সিলেট ৩রা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা শাওয়াল, ১৪৪৬ হিজরি
প্রকাশিত: ১:৫২ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৪, ২০২১
নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচন আজ শনিবার। এই উপনির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন ৪ জন। আওয়ামী লীগের হাবিবুর রহমান হাবিব, জাতীয় পার্টির আতিকুর রহমান আতিক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী শফি আহমদ চৌধুরী ও জুনায়েদ মুহাম্মদ মিয়া।
এদের মধ্যে শুরু থেকেই প্রচারে অনুপস্থিত জুনায়েদ। ফলে আলোচনায়ও নেই। হাবিব, আতিক আর শফিই আছেন ভোটের আলোচনায়। এই তিনজনের দুর্ভাবনার কারণও নিজেদের দল।
শফির দুর্বাবনা তো অনুমেয়ই। এই উপ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিচ্ছে না। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রার্থী হওয়ায় শফি আহমদকে বহিস্কারও করেছে দলটি। স্বতন্ত্র প্রার্থী শফির প্রতীক মোটরগাড়ি। শফির পাশে প্রচারে দলীয় কর্মীদেরও দেখা যায়নি। ফলে ব্যক্তি ইমেজের উপর ভর করেই নির্বাচন করতে হচ্ছে প্রবীন এই রাজনীতিবিদকে।
বিএনপির অনুসারীর আদৌ ভোটকেন্দ্রে আসবে কি না এই নিয়েও সন্দেহ আছে। আবার আসলেও দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রার্থী হওয়ায় তাদের ভোট শফির বাক্সে পড়বে কি না তাও নিশ্চিত নয়। ফলে শফিকে বিএনপির ভোট ধরে রাখা নিয়েই চিন্তা করতে হচ্ছে।
দল নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন হাবিব-আতিকও।
সিলেট-৩ আসনের মনোনয়ন চেয়েছিলেন অন্তত দুই ডজন আওয়ামী লীগ নেতা। এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের মহাসচিব এহেতেশামুল হক দুলাল, ও প্রয়াত সাংসদ মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েসের স্ত্রী ফরাজানা সামাদও রয়েছেন। তবে এদের বাদ দিয়ে দল থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয় অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতা হাবিবুর রহমানকে। জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য তরুণ হাবিবের মনোনোয়নে নাখোশ হন দলটির প্রবীণ ও মনোনয়ন বঞ্চিত নেতারা। তাদের অনেককেই হাবিবের পক্ষে প্রচারণায় দেখা যায়নি।
সাংসদ মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর চৌধুরীর আকস্মিক মৃত্যুর কারণে তার প্রতি একটি আবেগ রয়েছে এলাকাবাসীর। বিশেষত কয়েসের নিজের উপজেলা ফেঞ্চুগঞ্জে তার জনপ্রিয়তা রয়েছে। ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দারা প্রার্থী হিসেবে কয়েসের স্ত্রী ফারজানাকেই চেয়েছিলেন। ফারাজানাও দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা চালান।
হাবিব মনোনয়ন পাওয়ার পর নীরব হয়ে যান ফরাজানা সামাদ। হাবিবের পক্ষে প্রচারে দেখা যায়নি তাকে। প্রচারে ছিলেন না মিসবাহ উদ্দিন সিরাজও। তাদের অনুসারীরা হাবিবের পক্ষে থাকবেন কি না এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের দলের ভেতরেই আলোচনা রয়েছে। এছাড়া প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ দেখালেও তরুণ হাবিবের বিরুদ্ধে দলের ভেতরেই বড় একটি অংশ ক্রিয়াশীল রয়েছে। ভোটের দিন তারা সক্রিয় হয়ে উঠলে বিপটাকে পড়তে হতে পারে হাবিবকে।
তবে সিলেট আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন খান বলেছেন, আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ। আমাদের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। প্রার্থীকে আমাদের কাছে মূখ্য নয়, নৌকা প্রতীককে বিজয়ী করতে আমরা সকলে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
দলের ভেতরের বিরোধদেরর প্রতি ভোটের ঠিক আগেরদিনই কঠোর বার্তা দিয়েছে আওয়ামী লীগ। নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় শুক্রবার বহিস্কার করা হয়েছে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদককে। এছাড়া সিলেটের এক রাষ্ট্রপক্ষের সহকারি কৌশলীকে (এপিপি) অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
আতিকুর রহমান আতিকের দলে তেমন কোনো বিরোধ নেই। জাতীয় পার্টির এই প্রেসিডিয়াম সদস্যের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবেই কাজ করছেন দলের নেতাকর্মীরা। তবে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে তেমন সাংগঠনিক শক্তি নেই দলটির। নেই কর্মী বাহিনী। ফলে সাধারণ ভোটারদের জাতীয় পার্টির কর্মীরা কেন্দ্রে নিয়ে আসতে কতটুকু সফল হবেন এ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাদের এই সফলতার উপরও নির্ভর করছে আতিকের জয় পরাজয়।
তবে সিলেট জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক উসমান মিয়া বলেন, আমরা প্রতিটি কেন্দ্রে আলাদা কমিটি করেছি। তারা ভোটরদের কেন্দ্রে আনতে কাজ করবেন। এছাড়া ভোটাররাও স্বতস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে আসবেন।
জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী ৩ প্রার্থীই:
জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত হাবিবুর রহমান হাবিব, আতিকুর রহমান আতিক ও শফি আহমদ চৌধুরী।
স্বতন্ত্র প্রার্থী শফি আহমদ চৌধুরী ভোটরদের নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে এসে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভোটাররা যদি ভয়ভীতিহীন ভাবে ভোট দিতে পারে তবে আমি বিজয়ী হবো। কারণ জনগন আমাকে ভালোবাসে। আমি সাংসদ থাকাকালে অনেক উন্নয়ন করেছি। জনগন এগুলো মনে রেখেছে। তারা নির্বাচনে এর প্রতিদান দেবে।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী আতিতকুর রহমান আতিক বলেন, পুরো এলাকায় লাঙলের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। কারচুপি করা না হলে আমার বিজয় সুনিশ্চিত। আমি বিজয়ী হয়ে এলাকার উন্নয়নে অবদান রাখতে চাই।
আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, জনগন উন্নয়নের পেক্ষ। নৌকার পক্ষে। আমার দলও এক্যবদ্ধ। সবাই আমার সাথে আছেন। শনিবার বিকেলে ভোটের ফলাফলে এর প্রমাণ পাওয়া যাবে।
প্রসঙ্গত, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ১১ মার্চ মারা যান সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস। তার মৃত্যুতে আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।
আসনটিতে গত ২৮ জুলাই উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় উচ্চ আদালত নির্বাচন স্থগিতের নির্দেশ দেন।
Sharing is caring!
………………………..
Design and developed by best-bd