সিলেট ৩রা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা শাওয়াল, ১৪৪৬ হিজরি
প্রকাশিত: ১০:১২ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৭, ২০২২
নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেটে বিএনপি নেতা আফম কামাল খুনের জেরে মুখোমুখি সরকার দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাকর্মীরা। দু’দলের মধ্যে বিরাজ করছে থমথমে অবস্থা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে নগরজুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ের করা হয়েছে। স্থ্িগত করা হয়েছে মাহানগর বিএনপি’র বিভাগীয় কর্মসূচি। ঘটনার প্রতিবাদে নগরে তান্ডব চালিয়েছে বিএনপি সমর্থিত ছাত্রদল। এসময় ভাংচুর করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর মোরাল সম্বলিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের দলীয় বিলবোর্ড ও পোস্টার। পোড়ানো হয়েছে একটি মোটর বাইক। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়েছে ছাত্রদল ও ছাত্রলীগের মধ্যে।
রোববার রাত ৯ টার দিকে নগরের আম্বরখানা বড়বাজারে বিএনপি নেতা আফম কামাল খুনের ঘটনা ঘটে। নিহত আফম কামাল তিনি সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক, জেলা ছাত্রদলের সাবেক প্রচার সম্পাদক ও সিলেট ল’ কলেজের জিএস ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন ট্রাভেলস ব্যবসায়ী এবং তার বাসা নগরের সুবিদবাজারে।
বিএনপি নেতা আফম কামাল খুনের প্রতিবাদে রোববার রাত ১১ টার দিকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। লাঠিসোটা নিয়ে এই মিছিলে অংশ নেন অনেকে। নগরের চৌহাট্টা থেকে পৃথক আরেকটি মিছিল বের করে ছাত্রদল। মিছিল থেকে সিলেট ও জেলা ও আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সভা উপলক্ষ্যে মহানগরের বিভিন্ন স্থানে নির্মিত তোরণ ও ব্যানার-ফেস্টুন ভাঙচুর করা হয়। এছাড়া সিলেট জেলা ও আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সভার স্থান রিকাবীবাজার এলাকার কবি নজরুল অডিটরিয়ামে নির্মিত বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্র্রীর ছবিসম্বলিত বিলবোর্ড ভাঙচুর করা হয়। রিকাবীবাজারের কাজী নজরুল অডিটোরিয়ামে রোববার সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। গতকাল সোমবার সেখানে জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। সেজন্য রিকাবিবাজার পয়েন্টসহ আশপাশে বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবিসম্বলিত ব্যানার-ফেস্টুন ও বিলবোর্ড টানিয়েছেন জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।
এদিকে, বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবি ভাংচুরের প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল করে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এসময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ছাত্রদলকে ধাওয়া দেন। এসময় দু’পক্ষে বেশ কয়েকবার ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এছাড়াও এসময় কয়েকটি দোকানের শাটার ও একটি প্রাইভেট কার ভাঙচুর করা হয়। একটি মোটরসাইকলেও আগুন দিয়ে পুড়ানো হয় এসময়।
মিছিল পরবর্তী সংক্ষিপ্ত সমাবেশে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন বলেন, বিএনপির সন্ত্রাসীরা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবি ভাংচুর করার ধৃষ্টতা দেখিয়েছে। সন্ত্রাসীরা গ্রেপ্তার না হলে ১৯ নভেম্বর সিলেটে অনুষ্ঠিতব্য বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ প্রতিহত করা হবে। খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার একদল পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুপক্ষকে দুদিকে তাড়িয়ে দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।
সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন খান জানান, বিএনপির নেতাকর্মীরা বিনা উস্কানিতে বিএনপির মিছিল থেকে কবি নজরুল অডিটোরিয়ামে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সভার ফটকে ভাংচুর চালায়। এসময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি ভাঙচুর করে তারা।
এদিকে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক আফম কামালেল দাফন পর্যন্ত মহানগর বিএনপির সকল রাজনৈতিক কর্মসূচি স্থগিত করা হয়। গতকাল সোমবার এক বিবৃতিতে সিলেট মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকী ও সদস্য সচিব মিফতাহ্ সিদ্দিকী এক বিজ্ঞপ্তিতে গণমাধ্যমকে বিষয়টি জানিয়েছেন।
সিলেট এয়ারপোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খান মাইনুল জাকির জানান, ‘রোববার রাতে বড়বাজার এলাকায় নিজের প্রাইভেটকারে বসা ছিলেন আফম কামাল। এ সময় মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি তাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে নেয়ার পর তার মৃত্যু ঘটে। পরে তার মরদেহ ওসমানী হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়। বিএনপি নেতা আ ফ ম কামাল হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশ সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। সিসিটিভির ফুটেজ দেখে হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়া যুবকদের গ্রেফতারে চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। সোমবার ময়নাতদন্থ শেষে লাশ পরিবারে কাছে হস্থান্তর করা হয়। তবে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এ ঘটনায় মামলা হয়নি এবং কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। তবে সন্দেহ ভাজনদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছেন এয়ারপোর্ট থানার ওসি খান মাইনুল জাকির।
সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ বলেন, ‘নিহত কামালের ট্রাভেল এজেন্সির ব্যবসা ছিল। ব্যবসা নিয়ে নগরীর কয়েকজনের সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জেরে গত ১৫ অক্টোবর নগরের জিন্দাবাজার এলাকার আল মারজান শপিং সেন্টারের সামনে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। হাতাহাতির পরদিন কামালসহ কয়েকজনকে আসামি করে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন বিএনপি নেতা আজিজুর রহমান সম্রাট। মহানগরের বড়বাজার এলাকার বাসিন্দা এই সম্রাট। রোববারের হত্যাকান্ড ওই এলাকাতেই ঘটেছে। অপ্রীতিকর ঘটনা ঠেকাতে ওখানে পুলিশ মোতায়েন করে রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
Sharing is caring!
………………………..
Design and developed by best-bd