সিলেট ৫ই এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ৬ই শাওয়াল, ১৪৪৬ হিজরি
প্রকাশিত: ২:১৩ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২, ২০২২
নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেটের জকিগঞ্জে ‘সন্ত্রাসী মুকিত বাহিনী’র হামলায় মহিলাসহ ৪ জন গুরুতর আহত হয়েছেন এ সময় একটি দোকানে লুটপাটের ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ ২জনকে গ্রেফতার করেছে। বৃহস্পতিবার (৩১ মার্চ) উপজেলার ছবড়িয়া গ্রামস্থ গফুর ভেরাইটিজ স্টোরে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হচ্ছেন উপজেলার ছবড়িয়া গ্রামের আব্দুল গফুর, আব্দুল গফুরের পুত্র দিদারুল ইসলাম, আব্দুল গফুরের স্ত্রী আঙ্গুরুন নেছা ও গ্রমের আব্দুল মন্নানের পুত্র জাবের আহমদ। আহতদের মধ্যে আব্দুল গফুর ও দিদারুল ইসলামকে আশংকাজনক অবস্থায় সিলেট ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে অন্যদের স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়-জকিগঞ্জ উপজেলার ছবড়িয়া গ্রামের মাসুক উদ্দিনের পুত্র আব্দুল মুকিতের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী এলাকায় নানা অপরাধ অপকর্মের মাধ্যমে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছে। তাদের প্রতিবাদ করলে সন্ত্রাসী হামলা-মামলা ও লুটপাটের শিকার হতে হয়। গত বৃহস্পতিবার (৩১ মার্চ) আব্দুল মুকিতের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী একই গ্রমের আব্দুল মন্নানের পুত্র জাবের আহমদকে অপহরন করতে উদ্যত হয়। নিজেকে রক্ষায় জাবের দৌড়ে গ্রামের আব্দুল গফুরের ভেরাইটিজ স্টোর দোকানে গিয়ে আশ্রয় নেয়। এসময় আব্দুল মুকিত ও তার সহযোগী সন্ত্রাসীরা দোকানে গিয়ে জাবেরকে মারপিট করে তুলে নিয়ে যেতে চাইলে আব্দুল গফুর তাতে বাঁধা দেন। এসময় ক্ষিপ্ত হয়ে আব্দুল মুকিত ধারালো অস্ত্র দিয়ে একাধিক আঘাত করে আব্দুল গফুরের মাথায় গুরুতর ও গভীরতর রক্তাক্ত কাটা জখম করে। এসময় আব্দুল গফুর মাটিতে লুটে পড়লে সন্ত্রাসীরা কাঠের রোল ও রড দিয়ে বেদম পিটিয়ে তাকে গুরুতর জখম করে। আব্দুল গফুরকে উদ্ধার করতে তার ছেলে দিদারুল ইসলাম ও স্ত্রী আঙ্গুরুন নেছা এগিয়ে আসলে আব্দুল মুকিত ও তার সহযোগিরা তাদেরকেও গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে এবং দোকানের ক্যাশ থেকে দেড়লাখ টাকা লুটে নেয়। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে আব্দুল গফুর ও তার ছেলে দিদারুল ইসলামের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাদেরকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে রেফার করা হয়। বর্তমান আব্দুল গফুরু ওসমানী হাসপাতালের ৩য় তলাস্থ ১১ নং ওয়ার্ডে এবং দিদারুল ইসলাম একই হাসপাতালের কাজুয়ালিটি ২৯ নং ওয়ার্ডে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন।
এ ঘটনায় আব্দুল গফুরের পুত্র জসিম উদ্দিন বাদী হয়ে ইউপি সদস্য আব্দুল মুকিতকে প্রধান আসামি করে শুক্রবার ৫ জনকে এজাহারভুক্ত করে অজ্ঞাতনামা আরো ১০ জনের বিরুদ্ধে জকিগঞ্জ থানায় মামলা {নং-০১(৪)২২} করেন।
এজাহারভুক্তরা হচ্ছে- সিলেটের জকিগঞ্জ থানার ছবড়িয়া গ্রমের মাসুক উদ্দিনের পুত্র আব্দুল মুকিত, কেই গ্রামের মৃত মছদ্দর আলী মখনের পুত্র শামীম আহমদ, মাসুক উদ্দিনের পুত্র আব্দুল মুতলিব মৃতুল, মৃত মনই মিয়ার পুত্র হারুণ আহমদ ও মারুফ আহমদ। পুলিশ অভিযান চালিয়ে হামলাকারী শমীম আহমদ ও হারুণ আহমদকে গ্রেফতার করলেও ঘটনার মূল হোতা ইউপি সদস্য আব্দুল মুকিত এখনো ধরাছোয়ার বাইরে রয়েছেন।
স্থানীয় ৫নং জকিগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান আফতাব মিয়া মূল হোতা ইউপি সদস্য আব্দুল মুকিতের হয়ে থানায় একটি সাজানো মামলা দায়ের করতে তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে ওসি চেয়ারম্যানের কোন তদবিরে কান না দিয়ে মূল হোতা ইউপি সদস্য আব্দুল মুকিতকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।
জকিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোশাররফ হোসেন মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন-শুক্রবার রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত ২ আসামী শামীম ও হারুণকে গ্রেফতার করেছে। প্রধান আসামী আব্দুল মুকিতসহ অন্যরা আত্মগোপনে রয়েছে। তাদের গ্রেফতারে পুলিশের তল্লাশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
Sharing is caring!
………………………..
Design and developed by best-bd