জমা দেন।

২লাখ টাকা জামানত রাখা হয়েছিল এবং ২৩ জুন মঙ্গলবার সকাল ১০টায় তৃতীয় স্থান হিসেবে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার নিজগাঁও গ্রামের লন্ডন প্রবাসি আব্দুল আজিজের বাড়িতে নিস্পত্তির জন্য বৈঠক ছিল। কিন্তু অন্য উপজেলায় বিচার হওয়ার কারণে উপস্থিত হতে তার পক্ষকে বাধা দেন চেয়ারম্যান রুহেল। ওই বৈঠকে বৃহত্তর সিলেটের গণ্যমান্য শালিস ব্যক্তিরা অপেক্ষায়ও করেছিলেন। কিন্তু নুর ইসলাম পক্ষের লোকজন বৈঠকে উপস্থিত না হয়ে অন্যত্র প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে হামলার পরিকল্পনা করেছিল বলে বিস্তস্থ সূত্রে জানা গেছে।

তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী ওই দিন মঙ্গলবার আছরের নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হলে হাজী মখলিছ মিয়াকে তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ি নুর ইসলামের পক্ষ দা, চায়নিজ কুড়াল, রামদা দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। এতে মখলিস মিয়া ঘটনাস্থালে মারা যান। পরে উভয় পকক্ফের মধ্যে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে নুর ইসলাম পক্ষের ওয়ারিছ আলী গুরুত্বর আহত হলে তাকে ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর তিনিও মৃত্যু বরণ করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ রুহেলকে মামলায় আসামী না করার জন্য একটি চিহ্নিত দালাল চক্র নানাভাবে চেষ্টা তদবির করে। এতে ব্যর্থ হয়ে এ চক্রটি চরমভাবে উত্তেজিত হয়ে পড়ে। ২টি হত্যাকান্ডের ঘটনায় এলাকায় থম থমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..