সিলেট ৩রা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা শাওয়াল, ১৪৪৬ হিজরি
প্রকাশিত: ৭:০০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২১, ২০২২
গোলাপগঞ্জ সংবাদদাতা: সিলেটের গোলাপগঞ্জে পড়া না পারায় মাদরাসায় ছাত্রকে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
পরে ওই ছাত্র ভয়ে মাদারাসা থেকে পালিয়ে একটি দোকানে আশ্রয় নেয়। রবিবার (২০ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে এ মাদরাসায় ঘটনাটি ঘটে।
নাহইয়ান আহমদ (১৩) নামের ওই ছাত্র গোলাপগঞ্জের চন্দনভাগ রানাপিং এলাকার তাহফিজুল কুরআন মাদরাসার হাফিজ বিভাগে অধ্যয়নরত। সে গোলাগঞ্জের ফাজিলপুর রানিপং এলাকার দুবাই প্রবাসী হোসাইন আহমদের ছেলে।
পরে গুরুতর আহতবস্থায় নাহইয়ানকে গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
প্রহারকারী শিক্ষকের নাম শাফি আহমদ। তিনি গোলাগঞ্জের ফুলবাড়ি ইউনিয়নের টিকপাড়া এলাকার আলীর ছেলে।
নাহইয়ানের চাচা আমির উদ্দিন খান বলেন, পড়া না পারায় মাদ্রাসার শিক্ষক তাকে নির্মমভাবে বেত্রাগাত করেন। একপর্যায়ে সে মাদরাসা থেকে পালিয়ে মাদ্রাসার কাছে একটি দোকানে আশ্রয় নেয়। এরপরও বিষয়টি আমাদের জানায়নি মাদরাসা কর্তৃপক্ষ।
তিনি জানান, রাত ৯টার দিকে বাড়িতে একটি অনুষ্ঠানের জন্য নাহইয়ানকে নিয়ে আসতে মাদরাসায় জান তিনি। এসময় নাহইয়ানকে খুঁজতে লাগলে মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষক টালবাহানা করতে শুরু করেন। যখন আমি উত্তেজিত হই তখন তারা পুরো বিষয়টি খুলে বলেন। তাদের কথা শুনে আমি মাদ্রাসা থেকে বের হলে নাহইয়ানকে দোকানে বসে কান্নারত অবস্থায় পাই। তখন সে নির্যাতনের কথা জানালে আমি তাকে উপজেলা কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। হাসপাতালে নিয়ে যাবার পর আমরা তার পড়নের কাপড় খুলে নির্যাতনের ভয়াবহতা দেখে হতবাক হই।
আমির উদ্দিন খান বলেন, আমরা আইনের আশ্রয় নেয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।
এদিকে, মাদ্রসার মুহতামিমসসহ কয়েকজন শিক্ষক সোমবার (২১ নভেম্বর) সকালে উপজেলা কমপ্লেক্সে নাহইয়ানকে দেখতে যান এবং বিষয়টি দেখে দিবেন বলে আশ্বাস প্রদান করেন।
এ বিষয়ে মাদ্রাসার মুহতামিম বদরুল হক জানান, প্রহারকারী শিক্ষককে এ ঘটনায় মাদ্রাসা থেকে বহিষ্কার করা হবে।
গোলাপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, মাদ্রাসা ছাত্রকে নির্যাতন করা হয়েছে এরকম কোসো অভিযোগ থানায় আসেনি। আসলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
Sharing is caring!
………………………..
Design and developed by best-bd