সিলেট ৫ই এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ৬ই শাওয়াল, ১৪৪৬ হিজরি
প্রকাশিত: ১০:২৪ অপরাহ্ণ, মে ১৬, ২০২২
নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেটে বিভাগে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে সিলেট জেলা ও সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলা তলিয়েগেছে। তলিয়ে গেছে সবজি, মাছেন খামার ও কৃষিজমি।পানিবন্দী হয়ে পঢ়েছেন লাখ লাখ মানুষ। কানাইঘাট সংবাদদাতা জানান-সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।
রবিবার বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলেও সোমবার সকাল থেকে পানি বৃদ্ধি পেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। পৌর শহরসহ আশপাশ এলাকায় নতুন করে বাসাবাড়িতে পানি ঢুকতে শুরু করেছে।
সোমবার সুরমা নদীর পানি বিপদ সীমার ১৪৬ সে. মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। সুরমা ডাইকের গৌরিপুর-কুওরঘড়ি এলাকায় বেশ কয়েকটি ভাঙ্গন কবলিত পয়েন্ট দিয়ে তীব্র গতিতে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। উপজেলার হাজার হাজার বাড়ি-ঘর বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
সোমবার সিলেট-৫ কানাইঘাট-জকিগঞ্জ আসনের এমপি হাফিজ আহমদ মজুমদার, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মুমিন চৌধুরী ও নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন্ত ব্যানার্জি বন্যা কবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন।
এদিকে ভয়াবহ বন্যার কারণে উপজেলার অধিকাংশ এলাকার গ্রামীণ রাস্তা-ঘাট তলিয়ে গেছে। বহু শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়েছে। এখন পর্যন্ত সিলেট শহরের সাথে কানাইঘাটের সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়নি।
সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, টানা ভারি বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হয়েছে হাওরের জেলা সুনামগঞ্জে। জেলার সুরমা নদীর পানি বিপদসীমায় অবস্থান করছে।
গতকাল সোমবার দুপুর দুইটা পর্যন্ত সুরমা নদীর নবীনগর পয়েন্টে ৭.৭০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর মাত্র ১০ সেন্টিমিটার পানি বাড়লেই বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ঢলের পানিতে ভেসে গেছে হাওরের উঁচু এলাকার বোরো ফসল। পানিতে বাদামসহ নষ্ট হয়েছে মৌসুমী সবজি।
জেলার সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের ইব্রাহীম, সদরগড়, সৈয়দপুর এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার তিন ইউনিয়নের বরকতনগর, শরীপপুর গোজাইড়া, মহব্বাতপুর মামদপুর, মারফতি গ্রামসহ অনন্ত ১০ গ্রামের মানুষ পানিবন্ধী রয়েছেন। এছাড়াও জেলার তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার নিম্নাঞ্চলের সড়ক ও ঘড়বাড়ি প্লাবিত হয়েছে।
কৃষি বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে ঢলের পানিতে তাহিরপুর ও সদর উপজেলার উচ্চ এলাকার ২০ হেক্টর বোরো জমি তলিয়েগেছে। ঢলের পানি নেমে যাওয়ায় আশায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনোই বলা যাচ্ছে না বলে মুঠোফোনে জানিয়েছন জেলা কৃষি কর্মকর্তা বিমল চন্দ্র সোম।
যদিও হাওর পাড়ের ক্ষতিগ্রস্তরা জানিয়েছেন ঢলের পানিতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশি হতে পারে। অজানা কারনে কৃষি বিভাগ ক্ষয়ক্ষতির তথ্য গোপন করছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
টানা বৃষ্টিপাতে রোদের দেখা না পাওয়ায় মাড়াইকৃত ধান নিয়ে বিপাকে রয়েছেন নন হাওর এলাকার কৃষকরা। ভেজা ধান শুকাতে না পারায় ধানে চারা গজানোর কারনে ক্ষতির মুখে পড়েছেন হাজারো কৃষক।
সদর উপজেলার ইব্রাহীমপুর গ্রামের বাসিন্দা উজ্জল মিয়া জানান, ঢলের পানিতে রাস্তাঘাট ডুবে গেছে। পানির কারনে চলাচল করা যাচ্ছে না। অনেক ঘরে পানি উঠেছে।
দোয়ারাবাজার উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মুন্না মিয়া জানান, ঢলের পানি দোয়ারাবাজার উপজেলার কাংলা, নাইন্দা, গোজাউরা, সিংরাই হাওরের স্কীমের ধান তলিয়েগেছে। পাহাড়ের সীমান্তবর্তী অন্তত ১০ টি গ্রামের মানুষ পানি বন্ধী রয়েছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ পরিচালক বিমল চন্দ্র সোম বলেন, ঢলের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য এখনো পুরোপুরি নিরুপন হয়নি। আমরা পরিস্থিতি অভজার্ব করছি। পানি নেমে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। এপর্যন্ত তাহিরপুর উপজেলা ১০ হেক্টর ও সদর উপজেলার ১০ হেক্টর জমির ধান তলিয়েগেছে বলে জানন তিনি।
Sharing is caring!
………………………..
Design and developed by best-bd