সিলেট ৩রা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা শাওয়াল, ১৪৪৬ হিজরি
প্রকাশিত: ৭:৫২ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৬, ২০২৩
ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : সিলেট মহানগরের মিরাবাজারের আগপাড়ার মৌসুমী আবাসিক এলাকার ৮৫/বি নং বাসায় হওয়া অসামাজিক কার্যাকলাপে এক পুলিশ সদস্য জড়িত থাকারও তথ্য পাওয়া গেছে। সেই পুলিশ সদস্য স্থানীয়দের গণপিটুনিতে আহত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে গ্রেফতার অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
অভিযুক্ত সেই পুলিশ সদস্যের নাম শেখ বেলাল হোসেন সাগর (২৮)। তিনি শিল্পাঞ্চল পুলিশের সিলেট ইউনিটে কনস্টেবল পদে দায়িত্ব পালন করছেন। এসব তথ্য পুলিশের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।
মৌসুমী আবাসিক এলাকার ৮৫/বি নং বাসার চতুর্থ তলায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলছিলো অসামাজিক কার্যকলাপ। বাসাটির মালিক দুদু মিয়া প্রবাসে থাকেন। কিশোরগঞ্জের এক ব্যক্তি বাসার দেখভাল করেন। এ বাসার চতুর্থ তলার ইউনিটটি এক মাস আগে সিলেটের জালালাবাদ থানার বাদাঘাট এলাকার নজরুল ইসলামের স্ত্রী রাবেয়া বেগম (৩১) ভাড়া নেন। ভাড়া নেওয়ার সময় তার স্বামী প্রবাসে আছেন বলে জানান। এরপর থেকেই ওই বাসার চতুর্থ তলায় দিনে-রাতে পুরুষদের আনাগোনা শুরু হয়। ওখানে চলতো অসামাজিক কার্যকলাপ।
মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে রাবেয়ার ঘরে হঠাৎ ৭-৮ জন যুবক জোরপূর্বক ঢুকতে গেলে সেখানে অবস্থান করা যুবতী সুলতানা বেগমসহ কয়েকজন ‘ডাকাত- ডাকাত’ বলে চিৎকার শুরু করেন। এসময় স্থানীয় লোকজন এসে তাদের মধ্য থেকে কয়েকজনকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। তবে এসময় ৪-৫ জন যুবক পালিয়ে যান। আটককৃতদের মধ্যে একজন ছিলেন পুলিশ সদস্য সাগর।
রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঘটনাস্থলে যায় কোতোয়ালি থানাপুলিশ। এসময় স্থানীয়রা এই বাসায় দীর্ঘদিন ধরে অসামাজিক কার্যকলাপ চলছে বলে অভিযোগ করেন। পরে পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে এ বাসার বিভিন্ন কক্ষ থেকে অসামাজিক কাজে ব্যবহৃত জিনিসপত্র জব্দ করে পুলিশ।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে ওই বাসা থেকে মোট ৬ জনকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ। তারা হলেন- সিলেটের জালালাবাদ থানার বাদাঘাট এলাকার নজরুল ইসলামের স্ত্রী রাবেয়া বেগম (৩১), তার ছেলে মুন্না আহমদ (১৮), সিলেটের ওসমানীনগর থানার কাশিকাপন গ্রামের মো. আব্দুল মতিন তালুকদারের ছেলে মাসুদ আহমদ তালুকদার, জৈন্তাপুর উপজেলার ফেরিঘাট গ্রামের আব্দুল করিমের মেয়ে সুলতানা বেগম (২৪), নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ থানার বেপারিবাড়ি গ্রামের মো. আজিজুল হকের মেয়ে প্রিয়ামনি (১৮) ও স্থানীয়দের মারধরে আহত ওই পুলিশ সদস্য শেখ বেলাল হোসেন সাগর।
গ্রেফতারের পর রাবেয়া বেগমকে আসামি করে মানবপাচার আইনে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। পরে বুধবার (২৫ জানুয়ারি) বিকালে তাদের আদালতে প্রেরণ করলে বিজ্ঞ বিচার জেলহাজতে প্রেরণ করেন। বৃহস্পতিবার (২৬ জানুয়ারি) সবাইকে ৩ দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছে পুলিশ। সে আবেদনের শুনানি আগামী রোববার অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালি থানারা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলী মাহমুদ।
স্থানীয়রা জানান- ৮৫/বি নং বাসার চতুর্থ তলার ইউনিটটি ভাড়া যাওয়ার পর পুরুষদের আনাগোনা দেখে অন্যান্য ভাড়াটে কেয়ারটেকারের কাছে অভিযোগ করলেও তিনি এতে কর্ণপাত করেননি। স্থানীয়দের অভিযোগ- ওই বাসার কেয়ারটেকারও অনৈতিক কাজের সঙ্গে জড়িত। তাকেও গ্রেফতারের দাবি জানান তারা।
পুলিশের একটি সূত্র বলছে- সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ওই বাসায় তরুণী-যুবতীদের নিয়ে এসে পতিতাবৃত্তি করাতেন রাবেয়া বেগম। মূলত রাবেয়ার কোনো স্বামী নেই। নজরুল ইসলামের সঙ্গে তার ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। তাছাড়া এ বাসায় নারীদের যৌন নির্যাতনও করা হতো।
এদিকে, এই অনৈতিক কাজে শিল্পাঞ্চল পুলিশ সদস্যের জড়িত থাকার অভিযোগের বিষয়ে জানতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-৮ (সিলেট)-এর পুলিশ সুপার মো. রওশনুজ্জামান সিদ্দিকীর অফিসিয়াল মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।
Sharing is caring!
………………………..
Design and developed by best-bd