সিলেট রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার নূরুলের খুটির জোর কোথায় ?

প্রকাশিত: ১০:৪৮ অপরাহ্ণ, মে ১৬, ২০২২

সিলেট রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার নূরুলের খুটির জোর কোথায় ?

ক্রাইম সিলেট ডেস্ক :: সিলেট রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার মোঃ নূরুল ইসলাম। কিছুতেই বন্ধ হচ্ছে না তার অনিয়ম-দুর্নীতি। ঘুষবাণিজ্য করে রাতারাতি হয়ে গেছেন কালো টাকার মালিক। তাঁর খুঁটির জোর নাকি অনেক বেশি। তাই লেখালেখি কররে আরো বিপদের সম্মুখীন হতে হতে হয় গণমাধ্যম কর্মীদের, এমনটাই বলে বেড়ান তিনি। গত ঈদুল ফিতরে কোটি টাকার টিকেট বাণিজ্য হয়েছে তাঁ ও তার কালোবাজারী সিন্ডিকেটের। এর কমিশনও পেয়েছেন তিনি। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রমতে স্টেশন ম্যানেজার মো: নূরুল ইসলামের রয়েছে বিভিন্ন স্তরে ৩০ সদস্যের একটি কলোবাজারী সিন্ডিকেট। টিকেট ছাড়াও স্টেশণ ম্যানেজার নূরুল ইসলামের প্রতিমাসে লাখ লাখ টাকার ঘুষ বণিজ্য হয় স্টেশন এলাকার দোকান ও স্টাকোয়ার্টার-কলোনী থেকেও।
সিলেট স্টেশন থেকে শমশেরনগর স্টেশন পর্যন্ত সিলেট-ঢাকা ও সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে টিকেট কালোবাজারী সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রন করেন ম্যানেজার নূরুর ইসলাম নিজেই। আর কমিশনে তাকে টেকনোলজি সহযোগিতা করেন স্টেশনের কম্পিউটার সেকেশনের কর্তব্যক্তি মোঃ নিজাম। টাকা আদায়ে মানিমিডিয়া হয়ে কাজ করেন ম্যানেজারের গেইট কিপার আজিজ। টিকেট কালোবাজারি ও স্টেশনের দোকানের চাঁদা থেকে মাসে কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্য হয় স্টেশন ম্যানেজার মোঃ নুরুল ইসলামের। আর এ কারণে প্রত্যহ সিলেট স্টেশনে ট্রেন টিকেট যেন হয়ে যায় সোনার হরিণ। সাধারণ যাত্রীরা কাউন্টারে লাইনে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়ানোর পর বিফল হন টিকেট পেতে। সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের টিকেট বুকারদের মুখস্ত একটি শব্দ, আর তা হচ্ছে ‘নেই’। সেই নেই শব্দটিরও কোন শেষ নেই। সাধারণ যাত্রীদের প্রশান সেই ‘নেই’ শব্দটি শোনার জন্য একঘন্টা দাঁড়ানোর দরকার কি? ‘টিকেট নেই’ লিখে স্টিকার টানিয়ে দিয়ে বুকিং কাউন্টার বন্ধ রেখে বুকাদের বাসায় চলে গেলেই ভালো হতো।চাপাচাপি করে লাইনে দাঁড়িয়ে সময় নষ্ট করতে হতোনা এবং বুকাররাও আয়েশে বাসায় দিন কাটাতেন। টিকেট নেই তো কাউন্টারে বসে আছেন কেনো ? এমন প্রশ্নের জবাবে একজন বুকার বলেন- আমরা সরকারি চারি করি, বেতন নেই। টিকেট না থাকলেও আমাদের কাউন্টারে বসে থাকতে হয়। হঠাৎ কোনো টিকেট ফেরত আসলে তা গ্রহণ করে টাকা ফেরত দিতে হয় এবং তা’ আবার বিক্রি করতে হয়। ম্যানেজার স্যারের হাতে সংরক্ষিত টিকেটগুলোও কেটে দিতে হয় তার পছন্দের যাত্রীদের। সূত্র মতে কালোবাজারী নূরুল সিন্ডকেট অনলাইনে বা অন্যভাবে যেসব টিকেট কব্জা করে রাখে, ম্যানজারের নির্দেশশতে সেগুলো কেটে ও প্রিন্ট করে দেওয়ার জন্যই তারা কাউন্টারে বসে থাকেন ও ডিউটি করেন। যখন কোনো কালাবাজারী টিকেট বিক্রিকরে তখন যাত্রীকে একখানা টোকেন দিয়ে কাউন্টারে পাঠিয়ে দিলেই বুকাররা ওই টিকেট কেটে দেন। স্টেশন ম্যানেজার নূরুল ইসলাম বুকার, জিআরপি পুলিশ, সিকিউরিটি ফোর্স, টিটি ও ভ্রাম্যমান ম্যাজিস্ট্রেট সব সংস্থাকেই ম্যানেজ করে অকেজো করে রেখেছেন। এর পরও টিকেট কালোবাজারিদের ধরতে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়র (র‌্যাব) যাবে কেনো ? এ পশ্ন সচেতন মহলের। তাই টিকেট কারোবাজারী ধরতে এসব সংস্থা থাকে সব সময় নিষ্ক্রিয়। তাইতো মাঝেমধ্যে র‌্যাবকে হানা দিতে হয় স্টেশনে। ধরতে হয় কালোবাজারে টিকেট বিক্রেতাদেরকে।
গত ২৩ এপ্রিল টিকেট কালোবাজারি নুরুল সিন্ডিকেটের সদস্য জুফেন আহমদকে (২৭) গ্রেফতার করে র‌্যাব। বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে টার্মিনাল রোডস্থ যমুনা সুপার মার্কেটে অভিযান চালিয়ে ব্ল্যাকটিকেটসহ তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ট্রেনের অনলাইন টিকেট ২টি, ট্রেনের টিকেটের অনলাইন আবেদন কপি ৩০টি এবং কম্পিউটার, প্রিন্টার ও মোবাইল ইত্যাদি সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়।
সূত্র আরো জানায়, সিলেট রেলওয়ে স্টেশনে ম্যানেজার নূরুল ইসলামের অনুগত টিকেট কালোবাজারি সিন্ডিকেট কমিশনে ব্য্যাকে টিকেট কেটে ও বিক্রি করে থাকে। একটি েিকট প্রাপ্ত অতিরিক্ত টাকার নির্ধারিত একটি াংক স্টেশন ম্যানেজার নূরুল ইসলামকে দিতে হয়।
তাই এ সিন্ডিকেট মেবাইল ফোন,অনলাইন ও ডিজিটাল মাধ্যম নিয়ে থাকে সদা প্রস্তুত। টিকেট অপেন করে সাভারে দেওয়ার ৫-৭ মিনিটের মধ্যেই তারা শেষ করে দেয় অনলাইনে দেওয়া ৫০% রেল টিকেট। বাকি ৫০%-এর সিংহভাগ কম্পিউটার ও বুকিং কাউন্টার থেকেই বিাভিন্নভাবে সাবাড় করে নেয় তারায়। তাই টিকেট রিলিজের আধঘন্টা পরে কাউন্টারে গিয়ে চোইরেও আপনি পাবেন না কোনো টিকেট। সংঘবদ্ধ এই সিন্ডিকেট নিমিষেই হাতিয়ে নেয় সব টিকেট। আর স্টেশন ম্যানেজার নূরুল ইসলামের নির্দেশনায় কালোবাজারীদের কাছে টিকেটগুলো সরবরাহ করেন স্টেশনের কম্পিউিটার সেকশনের কর্মচারী হাসান। সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের বুকিং কাউন্টারে টিকেট মিলে না, মিলেনা ম্যানেজারের কাছে, মিলেনা কম্পিউটার অপারেটরের কাছে। আবার অতিরিক্ত টাকা দিলে সহজে এমনকি ট্রেন ছাড়ার ১০ মিনিট আগেও টিকেট মিলে যায় কালোবাজারি সিন্ডিকেট সদস্যদের কাছেই।
অভিযোগ পাওয়া গেছে, সকাল ৮টা থেকে কাউন্টার ও অনলাইনে টিকেট বিক্রি শুরু হওয়ার পাঁচ মিনিটের মধ্যেই সার্ভার থেকে হাওয়া হয়ে যায় সব টিকেট। এর পর থেকে শুরু হয়ে যায় দালালী ও কালোবাজারি। এমনকি সিন্ডিকেট সদস্যরা সিলেট স্টেশনের টিকেট কুলাউড়ায় নিয়ে যায়। দালালদেরকে বেশি টাকা দিয়ে সেখান থেকে সিলেট-ঢাকা, সিলেট-চট্টগ্রাম রুটের ট্রেনের টিকেট পাওয়া যায়। অনেক সময় দালালরা সিলেট স্টেশন থেকে যাত্রী তুলে দিয়ে মোবাইল ফেনের মাধ্যমে কুলাউড়া ও শ্রীমঙ্গল থেকে টিকেট মিলিয়ে দেয়। সিলেট,কুলাউড়া, শ্রীমঙ্গল ও শমসেরনগর স্টেশন পর্যন্ত ম্যানেজার নূরুল ইসলামের কালোবাজারি সিন্ডিকেট বিস্তৃত রয়েছে। আর স্টেমনের কাছে যমুনা মর্কেটের অনলাইন মিডিয়া, ওয়ান মিডিয়া ও নাঈম এন্টারপ্রাইজসহ কয়েকটি দোকান ম্যানেজার নূরুল ইসলামকে কমিশন দিয়েই ব্যাকে টিকেট বিক্রি করে।
এছাড়াও ম্যানেজার নূরুল ইসলামের কালোবাজারী টিকেট বিক্রির সাথে জড়িত রয়েছেন স্টেশনের ভেতরের দোকানদার, পত্রিকার হকার, সিএনজি অটোরিকশা চালক ও স্টেশনের বাইরের কিছু স্টেশনারি দোকান।
অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি বিকাল চারটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত কাউন্টারের লাইনে দাড়িয়ে টিকেট পাননি কিডনি রোগে আক্রান্ত মোঃ রফিক মিয়া। পরবর্তিতে স্টেশন ম্যানেজার মোঃ নুরুল ইসলাম ও কম্পিউটার অপারেটর মোঃ নিজাম এর পরদিন সকাল ১০টায় স্টেশন ম্যানেজারের নির্দেশে তার পিএ গেইটকিপার আজিজ দ্বিগুন টাকার বিনিময়ে হাতে লিখা উপবন এক্সপ্রেস’র একখানা টিকেট দেয়। একইভাবে জুবের শাহ, নুজহাত, নাভির্দ, তাছনিয়া, লিজা, খোকন, সাহাদত-সহ অনেকেই দ্বিগুন টাকা দিয়ে টিকিট কিনেছেন বলে অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে জানতে সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের ম্যানেজার মোঃ নুরুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি টিকেট কালোবাজারির অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন এবং বলেন বাড়তি টাকায় টিকেট বিক্রির ব্যাপারে আমার কিছুই জানা নেই।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

May 2022
S S M T W T F
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  

সর্বশেষ খবর

………………………..