সিলেট ৩রা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা শাওয়াল, ১৪৪৬ হিজরি
প্রকাশিত: ৫:১০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৩, ২০২২
ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী মাসের শুরুর দিকে ভারত সফরে যাবেন। এই সফরের আগে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ নদী কমিশনের বহুল প্রতীক্ষিত সভা হবে। সেই সভায় সিলেট অঞ্চলের কুশিয়ারা নদী নিয়ে অগ্রগতি হতে পারে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন।
বাংলাদেশ কুশিয়ারা নদীর পানি প্রায় পাঁচ হাজার একর জমিতে সেচের জন্য কাজে লাগাতে চায়। কুশিয়ারার পানি আনতে সিলেট সীমান্তে একটি খাল খনন করতে চায় বাংলাদেশ। ‘রহিমপুর খাল’ নামের এই খালটি সীমান্তবর্তী এলাকায়। বেশ কয়েক বছর আগে এই খাল খননের উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ। কুশিয়ারা নদীর উৎসমুখে খননকাজ করতে গেলে বাধা দেয় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। এরপর বন্ধ হয়ে যায় খননকাজ। মূলত জকিগঞ্জের হাওরাঞ্চলের কৃষির সুবিধার্তে খাল খনন করতে চায় বাংলাদেশ। ইতোমধ্যে ওই এলাকায় পাম্প হাউস স্থাপন করা হয়েছে।
এবারের যৌথ নদী কমিশনের বৈঠকে খাল খননে দিল্লির সম্মতি আদায়ের চেষ্টা করবে ঢাকা। এ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে।
সিলেটে একটি অনুষ্ঠান শেষে আজ শনিবার দুপুরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে যৌথ নদী কমিশনের সভা প্রসঙ্গে কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘ভারত সরকারকে ধন্যবাদ দেই যে তাঁরা আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে দাওয়াত দিয়েছেন। আগামী ৫-৬ তারিখে (সেপ্টেম্বরে) উনি ভারতে যাবেন। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে আমার আলাপ হয়েছিল। আমি তাঁকে বললাম, বাংলাদেশের জনগণের একটা প্রত্যাশা আছে যে, প্রায় ১০-১২ বছর ধরে যৌথ নদী কমিশনের মিটিংটা বন্ধ হয়ে আছে, এইটা চালু করেন। কারণ, আমাদের নদী সম্পর্কিত সমস্যা এটা নিয়ে ইয়ে করে…তখন তারা রাজি হয়েছেন। এ মাসের ২৫-২৬ তারিখে বোধহয় মিটিং হবে।’
তিনি বলেন, ‘অনেকগুলো ব্যাপারে আমরা কিন্তু মোটামুটিভাবে ইনপ্রিন্সিপল এগ্রি, ছয়টা নদী সম্পর্কে আমরা এগ্রি। আর আমাদের তিস্তা তো…ভারত সরকার এটাতে রাজি, কিন্তু তাদের নিজেদের একটু সমস্যা আছে। তারা (ভারত সরকার) আমাদের বলেছেন, আপনারা একটু (ভারতের) পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সাথে একটু আলাপ করেন। আমরা বলেছি, ওঁদের সাথে আমরা কেন আলাপ করবো, আপনারা করেন। আপনারা আলাপ করে ঠিকঠাক করবেন। উনারা বলেন, আপনাদের সাথে (পশ্চিমবঙ্গ সরকারের) ভালো সম্পর্ক, আপনারা আলাপ করেন। কারণ, উনাদের কারণে আমরা (ভারত সরকার) ঝামেলায় আছি।’
ড. মোমেন বলেন, ‘আমি আশা করছি যে, যৌথ নদী কমিশনের মিটিংয়ে কিছুটা অগ্রসর হবো। আমাদের কুশিয়ারায় কী (খাল খনন) দিতে পারছি না, বহুদিন ধরে ঝামেলায় আছি। আমরা আশা করছি, (এবার) কিছুটা অগ্রগতি হবে।’
স্মৃতিচারণ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যখন ছোট ছিলাম, তখন শাহজালাল মাজারে গেলে বড় ডেকসি দেখতাম…সাত গরুর রান্না করা যায় ডেকসিতে। আমরা তখন জিজ্ঞেস করতাম, এগুলো কিভাবে আসছে? তখন মুরব্বিরা বলতেন, এগুলো দিল্লি থেকে নদীপথে আসছে। তখন তো ট্রেন ছিল না, রাস্তা ছিল না, প্লেন ছিল না। তার মানে, তখন যমুনা দিয়ে একেবারে সিলেট পর্যন্ত এই ডেকসিগুলো আসছে। আর আগে কেউ কলকাতায় গেলে নদীপথেই যেতো। আমরা চাই, নদীপথগুলো আবার সচল হবে।’
‘৫৪টি নদী তাদের (ভারত) সাথে আমাদের। এগুলো সচল হলে জিনিসপত্র সস্তায় বেচাকেনা করা যাবে, সস্তায় যাতায়াত করা যাবে। আমরা কানেক্টিভিটি চাই, নদীপথটা খুব উত্তম একটা মাধ্যম। কারণ, খরচও কম। আমরা বলেছি, সেগুলো নিয়ে আমরা কাজ করবো। আমরা চাই, সবগুলো নদী আগে যেমন ছিল, সেভাবে উন্মুক্ত থাকবে।’
নদীপথ ব্যবহার নিয়ে যৌথ নদী কমিশনের সভায় আলোচনা হবে বলেও জানান মন্ত্রী।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, ‘আমি একটি প্রস্তাব করেছি, আমাদের সিলেট এলাকায় ঢলের ফলে বন্যা হয়। ঢলটা আসে আসাম থেকে। এটাকে বলে ফ্ল্যাশ ফ্লাড। তারা (ভারত) যেগুলো তথ্য পায়, কখন অতিবৃষ্টি হবে, বন্যা হতে পারে, এই তথ্যগুলো আমাদের সাথে শেয়ার করলে ভালো হয়। দ্বিতীয়ত আমরা চাচ্ছি, তাদের (ভারত) অনেক ড্যাম তৈরি হয়েছে। তারা যখন ড্যাম ছাড়বে, তখন আমাদেরকে আগে থেকেই ওয়ার্নিং দিবা। আর ছাড়লেও একটা অ্যারেঞ্জমেন্ট করে….আমরা এতোটুকু ডিসচার্জ করতে পারবো। আমরা তো ডিসচার্জ করি। আমরা যদি উভয় দেশ হিসাবনিকাশ করে কাজ করি, অববাহিকার লোকের উন্নয়ন হবে। তাহলে আমাদের বন্যা, প্লাবনে এতো ক্ষয়ক্ষতি হবে না। সেটা আমরা তাদের সাথে আলাপ করেছি, তারা নীতিগতভাবে একমত হয়েছেন। বাকিটুকু আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রীর সফরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানান ড. মোমেন।
Sharing is caring!
………………………..
Design and developed by best-bd