সিলেট ৬ই এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ৭ই শাওয়াল, ১৪৪৬ হিজরি
প্রকাশিত: ৩:৪৬ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩০, ২০২২
ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : অপরিকল্পিত নদ খনন ও অনিয়মের অভিযোগ উঠলে ১৩ এপ্রিল কাজ বন্ধ করে চলে যায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার নলজুর নদকে খাল দেখিয়ে খনন প্রকল্প গ্রহণ করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। সংস্থাটি নদের অস্তিত্ব বিপন্ন করে সরকারের কোটি কোটি টাকা অপচয় ও লুটপাট করছে বলে এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ। তিন দিন ধরে খননকাজ বন্ধ থাকায় নাগরিকেরা শঙ্কিত। এর আগে গত বছর প্রকল্পের মাঝপথে কাজ বন্ধ করে চলে গিয়েছিল ঠিকদারি প্রতিষ্ঠান।
পাউবো ও এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছরের জানুয়ারিতে পাউবোর বাস্তবায়নে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নেশন টেক লিমিটেড সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে নদে খননকাজ শুরু করে। তখন অপরিকল্পিত নদ খনন ও অনিয়মের অভিযোগ উঠলে ১৩ এপ্রিল কাজ বন্ধ করে চলে যায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সে সময় প্রতিষ্ঠানটি ২ কোটি ৫৩ লাখ টাকার বিল তুলে নেয়। এ বছরের ৫ মার্চ আবার কাজ শুরু করে। নতুন করে ১ হাজার ৩০০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৩৩ ফুট প্রস্থে খননকাজ ও মাটি সরানোর কাজ করতে ৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকা নতুন করে বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ কাজ নিয়েও অভিযোগ ওঠে। তখন নাগরিকদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভা করে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজেদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় পাউবোর কর্মকর্তা, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন, জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। ২৫ মার্চ থেকে বৃষ্টির অজুহাতে কাজ বন্ধ রয়েছে।
জগন্নাথপুর উপজেলা নাগরিক ফোরামের আহ্বায়ক নুরুল হক বলেন, নলজুর নদ দিয়ে একসময় লঞ্চ, স্টিমারসহ বড় বড় নৌযান চলাচল করত। নদকে খাল দেখিয়ে খনন প্রকল্প গ্রহণ করে নদের অস্তিত্ব বিপন্ন করা হয়েছে। নদটি এখন খালে পরিণত হওয়ায় নৌ চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বলেন, গত বছর পানি চলে আসার অজুহাতে খননকাজ বন্ধ করে ঠিকাদার পালিয়ে যায়। এবার এক দিনের বৃষ্টির পর গত শুক্রবার থেকে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। নদ খননের নামে সরকারের অর্থের অপচয় করা হচ্ছে। গত বছরের মতো এবারও কাজ নিয়ে তাঁরা শঙ্কিত।
জগন্নাথপুর ব্রিটিশ বাংলা এডুকেশন ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান এম এ কাদির বলেন, ‘পাউবোর দুর্নীতিবাজ কিছু কর্মকর্তা ও ঠিকাদারেরা মিলে নলজুর নদকে খাল বানিয়ে লুটপাটে মেতে উঠেছেন। আমরা এ বিষয়ে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বিজন কুমার দেব বলেন, নতুন নকশা অনুযায়ী নলজুর নদ ২০০ থেকে ২৫০ ফুট প্রস্থ। কিন্তু খনন করা হচ্ছে মাত্র ৪০ থেকে ৫০ ফুট। তাঁরা নতুন নকশা অনুযায়ী খননের দাবি জানিয়ে আসছেন।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) সিলেট বিভাগের সমন্বয়ক শাহেদা আক্তার বলেন, উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, নলজুর নদে ১০০ জন অবৈধ দখলদার আছেন। তাঁদের উচ্ছেদে আদালতে মামলা চলছে। দখলদার রেখে নদকে খাল বানিয়ে খনন করায় আরও দখলের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। নদ দখল মুক্ত করে খননের জন্য জেলা প্রশাসককে জানিয়েছেন তাঁরা।
পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ইসরানুল ইসলাম বলেন, ‘পাউবোর নকশা অনুযায়ী নলজুর খাল খনন করা হচ্ছে। নকশা অনুযায়ী কাজ বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি।’
লুটপাটের অভিযোগের বিষয়ে পাউবোর সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী সামসুদৌহা বলেন, লুটপাটের অভিযোগ ঠিক নয়। খননকাজ শেষ না করার কোনো সুযোগ নেই।
ইউএনও সাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘নলজুর নদকে খাল দেখিয়ে প্রকল্প গ্রহণ পাউবোর ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। প্রাক্কলন অনুযায়ী কাজ বাস্তবায়ন করার জন্য ঠিকাদারকে বলেছি।’ বৃষ্টির কারণে কাজ সাময়িক বন্ধ থাকলেও কাজ আবার শুরু হবে বলে জানান তিনি।
Sharing is caring!
………………………..
Design and developed by best-bd