সিলেট ৩রা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা শাওয়াল, ১৪৪৬ হিজরি
প্রকাশিত: ১:৪৯ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২, ২০২০
গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি : করোনা কালে সাহেদ করিম, সাবরিনা ও আরিফের প্রতরণা দেশজুড়ে আলোচিত। তবে তাদের প্রতারণাকেও ছাড়িয়ে গেলেন সিলেটের শিবগঞ্জের বাসিন্দা মাসুম আহমেদ। তিনি কোনো শিল্পপতি বা ব্যবসায়ী বা সমাজের পরিচিত কোন ব্যক্তি নন অথচ জার্মানী ও বুলগেরিয়া থেকে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে গত এক মাসে প্রায় দশ কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন।
জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা এনএসআইয়ের সহযোগিতায় র্যাবের জালে গত ২৭ সেপ্টেম্বর সিলেটের কানাইঘাট পৌরসভা সংলগ্ন এক বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। পরে তাকে শহররের শিবগঞ্জের বাসায় নিয়ে এলে তার বাসা থেকে তল্লাশী চালিয়ে একাধিক নকল পাসপোর্ট, ভিসা কপি ও বিভিন্ন ব্যাংকের একাধিক চেগ বই উদ্ধার করা হয়ে। পরে তাকে সরাসরি ঢাকায় নিয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করে পরদিন শাহপরান থানায় হস্তান্তর করে র্যাব।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার তাকে কোর্টে হাজির করলে আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। জানা গেছে বিভিন্ন জালিয়াতির মাধ্যমে তিনি হাতিয়ে নিয়েছেন বিপুল পরিমাণ অর্থ। বাংলাদেশীদের পাশাপাশি প্রতারণার শিকার হয়েছেন বিদেশি নাগরিকরাও।
তাহার (মাসুমের) গ্রামের বাড়ি গোয়াইনঘাট উপজেলার পূর্ব আলীরগাঁও ইউনিয়নের ধর্মগামে। তারা সপরিবারে সিলেট নগরীর মেজরটিলা এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করে আসছেন বলে জানা গেছে। তবে তাকে জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা এনএসআইয়ের সহযোগিতায় র্যাব কানাইঘাট থেকে আটক করেছে গত রোববার রাতে। মাসুমের পিতা মাওলানা আতাউর রহমান কানাইঘাট মনসুরিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল। মাসুম এলাকার কারো সাথে উঠাবসা না থাকলেও তার প্রতারণার খবরে বিস্মিত এলাকাবাসীসহ স্বজনরা।
সূত্র জানায়, মানব পাচারের মাধ্যমে জার্মানী, নিউজিল্যান্ড, কুয়েত, ক্রোয়েশিয়া, ইতালি, গ্রিস, মালয়েশিয়া, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশ থেকে এই অর্থ জমা পড়ে মাসুম আহমেদের ব্যাংক একাউন্টে। আর এ মানব পাচারের রুট হিসেবে তিনি ব্যবহার করেছেন নেপাল, দিল্লী, ভিয়েতনাম, সৌদি আরব ও কম্বোডিয়ার আকাশপথ।
তদন্তে নেমে ৩৭ বছর বয়সী এই তরুণের ব্যাংক একাউন্টে এই বিপুল পরিমাণ টাকা জমা পড়তে দেখে বিস্মিত তদন্তকারী কর্মকর্তারা। যেনো হঠাৎ করেই তিনি পেয়ে গেছে আলাদীনের চেরাগ। দুই মাসে তার বিপুল পরিমান টাকা জমা পড়তে দেথে ধারণা করা হচ্ছে এর আগেও অনেক টাকা সরিয়ে নিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে র্যাব-১৪ এর উপ-পরিচালক মেজর মো. ফজলে রাব্বি বলেন, আমরা এ ব্যাপারে একটি প্রেস ব্রিফিং করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। অনুসন্ধানে আরো জানা যায় যে মাসুমের অতীত ইতিহাস সাধারণ হলেও কিছুদিন বিদেশে (ব্রুনাই) অবস্থান করে প্রতারক চক্রের সঙ্গে হয়ে উঠেন আন্তজাৰ্তিক মাফিয়া। এ ব্যাপারে তাহার পিতা মাওলানা ফয়জুর রহমান এর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিভ করেনি।
Sharing is caring!
………………………..
Design and developed by best-bd