কোম্পানীগঞ্জে ইজারা বিহীন বালু লুট!

প্রকাশিত: ৬:৩৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৭, ২০২০

কোম্পানীগঞ্জে ইজারা বিহীন বালু লুট!

ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : পাথর ও কাচবালি সম্পদে পরিপূর্ণ সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদী। নদীর উত্তর অংশ থেকে শুরু করে কলাবাড়ি ব্রীজ পর্যন্ত দুচোখ খুললেই দেখা মেলে কাঁচবালু, আর বালি খুরলেই মিলে সাদা সোনা খ্যাত মূল্যবান পাথর। ধলাই নদী ছাড়াও পিয়াইন নদী ও নদী ভাঙ্গনে সৃষ্ট ঢালারপাড়-প্রেমকারা অংশের হাজার হেক্টরজুরে রয়েছে প্রচুর কাঁচবালি ও পাথর। দেশের নিম্নবিত্ত এই উপজেলাটি মূল্যবান খনিজে সম্পদে পরিপূর্ণ থাকলেও এই অঞ্চলের মানুষ বেশীর ভাগই শ্রমিক ও খেটে খাওয়া।কোয়ারী বন্ধ,দীর্ধদিন এই উপজেলার শ্রমিকরাও বেকার এবং হতদরিদ্রতার মধ্যে দিনকাটালেও থমকে আছে তাদের সেই ভাগ্যের চাকা। দেশবিখ্যাত ভোলাগঞ্জ কোয়ারীর পাথর উত্তোলনে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে মর্মে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে বন্ধ করে রেখেছে স্থানীয় সরকার ও পরিবেশ মমন্ত্রনালয়।

পরিবেশের দোহাই দিয়ে পাথর কোয়ারী বন্ধ থাকলেও বালু মহালচালু থাকায় স্বস্থির নিঃশ্বাস বইছে শ্রমিকের ঘরে। ২ কোটি ১১ লক্ষ টাকায় ধলাই উত্তর ও কালাসাদক মৌজা দুটি লীজ নিয়েছে প্রগতি এন্টারপ্রাইজ মালিকানাধীন মজির উদ্দিন।এই লীজ গ্রহীতার সাথে অংশিদারিত্ব আছে স্থানীয় ও উপজেলার বাইরের অনেক আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগ,যুবলীগ নেতৃবৃন্দের।

৩৫/৪০ জনের সমন্বয়ে এই বালু সিন্ডিকেট খুবই শক্তিশালী এবং ক্ষমতাধর।ধলাই উত্তর ও কালাসাদক মৌজা লীজ নিয়ে একাধিক মৌজা থেকে বালু উত্তোলন করে সরকারী রাজস্ব ফাকি দিয়ে আসছে।এতো বড় পুকুরচুরি হচ্ছে তবুও নিরব ভূমিকা পালন করছে উপজেলা প্রশাসন।

লীজ গ্রহীতার চুক্তিতে ধলাই উত্তর ও কালাসাদক মৌজা থেকে বালু উত্তোলনের কথা থাকলেও নদীর পানির নিচের সব বালি যন অলিখিত ইজারা সম্পদ।ধলাই নদী,ভোলাগঞ্জ রোপওয়ে,১০ নং এলসি ঘাট সংলগ্ন,লীলাইবাজার,দয়ারবাজার,নতুন বাজার,কালাইরাগ হাজীর দাইন্না,ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফারি সংলগ্ন,ধলাই ব্রীজ সংলগ্ন(কলাবাড়ি ব্রীজ) ইসলামগঞ্জ বাজার,ঢালারপাড়ের বিস্তির্ণ এলাকা কোথাও বাদ যাচ্ছেনা বালু লুটেরাদের কাছ থেকে।

ইজারাপ্রাপ্ত বালু মহালের রয়েলটি ঘাট স্থাপন করা হয় নয়া গাংয়ের পাড় এলাকায়,যদিও এই রয়েল্টিঘাট থাকার কথা ভোলাগঞ্জ কাস্টমস ঘাটের আশে পাশে। সেখানে থাকলে হয়তো যথেচ্ছ ইজারাবিহীন বালু লুট দমন রাখা যেতো।

সম্প্রতি উল্লেখিত ইজারাবর্হিভূত এলাকা থেকে বালু উত্তোলন করার একাধিক প্রমান পাওয়া গেছে।কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ ইজারাবিহীন এইসব এলাকায় অভিযান দিয়ে অনেক বালুবাহী নৌকা আটক ও মামলা দায়ের করেছে।তবুও থামানো যাচ্ছেনা সেই সব এলাকা থেকে বালু লুট।

নদী ভাংগনের শিকার স্থানীয় ব্যক্তিদের দাবী, স্থাপিত রয়েল্টিঘাটটি ভোলাগঞ্জ কাস্টমস এলাকার আশে পাশে থাকলে ঢালাওভাবে বালু উত্তোলন রোধ করা যেতো।

ইজারাএলাকার প্রায় এক কিলোমিটারের বেশী দূরে রয়েল্টিঘাট স্তাপন করায় ঢালাওভাবে ইজারাবর্হিভূত স্থান থেকে বালু উত্তোলনের দৃশ্য দেখা যাচ্ছেনা।তবে ইজারাপ্রতিষ্টানের পক্ষ থেকে নেই কোনো বাধা।প্রশাসনের চোখ যেন বন্ধ রেখেছে।

এব্যাপারে বালু ইজারাদার প্রগতি এন্টারপ্রাইজের মালিক মজির উদ্দিনের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় কোন বক্তব্য নেওয়া যায়নি।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইজারায় অংশিদার একজন জানান, ইজারা এলাকার নিকটে রয়েল্টি আদায় ঘাট বসালে নৌকা মালিকরা বালু উত্তোলন করতে ভয় পাবে,তাই দুরে রয়েল্টিঘাট দুরে রাখা হয়েছে। আলী রাজা নামের একজন নৌকা মালিক বলেন, রয়েল্টেঘাট যত দুরে বসবে আমাদের তত লাভ।

দীর্ঘদিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন আচার্য অসুস্থ থাকলেও থানা অফিসার ইনচার্জ নজরুল জাহান মাঝে মাঝে নদীতে অভিযান দিয়ে কয়েকটি নৌকা ও মিনি বোমা মেশিন আটক করে মামলা দায়ের করলেও সেই অভিযানও প্রায় ব্যার্থ বলা চলে।কেননা,বালুখেকুদের নিয়োজিত একটি দালাল বাহিনী থানার গেইটের আশে পাশে অবস্থান নিয়ে পুলিশের অভিযানের খবর আগেই পৌঁছে দিচ্ছে নদীতে অবস্থানরত বালু খেকুদের কাছে।

এব্যাপারে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি কে এম নজরুল জাহান বলেন, আমি নিজে অনেক অভিযান দিয়ে নৌকা আটক করে মামলা দিয়েছি। এরপরও ইজারাবিহীন কোনো বালু লুটের ঘটনা ঘটলে আমাকে জানালে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেবো।

তেলিখাল ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহসিলদার সুজন সাহা বলেন, ইজারাবিহীন এলাকা থেকে বালু উত্তোলন সম্পূর্ন অবৈধ। তাছাড়া আমাদের এসিল্যান্ড স্যার বদলী এবং ইউএনও স্যার অসুস্থ জনিত ছুটি থাকার কারনে হয়তো বালু মহালে হরিলুট চলছে।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

October 2020
S S M T W T F
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  

সর্বশেষ খবর

………………………..