সিলেট ৫ই এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ৬ই শাওয়াল, ১৪৪৬ হিজরি
প্রকাশিত: ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২৫, ২০২২
নিজস্ব প্রতিবেদক :: এক সময়ের জরাজীর্ণ সিলেট এখন ঝলমলে পর্যটন নগরী। চারদিকে জ¦লছে উন্নয়নের আলোর শিখা। সন্ধ্যা হলেই বদলে যায় নগরজীবনের চিত্র। জ¦লতে থাকে রং-বেরংয়ের ঝলকানো বাতি। এ যেন ছোট্ট আয়তনের এক লন্ডনসিটি। অবকাঠামো উন্নয়নে এশিয়ার ক্ষদ্রাকৃতির অনেক নগরকেও হার মানিয়েছে সিলেট সিটি। আর এ কারনেই মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী হয়ে উঠেছেন উন্নয়নের আইকন।
সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) উন্নয়নে সিটি মেয়র অনেক-অনেক প্রশংসা কুড়িয়েছেন নগরবাসীর। সরকার দল বিরোধীদল সবাই তাঁর গুনগানে পঞ্চমুখ। মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী এমন একব্যক্তি যিনি নিজের দল ক্ষমতায় থাকলেও যেমন, তাঁর বিরোধী রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় থাকলেও তেমন। নগরের উন্নয়নে যে কোন সরকার ও সরকারের কর্তাব্যক্তিদের খুশি করে উন্নয়নের জোয়ার বইয়ে দিতে পারেন তিনি।
আরিফুল হক চৌধুরী সরকার বিরোধী বিএনপি দলীয় মেয়র সত্য। সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি থাকাবস্থায় তিনি ছিলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড কামিশনার ও নগর উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ছিলেন। তখন দেশের ক্ষমতায় ছিল বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার। সিলেট উন্নয়নের রূপকার, অকুতভয় কৃতিসন্তান তৎকালীন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী মরহুম এম, সাইফুর রহমানের অতি আস্তাভাজন হয়ে উঠেছিলেন আরিফুল হক চৌধুরী। সিলেট নগরের অবকাঠামোগত উন্নয়নের যাত্রা তখন থেকেই শুরু এবং বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার আমল পর্যন্ত আরিফুল হক চৌধুরীর হাতে চলমান। দলের মহানগর সভাপতি ও কমিশনার হওয়ায় এম সাইফুর রমানের সিলেট নগর উন্নয়ন পরিকল্পনায় আরিফ ছিলেন সরাসরি যুক্ত। উন্নয়নে সকল প্রতিকুলতা ও বাঁধা-বিপত্তি কঠোরভাবে মোকাবেলা করে উন্নয়নের পথকে সহজ ও সুগম করে দিয়েছিলেন তিনি। সিলেট নগরের বন্দরবাজার থেকে তামাবিল রোডের সিটি অংশে ডিভাইডার ও ড্রেন, সিলেট-এয়ারপোর্ট সড়ক প্রশস্থকরণ, ড্রেন ও ডিভাইডার, সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের নগর অংশ প্রশস্ত করণ, ডিভাইডার ও পয়:নিষ্কাশন ড্রেন। চৌহাট্টা- রিকাবীবাজার ভিআইপি রোড এবং পরবর্তী সুবিদবাজার পর্যন্ত সুপ্রশস্থ ও মনোরম ড. চঞ্চল রোড ডিভাইডার ও ড্রেন, চৌহাট্ট্-নয়াসড়ক সুপ্রশস্থ রোড, ড্রেন, জিন্দাবাজার-চৌহাট্ট রাস্তা সম্প্রসারণ ডিভাইডার, ড্রেন, আন্ডার গ্রাউন্ড বিদ্যুৎলাইন, রং-বেরংয়ের জমকালো বাতি। সিটি পয়েন্টে. সুরমা পয়েন্টসহ কয়েকটি এলাকায় বড় আকারের এলক্ট্রিক ডিসপ্লে, অত্যাধুনিক ও মডেল সিটি পয়েন্ট, চৌহাট্টা পয়েন্টে, নয়াসড়কস্থ মাদানী পয়েন্টসহ নগরীর বিভিন্ন মোড়ে ট্রাফিক পয়েন্ট নির্মান ও সিসিটিভি স্থাপন। কিনব্রিজ থেকে বন্দরবাজার পর্যন্ত রাস্তা ডিভাইডার ও নতুন করে ড্রেন নির্মান, কিনব্রিজ-তালতলা ভিআইপি রোড সম্প্রসারণ, জিন্দাবাজার-নাইওরপুল রাস্তা সম্প্রসারণ ও ড্রেন নির্মান, সুরমার দুই তীরে ওয়াকওয়ে, তোপখানা রোড সংস্কার ও ড্রেন নির্মান। দক্ষিণ সুরমার টার্মিনাল ডিভাইডার রোড, চাঁদনীঘাট-কদমতলী রোড প্রশস্থ করণ ও পয়:নিষ্কাশন ড্রেন এবং বঙ্গবীর রোড সম্প্রশারণ ও ড্রেন নির্মান, সুপ্রশস্থ ফুটপাত, বিভিন্ন পয়েন্ট ও স্থানে চত্বর নির্মান এবং পানির ফোয়ারা স্থাপন প্রভৃতি সরকারি ও বেসরকারি এবং দেশি ও বিদেশি অর্থায়নের উন্নয়নে রয়েছে আরিফুল হক চৌধুরীর বিশেষ ভূমিকা। তাইতো উন্নয়নকামী নগরবাসীর মনে স্থান করে নিতে পেরেছিলেন তিনি। যার ফলশ্রুতিতে ২০১৩ সাল থেকে পর পর দুটি নির্বাচনেই বিপুল ভোটের ব্যবধানে সিসিক মেয়র পদে বিজয় ছিনিয়ে আনতে পেরেছিলেন তিনি। তার জনপ্রিয়তায় বার বার হার মানতে হয়েছিল সরকার দলের প্রার্থীকে।
সিলেট নগরীর উন্নয়ন ও নগরীকে আকর্ষণীয় একটি মডেল সিটিতে রূপান্তরের নেশা’ই কাজ করছে আরিফুল হক চৌধুরীর মধ্যে। তাই সবসময় নগরীর উন্নয়নই ভেসে ওঠে তার কল্পনার দৃশ্যপটে। ২০১৩ সালে প্রথম দফায় বিরোধীদলীয় মেয়র নির্বাচিত হয়েই বাগিয়ে নেন সরকারদল আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতকে। নগরীর উন্নয়নে সংযুক্ত করে সরকার থেকে আদায় করে নেন বড় বড় উন্নয়ন বরাদ্দ। নগরীর সব ক’টি খাল খনন-উদ্ধারসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সশরীরে মন্ত্রীকে নিয়ে বারবার মাঠপর্যায়ে যেতে পেরেছিলেন তিনি। বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মন্ত্রীর মনে জাগ্রত করে তুলেছিলেন জন্মস্থান সিলেট নগরের উন্নয়নবার্তা। বর্তমানে পররাষ্টমন্ত্রীকেও উ™ু¢দ্ধ করে রেখেছেন সিলেট নগরের উন্ন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখেতে। তাইতো আজ নগরজুড়ে সাধিত হচ্ছে হাজারো কোটি টাকার উন্নয়ন। নগরীর রাজপথ সুপ্রশস্থ ও সংস্কার ছাড়াও এবার প্রতিটি পাড়া মহল্লায় উন্নয়নের জোয়্রা বইয়ে দিতে শুরু করেছেন সিলেট সিটির নন্দিত মেয়র আরিফ। আধুনিক ও মডেল নগরীর ছোঁয়া লেগেছে প্রতিটি পাড়া মহল্লায়। নগরে এমন কোন পাড়া বা মহল্লা নেই যেখানে রাস্তাঘাট ও ড্রেনে উন্নয়ন কাজ হচ্ছে না।সিলেট সিটির উন্নয়নে সরকারী অর্থ বরাদ্দ এনে নগরজুড়ে একসঙ্গে বছরব্যাপী চালাচ্ছেন উন্নয়ন কাজ। নগরীর গ্যাস, টেলিফোন ও বিদ্যুৎ বিভাগের কাজ চলমান। নগরে সিটি কর্পোরেশনের সম্পত্তি অবৈধ দখলীয় হাজার হাজার একর ভূমি উদ্ধার করেন তিনি।
রাস্তা সম্প্রসারণ ও ড্রেন ফুটপাত নির্মাণ করে শিশু, মহিলা, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীদের চলাচলের উপযোগী করে তুলেছেন সিলেট নগরকে। নগরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা দীঘি, পুকুর ও জলাশয়গুলো সংস্কার করে সুদর্শণ ওয়াকওয়ে নির্মান, খালগুলো দখলমুক্ত করে খনন ও খালগুলোর দুধারে গার্ডওয়ালের পাশাপাশি খালের দুপারে ড্রেন নির্মান, যাতে ময়লা আবর্জনা যুক্ত পানি খালে না পড়ে এবং খালগুলো দোষণমুক্ত থাকে।
শুধু নগরীর অবকাঠামো উন্নয়নই করছেন না। নগরবাসীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ধর্মীয় উন্নয়নেও রয়েছে তার বিশেষ অবদান। বিদেশ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে তার কর্পোরেশনের বিশেষ বরাদ্দ। হত-দরিদ্র রোগীদের জন্যও রয়েছে চিকিৎসা অনুদান। মসজিদ, মাদ্রাসা এতিমখানায়ও তার অবদান আছে। নগরের নয়াসড়ক জামে মসজিদসহ কয়েকটি মসজিদ সম্প্রসারণ ও পুন:নির্মানে রয়েছে তার বিশেষ ভূমিকা ও অবদান রয়েছে। অন্যান্য ধর্মের উপাসনালয়েও রয়েছে তার বরাদ্দ। শত শত মসজিদ, মান্দির গীর্জায় নলকুপ স্থাপন করেন তিনি।
নানা প্রতিকুলতার মধ্যদিয়ে হলেও হকারমুক্ত রাস্তা ও ফুটপাত করতে তিনি অনেকটা সফল। হকারদের পুনর্বাসনে একাধিক স্থান বরাদ্দ করেছেন মেয়র আরিফ। যানজট নিরসনে ও যাত্রীদের সুবিধার্থে নগর পরিবহণ, পর্যটন পরিবহন, নগরের বাইরে ট্রাক টার্মিনাল স্থাপন, বাস টার্মিনালগুলোর উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ করেন। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ইতোমধ্যে অনেকটা সাফল্য অর্জন করতে পেরেছেন। বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও পানিচুরি রোধ করে নাগরিকদের মধ্যে সুষম পানিবণ্ঠনে সক্ষম হয়েছেন তিনি।
সিসিক সূত্র জানায়-সিলেট নগরে ৯৭০ কিলোমিটার ছড়া এবং সমপরিমান ড্রেন রয়েছে। ৩৫০ কিলোমিটার ফুটপাত, ৬৬৮ কিলোমিটার রাস্তা রয়েছে। বর্তমানে নগরীর ছড়াগুলোতে ১০০ কিলোমিটার ছড়ার রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ করা হচ্ছে।
মেয়র আরিফ বলেছেন, সরকারী বরাদ্দের কাজে অনকেটা সময়ের বাঁধা-বাধ্যকতা রয়েছে। তাই সম্প্রতি একযোগে উন্নয়নমূলক কাজ করাতে গিয়ে নগরজীবনে কিছুটা দুর্ভোগ হচ্ছে সত্য। তবে উন্ন্য়নের স্বার্থে জনগণ সামান্য দুর্ভোগ মেনে নিয়েছেন। সবাই বাহবা দিচ্ছেন এবং দুর্ভোগ প্রতিদিনই কমছে। আগামী ৩ মাসের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে সব দুর্ভোগ। উন্নয়ন সম্পর্কে মেয়র বলেন, ফুটপাত, রাস্তা, ড্রেন ও মোড়ের মনুমেন্ট সব পরিকল্পনা মতোই হচ্ছে। অপরিকল্পিত উন্নয়নের ধোঁয়া সম্পূর্ণ ভুয়া বলে জানান তিনি।
নগরীর লন্ডনী রোডের হাফছা বেগম জানান, ভগ্নদশা রাস্তা ও ড্রেনের কারণে আমাদের দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল। সম্প্রতি মেয়র রাস্তা প্রশস্থকরণ ও ড্রেন নির্মানে হাত দেওয়ায় পাড়ার জনগন খুবই খুশি। তারা স্বেচ্ছায় বাসা-বাড়ির দেওয়াল ভেঙ্গে দিয়ে রাস্তা প্রশস্থ ও ড্রেন নির্মান করতে দিচ্ছেন।
পাঠানটুলার হারিছ মিয়া বলেন-আমরা ছোটকাল থেকেই দীর্ঘ বছর ধরে পানি ও কাদা মেড়ে পথ চলতে হয়েছিল। সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে সম্প্রতি রাস্তা সম্প্রসারণ ও ড্রেন নির্মানের ফলে আমাদের দর্ঘিদিনের দুর্ভোগ বহুলাংশে লাঘব হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করে একজন কলেজ শিক্ষক বলেন-আমার মতামত অত্যন্ত পজিটিভ। উন্নয়ন কাজ হচ্ছে এবং হতে দিন। ইতোমধ্যে চৌহাট্টা থেকে কুমারপাড়া পর্যন্ত রাস্তার কাজ শেষ হয়েছে। এখন বেশ সুন্দর হয়েছে, যাতায়াত বা চলাচলে সমস্যা হচ্ছে না, বরং ভালো লাগায় মনটা ভরে যায়।
নগর উন্নয়নের আলোকবর্তিকা হয়ে ওঠেছেন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। তাই বারবার সিলেট বিদ্বেষী ও উন্নয়ন বিরোধী লুটেরাদের ষড়ন্ত্রের শিকার হয়েছেন তিনি। বারবার জেল-জুলুমের স্টীম রোলার চালানো হয়েছে তার উপর দিয়ে। তবুও হার মানেনি সিলেটের মাটিতে জন্ম নেওয়া অকতুভয় এই কৃতিসন্তান।
Sharing is caring!
………………………..
Design and developed by best-bd