সিলেট ৩রা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা শাওয়াল, ১৪৪৬ হিজরি
প্রকাশিত: ২:৫০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৯, ২০২৩
ছাতক সংবাদদাতা :: সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগে গ্রাহক সংখ্যা বাড়লেও কমছে সেবার মান। তীব্র জনবল সংকটে সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। উপজেলার বিদ্যুৎ বিভাগের অধীনে প্রায় ৩৮ হাজার গ্রাহক থাকলেও তাঁদের সেবায় নিয়োজিত মাত্র ১৯ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিক। বছরের পর বছর ধরে শূন্য রয়েছে সরকারি মঞ্জুরীকৃত ৩৮টি পদ। এতে কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ায় হয়রানির শিকার গ্রাহকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
জানা গেছে, বিদ্যুৎ বিভাগে স্থায়ী লাইনম্যান সংকট রয়েছে। লাইনের সাহায্যকারী পদেও জনবল কম। অস্থায়ী লাইনম্যান দিয়ে কাজ করানোয় প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। সম্প্রতি বিদ্যুৎ লাইনে কাজ করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় আহত এক যুবক মারা গেছেন। জরুরি সেবার জন্য পর্যাপ্ত গাড়ি থাকলেও নেই স্থায়ী চালক। ফলে বছরের পর বছর খুঁড়িয়ে চলছে ছাতক বিদ্যুৎ বিভাগের কার্যক্রম।
সংশ্নিষ্ট সূত্র জানায়, ছাতক বিদ্যুৎ বিভাগের অধীনে ৩৭ হাজার ৯৩২ জন গ্রাহক রয়েছে। এক বছরে বেড়েছে অন্তত ৭০০। নির্বাহী প্রকৌশলীসহ মোট ৫৭ জন জনবল থাকার কথা থাকলেও আছেন মাত্র ১৯ জন। কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী পাঁচটি পদের মধ্যে কর্মরত রয়েছেন চারজন। মিটার পাঠকের কোনো পদ না থাকায় অস্থায়ীভাবে ১১ জন কাজ করছেন। স্টোরকিপারের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ কাজের জন্য পাঁচটি গাড়ি থাকলেও স্থায়ী চালক নেই। অস্থায়ী চালক দিয়েই চালানো হচ্ছে গাড়ি।
বিদ্যুৎ লাইনের ফোরম্যান নেই। লাইনম্যান স্থায়ী ছয়জনের বিপরীতে আছেন একজন। বিদ্যুৎ লাইনে সাহায্যকারী ১৬টি পদের মধ্যে কর্মরত সাতজন, ৯টি পদ শূন্য রয়েছে। নিরাপত্তা প্রহরী চারটি পদের মধ্যে একটি শূন্য। লাইনম্যান স্বল্পতার কারণে অস্থায়ী শ্রমিকদের দিয়ে মেরামতের কাজ করাতে গিয়ে গ্রাহকদের বাড়তি টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে।
সংশ্নিষ্টরা বলছেন, ছাতকে জরুরি মেরামত, সংরক্ষণ ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য শূন্য পদ পূরণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। তবে জনবল বাড়ানো হয়নি। বাধ্য হয়ে অদক্ষ ও অস্থায়ী দৈনিক মজুরির চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। উপজেলায় দুটি ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্র থেকে ১১ কেভি ফিডারের মাধ্যমে ২৩৫টি বিতরণ ট্রান্সফরমার দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।
৩৩ কেভি লাইন ৮৩ কিলোমিটার, ১১ কেভি ৩২৫, শূন্য দশমিক ৪ কেভি ৬০০ ও শূন্য দশমিক ২ কেভি লাইন ২৫০ কিলোমিটার রয়েছে। ৩৩/১১ কেভির একটি উপকেন্দ্রের দপ্তর থেকে অন্যটি প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে জাউয়াবাজার এলাকার রাউলিতে রয়েছে। ছাতকের আওতায় দোয়ারাবাজার ও শান্তিগঞ্জ উপজেলার (আংশিক) এলাকাসহ দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৫ ও প্রস্থ ১৫ কিলোমিটার।
স্থানীয়রা জানান, ছাতকের খাল, বিল ও হাওরের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন রয়েছে। বর্ষাকালে ঝড় ও বৈরী আবহাওয়ায় বিদ্যুৎ বিভাগের লাইনে ত্রুটি দেখা দেয়। কিন্তু জনবল সংকটে বিদ্যুৎ লাইন মেরামতে দীর্ঘ সময় ব্যয় হচ্ছে। শহরের একাধিক গ্রাহক জানান, বিদ্যুতের কোনো সমস্যা দেখা দিলে জরুরি বিভাগে ফোন দিয়ে কাউকে পাওয়া যায় না। অস্থায়ী লাইনম্যানকে পাওয়া গেলেও বাড়তি টাকা খরচ করতে হয়। এ নিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজনের সঙ্গে প্রায়ই বাগ্বিতণ্ডা হচ্ছে।
শহরের বাগবাড়ী আবাসিক এলাকার আবুল কালাম আজাদ ও নোয়ারাই এলাকার সফিক মিয়া বলেন, তাঁদের বিদ্যুৎ লাইনে কোনো সমস্যা দেখা দিলে অধিকাংশ সময় কাউকে পান না। বাড়তি টাকা খরচ করে সমস্যা সমাধান করতে হয়। অদক্ষ লোকজন দিয়ে বিদ্যুৎ লাইনের মেরামত করতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ছাতক বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবদুল মজিদ বলেন, কম সংখ্যক জনবল নিয়ে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এলাকার গ্রাহক সংখ্যা বিবেচনায় নিয়ে জনবল বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান এ কর্মকর্তা।
Sharing is caring!
………………………..
Design and developed by best-bd