সিলেট ৩রা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা শাওয়াল, ১৪৪৬ হিজরি
প্রকাশিত: ৫:১৯ অপরাহ্ণ, জুন ২৯, ২০২২
আলী হোসেন, গোয়াইনঘাট :: আকস্মিক পাহাড়ি ঢল আর অতিবৃষ্টিতে সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন উপজেলা প্লাবিত হয়ে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, ব্রীজ কালভার্ট, রাস্তাঘাট, মৎস্য খামার, পোল্ট্রি খামার,গবাদিপশু,ব্যাবসায়ীক মান্দা, মাঠের সুনালী ফসল এমনকি মানুষের বসতভিটাও ভাসিয়ে নিয়ে গেছে সাম্প্রতিক সময়ের বন্যায়। এতে সিলেট সীমান্তে অবস্থিত গোয়াইনঘাট উপজেলায় বসবাসরত বাসিন্দাদের দূর্ভোগের অন্ত সীমাহীন ছাড়িয়ে গেছে। একাধারে ৪র্থ দফায় গোয়াইনঘাট উপজেলাবাসীর বেঁচে থাকার স্বপ্নীল স্বপ্নগুলো ভেঙে পড়েছে। সকল শ্রেনী পেশাজীবি মানুষের মাঝে বন্যা আতংকে এখনও নির্ঘুম রাত পোহাতে হচ্ছে। যাদের বাসস্থান হারিয়েছে তারা যাযাবরের ন্যায় জীবন কাটাচ্ছে। বন্যার পানি না কমার কারণে হাওরাঞ্চলের মানুষ এখনো পানি বন্দি অবস্থায় রয়েছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন রোগবালাই তো দিনদিন বেড়েই চলেছে। মানুষের কর্মসংস্থান না থাকার কারণে পরিবারপরিজন নিয়ে বিপাকে রয়েছে। উপজেলবাসীর এ ক্লান্তি কালে দিবারাত্রি নিজেদের পরিবার পরিজনের কথা ভূলে গিয়েও সমাজের বিত্তবানদের পাশাপাশি দেশ-বিদেশ থেকে পাওয়া ত্রাণ নিয়ে উপজেলার এপার ওপারের ভানবাসি এবং ক্ষতিগ্রস্থদের সহায়তা করে সর্বমহলে প্রসংশায় ভাসছেন গোয়াইনঘাট উপজেলার সুযোগ্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তাহমিলুর রহমান ও থানার অফিসার ইনচার্জ কেএম নজরুল ইসলাম।
বিগত (৯জুন) বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত থেকে অতিবৃষ্টির কারণে ভারতীয় ঢলে গোয়াইনঘাট উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে নিমিষেই ঘরবাড়ি ডুবে গিয়ে যোগাযোগ ব্যাবস্থা শতভাগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় মোবাইল নেটওয়ার্ক ও বিদ্যুৎ-বিচ্ছিন্ন হওয়ায় উপজেলার সর্বত্র যোগাযোগ ব্যাবস্থা ছিলোনা। এমন দূরাবস্থায়
সুযোগ্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তাহমিলুর রহমান এবং গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ কেএম নজরুল ইসলাম’র সাহসীকতায় তাৎক্ষণিক কয়েকটি নৌকা সংগ্রহ করে তাদের পরিবার পরিজনকে পেছনে ফেলে সম্মুখ সারীর মানবিক যোদ্ধা হিসেবে বজ্রপাত বৃষ্টি আর বন্যা উপেক্ষা নৌকা যোগে নেমে পড়েন উদ্ধার অভিযানে। উপজেলার প্রত্যান্তঞ্চলের মানুষকে উদ্ধার করে বিভিন্ন বন্যাশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে আসেন এতেই প্রাণে রক্ষা পায় উপজেলার শতশত পরিবার। উদ্ধার কাজেই সীমাবদ্ধ না থেকে বানবাসীদের মাঝে খাবারের ব্যাবস্থা ও চিকিৎসার সকল ব্যবস্থা নিশ্চিত করেন ঐ দুই মানবিক যোদ্ধা। টানা কয়েকদিনের বৃষ্টি আর আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে নাজেহাল উপজেলাবাসীর স্বার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও খাদ্য সংগ্রহের জন্য সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ’র সহযোগিতা চেয়ে আবেদন করলে তাৎক্ষণিক মন্ত্রী ইমরান আহমদ’র ঐকান্তিকতায় সরকারীভাবে এপর্যন্ত ২৪.৫ লক্ষ টাকা, ১৬২মেঃটন চাল, ২৭০০ প্যাকেট শুকনো খাবার, মন্ত্রী ইমরান আহমদ’র ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে ১২,০০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ করা হয়। অপরদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গোয়াইনঘাটের বন্যা পরিস্থিতির খবর চাউর হওয়ার পর থেকে দেশে বিদেশ থেকে মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দেন সমাজের বিত্তবানরা ও বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা। প্রতিদিন সূর্যদ্বয়ের পর থেকেই দিনব্যাপী উপজেলা সদরে ঢুকছে ত্রাণবাহী গাড়ি। ত্রাণ বিতরণে কোন প্রকার বিশৃংখলা ছাড়াই বিভিন্ন সংগঠনের সাথে মিলিত হয়ে আজওঅব্দি বানবাসীদের পাশে নিরংকুশ সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তাহমিলুর রহমান ও গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ কেএম নজরুল ইসলাম।
সরেজমিনে আশ্রয় কেন্দ্র ও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বন্যার ভয়াবহ রুপ চিত্র দেখতে গেলে বানবাসীদের মুখে স্মরণকালের ভয়াবহ পরিস্থিতিতে মানবিক ঐ দুই কর্মকর্তার উদ্ধার গল্ল আর সহযোগিতার হাত প্রসারিত করার মুগ্ধতায় পঞ্চমুখ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও উপজেলার সর্বত্র জুড়ে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তাহমিলুর রহমান ও গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ কেএম নজরুল ইসলাম’র নিবিড় তদারকির মাধ্যামে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার গুলো আশ্রয় কেন্দ্রে এ পর্যন্ত নিরাপদে দিনযাপন করছে। অপর দিকে বিভিন্ন ইউনিয়নে সিলেটের সুযোগ্য জেলা প্রশাসক মোঃ মজিবর রহমান, বাংলদেশ পুলিশ বিভাগের অহংকার সিলেটবাসীর আস্থারস্থল মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন পিপিএম, গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ফারুক আহমদ, গোয়াইনঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোঃ গোলাপ মিয়া, সাধারণ সম্পাদক ও ১০নং পশ্চিম আলীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ গোলাম কিবরিয়া হেলাল, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ৭নং নন্দীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস কামরুল হাসান আমিরুল, ৫নং পূর্ব আলীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ নজরুল ইসলাম, ১নং রুস্তমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাবুদ্দিন শিহাব, ৪নং লেঙ্গুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মুজিবুর রহমান,৯ নং ডৌবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম নিজাম উদ্দিন, উপজেলা যুবলীগ, সেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে ত্রান বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
ত্রাণ সহায়তা বিষয়ে কথা হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তাহমিলুর রহমান ও গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ কেএম নজরুল ইসলাম জানান, আকস্মিক বন্যায় নিমজ্জিত গোয়াইনঘাটের প্রতিটি ইউনিয়নের বন্যা কবলিতদের উদ্ধার ও আশ্রয় কেন্দ্রে নিরাপদে নিয়ে আসা এবং নিম্নাঞ্চলে এখনও বসবাসরতদের খোঁজ খবর নেওয়ার পাশাপাশি সরকারি/ বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠনের তরফ থেকে ত্রান সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। উপজেলা বাসীর সংকটাপন্ন ঐ সময়ে তাদের পাশে থেকে সহযোগিতা করতে পেরে নিজেদের ধন্য মনে করছি। আমাদের পাশাপাশি বন্যা কবলিতদের উদ্ধার ও চলমান ত্রাণ বিতরণে যারা সহযোগিতা করছেন সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।।
Sharing is caring!
………………………..
Design and developed by best-bd