সিলেট ৫ই এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ৬ই শাওয়াল, ১৪৪৬ হিজরি
প্রকাশিত: ৮:৩১ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৭, ২০২২
নিজস্ব প্রতিবেদক :: ধর্মীয় ও আত্মশুদ্ধিমুলক অরাজনৈতিক সংগঠন ‘আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ’ এর আজিমুশ্বান ইজতেমা আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। ইজতেমার প্রথম দিন বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ইজতেমা মাঠে জড়ো হতে শুরু করেন মুসল্লিরা। রাতেই ভরে যায় ইজতেমা ময়দান। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে অপ্রত্যাশিত একটি নির্দেশনার পরিপেক্ষিতে নির্ধারিত দিনতারিখের দু’দিন আগেই শুরু হয়ে যায় ইজতেমার আবহ। মঙ্গলবার (১৫ নভেম্বর) রাত থেকেই দক্ষিণ সুরমার পারাইরচকস্থ সিলেট কেন্দ্রীয় ট্রাক টার্মিনাল মাঠে অবস্থান নেন আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলামের আমির মুফতি মাওলানা রশিদুর রহমান ফারুক পীরসাহেব বর্ণভী, প্রবীণ আলেম, দরগাহে হজরত শাহজালাল রাহ. মাদরাসার মুহতামিম শায়খুল হাদীস মাওলানা মুহিব্বুল হক গাছবাড়ী, জামিয়া দারুল কুরআন সিলেটের প্রিন্সিপাল, সাবেক এমপি মাওলানা শাহীনূর পাশা চৌধুরীসহ সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীবৃন্দ।
জানা যায় গত ১২ নভেম্বর (২০২২) সিলেটে সংবাদ সম্মেলন করে আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। ওই সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ধর্মীয় ও অরাজনৈতিক এ সংগঠনের ৭৭ বছর পূর্তি উপলক্ষে সিলেটে দুই দিনব্যাপী আজিমুশ্বান ইজতেমার আয়োজন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ট্রাক টার্মিনালে বৃহস্পতিবার ফজরের নামাজের নামাজের মধ্যদিয়ে শুরু হয়ে পরদিন শুক্রবার বাদ জুমা ইজতেমা শেষ হওয়ার কথা ব্যক্ত করেন হেফাজত নেতৃবৃন্দ। ইজতেমা আয়োজনের জন্য টার্মিনালে প্যান্ডেল ও মঞ্চ তৈরির কাজ প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল। এরই মধ্যে পুলিশের পক্ষ থেকে ইজতেমা পেছানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার সুদ্বীপ দাস গণমাধ্যমকে জানান- আমাদের কাছে খবর রয়েছে, ইজতেমা ঘিরে কোনো কুচক্রিমহল অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে পারে। তাই কমিশনার স্যারের নির্দেশনায় আমরা ইজতেমাটি কর্তৃপক্ষকে ১৯ নভেম্বরের পরে আয়োজন করতে নির্দেশ দিয়েছি। মুহুর্তের মধ্যে এ খবরটি চাউর হয়ে যায় পুরো সিলেটে। এতে ক্ষুব্ধ হন পীরসাহেব বরুণীর ভক্তগণ। তাৎক্ষণিকভাবে ইজতেমাস্থলে অনুষ্ঠিত হয় জরুরি পরামর্শ সভা। রাত ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত টানা দুই ঘন্টা পরামর্শ সভা শেষে আমীরে হেফাজত মঙ্গলবার থেকে ইজতেমা শুরুর ঘোষণা দেন।
পরামর্শ সভা থেকে সিদ্ধান্ত ঘোষণাকালে আল্লামা মুফতি রশিদুর রহমান ফারুক পীরসাহেব বরুণী বলেন- ‘ইজতেমা এখানে এই মাঠেই হবে। ইজতেমা শেষ হওয়া পর্যন্ত আমি এখানেই অবস্থান করবো। আমাকে সরাতে চাইলে লাশ সরাতে পারবেন, আমাকে না।’ আজ রাত থেকেই আমরা যিকির আজকার চালিয়ে যাবো। যারা আসতে চান, চলে আসতে পারেন। আমরা এখানে আসিনি কাউকে ক্ষমতার গদি থেকে নামাতে কিংবা কাউকে গদিতে বসাতে। আমরা এসেছি জাহান্নামের পথ থেকে মুসলমানদেরকে ফেরাতে! মুক্তির পথ দেখাতে, জান্নাতের পথে নিয়ে যেতে। এখানে গোয়েন্দা সংস্থাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যাঁরা এসেছেন তাদেরকে ধন্যবাদ জানিয়ে পীরসাহেব বলেন ডিজিএফআইয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন আমাদের ইজতেমা চালিয়ে যেতে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো বাঁধা -বিপত্তি নেই। আজ থেকেই যথারীতি ইজতেমার কার্যক্রম চলবে ইনশাআল্লাহ।সিলেটে বিএনপির সমাবেশের আগে ইজতেমায় আপত্তি জানিয়েছিলো পুলিশ। ইজতেমা কয়েকদিন পিছিয়ে নেওয়ার অনুরোধও করা হয়েছিলো। তবে আপত্তি আর অনুরোধ উপেক্ষা করে একদিন আগে থেকেই অংশ নিতে এর মধ্যেই মুসল্লিরা ময়দানে আসতে শুরু করেছেন। তাদের পদচারণায় ময়দানের অনেকাংশ মুখর হয়ে উঠেছে। সিলেটে শুরু হয়ে গেছে আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ইজতেমা। বৃহস্পতি ও শুক্রবার এই ইজতেমা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও পুলিশ আপত্তি জানানোর পর মঙ্গলবার রাত থেকেই শুরু হয় ইজতেমার কার্যক্রম। সিলেটের দক্ষিণ সুরমার কেন্দ্রীয় ট্রাক টার্মিনাল মাঠে বুধবার সকাল থেকেই জড়ো হতে দেখা গেছে মুসল্লিদের। এই মাঠেই ইজতেমার সকল ধর্মীয় কাজের পাশাপাশি ফজর ও জোহরের নামাজ আদায় করেন তারা।
সরেজমিন দেখা গেছে, ইজতেমা আগত মুসল্লিদের সকল ধরণের সুযোগ সুবিদা করেছেন আযোজকরা। এর মধ্যে রয়েছে শতাধিক অজু খানা, টয়লেট, খাবারের ব্যবস্থা, এছাড়া রয়েছে মেডিকেল ক্যাম্প। আজ বৃহস্পতিবার ফজর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইজতেমার মূল কার্যক্রম শুরু হবে এবং শুক্রবার জুময়ার নামাজের পর আখেরি মুনাজাতের মধ্য দিয়ে ইজতেমা সমাপ্ত হবে। যদিও গত মঙ্গলবার রাতে সিলেট মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে ইজতেমার আয়োজন কয়েকদিন পিছিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিলো।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বুধবার (১৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ‘আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম’র নেতৃবৃন্দ এবং সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) কমিশনার মো. নিশারুল আরিফের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে সবার সম্মতিক্রমে শুক্রবার সকাল ১০টার মধ্যে ইজতেমা শেষ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠকে আয়োজকরাও এ সময়ের মধ্যে ইজতেমা সমাপ্ত করার প্রতিশ্রুতি দেন।
বিষয়টি বুধবার সন্ধ্যায় জানিয়েছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (অতিরিক্ত দায়িত্ব- মিডিয়া) সুদ্বীপ দাস।
উল্লেখ্য- ১৯৪৪ সালে শায়খুল ইসলাম সায়্যিদ হুসাইন আহমদ মাদানী রাহ. এর খলীফা, শায়খ লুৎফুর রহমান বর্ণভী আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ নামে একটি ইলহামী, ইসলাহী, অরাজনৈতিক, দ্বীনী সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। যদিও সংগঠনটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা হয় ১৯৫৪ সালে। শুরু থেকে সংগঠনটির বিস্তারে শায়খ মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরী, আল্লামা মুশাহিদ বায়মপুরী, ফখরে বাঙ্গাল মাওলানা তাজুল ইসলামসহ প্রমুখ আলেমগণ অবদান রেখেছেন। দ্বীনবিমুখ মানুষকে দ্বীনের ওপর তুলে আনা, সাধারণ মুসলিমদেরকে দ্বীনের আবশ্যিক বিষয়াবলি শিক্ষা দেওয়া এবং সামগ্রিকভাবে জনসাধারণের মধ্যে ইসলাহ ও হিদায়াতের বার্তা পৌঁছানোই আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রধানতম কর্মসূচি। ১৭, ১৮ নভেম্বর আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলামের আজিমুশ্বান ইজতেমা সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে হওয়ার কথা ছিল। এটি ছিল পূর্ব নির্ধারিত স্থান কিন্তু পরদিন তথা ১৯ নভেম্বর উক্ত মাঠে সিলেট বিএনপির গণসমাবেশ ডাকার কারনে আলিয়া মাদরাসা মাঠের পরিবর্তে তা সিলেট ট্রাক টার্মিনাল মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়।
Sharing is caring!
………………………..
Design and developed by best-bd