গোয়াইনঘাটের সন্ত্রাসীদের কান্ডে অতিষ্ট মানুষজন

প্রকাশিত: ২:৩০ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ৮, ২০২১

গোয়াইনঘাটের সন্ত্রাসীদের কান্ডে অতিষ্ট মানুষজন

গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি : সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ১নং রস্তমপুর ইউনিয়নের কাঠালবাড়ী কান্দি গ্রাম এখন সন্ত্রাসীদের আস্তানা। নিরিহ মানুষের উপর হামলা, খুন, বসত বাড়িতে ভাংচুর, গবাদিপশু ও মুল্যবান জিনিসপত্র লুঠপাট, ভুমি দখল, জলমহাল দখল আর বসতবাড়ী পুড়িয়ে দেওয়া তাদের নিত্যকর্ম।

এসব ঘটনায় ভুক্তভোগী নিরিহ লোকজন গোয়াইনঘাট থানায় ১০/১২টি মামলা দায়ের করেছেন এবং সবক’টি মামলা রের্কডও করে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ আদালতে প্রেরন করেছে। এসব মামলায় অভিযুক্ত সন্ত্রাসীরা ওয়ারেন্ট নিয়ে প্রকাশে খুন রাহাজানি চালিয়ে যাচ্ছে অহরহ।

সরজমিন গিয়ে জানা গেছে, উপজেলার রস্তমপুর ইউনিয়নের কাঠালবাড়ীকান্দি গ্রামের আব্দুর রব, আম্বরআলী, মনির উদ্দিনের নেতৃত্বে গ্রামোর প্রায় দুই শতাধিক লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজ্য গড়ে তুলছেন। এলকায় রয়েছে ছোটবড় বেশ কয়েটি সরকারী জলমহাল, এসব জলমহাল কোন মৎসজীবি সরকারি ভাবে রাজস্ব আদায়ের মাধ্যমে নিলাম নিয়েও ভোগ করতে পারেনি এই বাহিনীর কারনে।

কেউ প্রতিবাদ করলে তাদের উপর হামলা চালায়, ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়, গবাদিপশু লুঠপাট করে নিয়ে যায়, ২০২০ ও ২১ সালে এই সন্ত্রাসী বাহিনী কাঠালবাড়ীকান্দি গ্রামের নিরিহ লোকজনের কমপক্ষে ১০/১৫ টি ঘর পুড়িয়ে দিছি এবং একাধিক বসতঘর ভাংচুর করেছে।

এ ছাড়া প্রকাশ্য দিবালোকে এই বাহীনির একাধিক হামলায় অনেক লোকজন আহত হয়েছেন। গত ১লা এপ্রিল ভোর সাড়ে ৬টার দিকে গোয়াইনঘাট উপজেলার ১ নং রস্তমপুর ইউনিয়নের কাঠালবাড়ীকান্দি গ্রামে পাতনিখাল জলমহাল নিয়ে বিরোধের জের ধরে ঐ সন্ত্রাসীরা গ্রামের নিরিহ লোকজনের উপর হামলা চালায় এবং ৪/৫ বসতঘর ভাংচুর করে।

সন্ত্রাসীদের হামলায় একজন নিহত হন এবং মহিলাসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। নিহতের নাম আহমদ আলী, (৫৫), তিনি কাঠালবাড়ীকান্দি গ্রামের মৃত মোবারক আলীর পুত্র। আহতরা হলেন কাঠালবাড়ীকান্দি গ্রামের আব্দুল জলিল (৫৫), আনছার (৩০), সেলিম (২৮), মুমিন (২৩), মুজম্মিল আলী (৬০), ফয়সল (২৫), কয়ছর (২২), আমিরআলী (৩৫), আনোয়ারা (২৪), রশিদ (৬৫)।

এ ঘটনায় নিহত আহমদ আলীর পুত্র দেলোয়ার হোসেন বাদী হয়ে ৪০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং শতাধিক অজ্ঞাতনামা আসামী করে গোয়াইনঘাট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নং (৩) তাং ২-৪-২১ইং। এদিকে গ্রামের নিরীহ ও ক্ষতিগ্রস্তরা বাদী হয়ে চুরি, ডাকাতি, লুঠ, ভাংচুর, আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করেন।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, স্থানীয় পাতনিখাল (জলমহাল) নিয়ে কাঠালবাড়ীকান্দি গ্রামের নিরিহ লোকজন ইজারা নেন। কিন্তু সন্ত্রাসী বাহিনী ঐ জলমহাল জবরদখল করে লুঠে নেয়। এ ঘটনায় দীর্ঘদিন থেকে বিরোধ চলে আসছে।

এ ঘটনায় থানায় এবং আদালতে একাধিক মামালাও রয়েছে। গ্রামের আব্দুর রব,আম্বরআলী, মনির উদ্দিনের নেতৃত্বে নিহত আহমদ আলীসহ একাধিক বাড়িতে গিয়ে পুর্বে একাধিকবার হামলা করে বাড়িঘর ভাংচুর ও আগুনদিয়ে পুড়িয়ে দেয়। এরপর থেকে নিহত আহমদ আলীসহ তার পক্ষের নিরিহ লোকজন বাড়িঘর ছেড়ে পাশ্ববর্তী ইটাছকি গ্রামে তাদের আত্মীয় আব্দুল মন্নান (হান্নান) এর বাড়িতে আশ্রয় নেন।ৎ

১লা এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কাঠালবাড়ী কান্দি গ্রামের আব্দুর রব, আম্বরআলী, মনির উদ্দিনের নেতৃত্ব শতাধিক লোকজন দেশিয় অস্ত্র নিয়ে ইটাছকি গ্রামে আব্দুল হান্নান এর বাড়িতে গিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়, এতে ঘটনাস্থলে আহমদ আলী মারাযান এবং মহিলাসহ ১০ জন গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটে পড়েন। এসময় তাদের আত্ম-চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা নির্বিগ্নে পালিয়ে যায়। স্বজনরা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত সিওমেক হাসপাতালে প্রেরন করেন।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুল আহাদ, ওসি তদন্ত দিলীপ কান্ত নাথ, সেকেন্ড অফিসার এসআই প্রলয় ও এসআই মাসুমসহ ২৫/৩০ জনের একদল পুলিশ টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করেন এবং ময়না তদন্তের জন্য সিওমেক হাসপাতালে লাশ প্রেরন করেন।

নিহত আহমদ আলীর পুত্র দেলোয়ার জানান, ঐ সন্ত্রাসীরা দীর্ঘদিন থেকে আমাদের উপর হামলা ও নির্যাতন করে আসছে, সর্বশেষ আমার বাবাকে হত্যা করেছে, এখনও প্রকাশ্যে হুমকি অব্যাহত রাখছে। তিনি খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবি জানান এবং স্বজনদের নিয়ে শান্তিতে বসবাসের সুযোগটুক চান।

জানতে চাইলে ওসি গোয়াইনঘাট মোঃ আব্দুল আহাদ ঐ এলাকা দুর্গম, এখানে জলমহাল নিয়ে পুর্বের বিরোধ রয়েছে, এসব ঘটনায় থানায় হত্যাসহ একাধিক মামলা রের্কড হয়েছে। আসামীদেে আটক করতে সার্বক্ষনিক পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। ঘটনার সাথে জড়িত হামলাকারী ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া ঐ এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সব ধরনের কৌশল অব্যাহত আছে।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..