সিলেট ৩রা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা শাওয়াল, ১৪৪৬ হিজরি
প্রকাশিত: ৫:৫৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৩০, ২০২৩
জৈন্তাপুর সংবাদদাতা: সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলা সীমান্তের বিভিন্ন পথে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে ভারতীয় গরু-মহিষসহ ভারতীয় পণ্য সামগ্রী, ইয়াবা, ফেন্সীডিল, অফিসার চয়েসসহ বিভিন্ন ব্যান্ডের মদ, আমদানী নিষিদ্ধ শেখ নাছির উদ্দিন বিড়ি, ভারতীয় শাড়ী, মোবাইল হ্যান্ডসেট, ভারতীয় নিম্ন-মানের চা-পাতা।
ব্যবসায়ীরা বলেন, চুক্তি মোতাবেক কিছু সংখ্যাক গরু-মহিষ আটকের সুযোগ এবং মোটা অংকের বখরার মাধ্যমে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয় ভারতীয় গরু-মহিষসহ অন্যান্য সামগ্রী। সংশ্লিষ্টদের ফাঁকি দিয়ে সীমান্ত অতিক্রমের কোন সুযোগ নেই।
সরেজমিনে জৈন্তাপুর উপজেলার ৪৮ বিজিবির আওতাধীন আলুবাগান, মোকামপুঞ্জি, শ্রীপুর, আদর্শগ্রাম, মিনাটিলা, কেন্দ্রী, কাঠালবাড়ী, কেন্দ্রী হাওর, ডিবিরহাওর, ডিবিরহাওর (আসামপাড়া), ১৯ বিজিবির আওতাধীন ঘিলাতৈল, ফুলবাড়ী, টিপরাখলা, কমলাবাড়ী, গোয়াবাড়ী, বাইরাখেল, হর্নি, মাঝেরবিল, কালিঞ্জি, জালিয়াখলা, অভিনাশ ও লাল মিয়ার টিলা, তুমইর, বাঘছড়া, জঙ্গীবিল, বালিদাঁড়া, ইয়াংরাজা এলাকা দিয়ে পালাক্রমে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে ভারতীয় গরু-মহিষসহ অন্যান্য পণ্য সামগ্রী।
সন্ধ্যা নেমে আসার সঙ্গে সঙ্গে সীমান্ত জুড়ে অবাধে চলে চোরাকারবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের আনাগোনা। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় পণ্য আদান-প্রদানের মহোৎসব। সীমান্ত দখলে থাকে চোরাচালান ব্যবসায়ী ও তাদের বাহিনীর দখলে। কেউ আনছে আসছে গরু-মহিষ, দামী শাড়ী, কেউবা আনছে মাদক, আর কেউবা আনছে চা-পাতা, কসমেট্রিক্স-এর চালান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চোরাকারবারী দলের সক্রিয় সদস্য বলেন, সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সঙ্গে কন্ট্রাক ভিত্তিক সিজারের জন্য গরু-মহিষের চালানের হাটতে না পারা দূর্বল প্রকৃতির গরু-মহিষ বাছাই করে এক-দুটি করে প্রথমে ছেড়ে দেয়া হয়। সেসময় সংশ্লিষ্ট টহলটিমকে খবর দেয়া হয়। অতিদ্রুত টহল টিমের সদস্যরা এসে গরু মহিষ আটক করেন। আটককারী টহল টিম এগুলো নিয়ে ক্যাম্পে আসার প্রক্কালেই শুরু হয়ে যায় মুল চালান বাংলাদেশে প্রবেশের কাজ। এভাবেই প্রতিনিয়ত সীমান্তের বিভিন্ন পথ ব্যবহার করে বীরদর্পে চলছে চোরাচালানের নিরাপদ বানিজ্য। বিনিময়ে মোটা অংঙ্কেও সালামি পৌঁছে যাচ্ছে নানা মহলে।
তিনি আরও বলেন, আপনারা সাংবাদিক যত লিখবেন তখন সালামি বেশি দিতে হয়। মাঝে মধ্যে বড় বড় চালান প্রবেশ করাতে গিয়ে চুক্তির চেয়েও বেশি টাকা দিতে হয়।
তারা আরও বলেন, বাংলাদেশের উত্তরপূর্ব সিলেটের সর্বোচ্ছ চোরাচালানের নিরাপদ রুট জৈন্তাপুর। বিজিবি কয়টি গরু-মহিষ আটক করে আর প্রতিদিন জৈন্তাপুর বাজার, দরবস্ত বাজার গুলোতে কত গরু মহিষ আসে।
এ বিষয়ে শ্রীপুর, মিলাটিলা, ডিবিরহাওর, জৈন্তাপুর এবং লালাখাল ক্যাম্পের দায়িত্বশীলরা গণমাধ্যমকে জানান, অভিযান অভ্যাহত রয়েছে গরু মহিষসহ চোরাচালান পণ্য আটক করা হচ্ছে। এর বেশি কিছু বলেতে তারা ঊর্দ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।
জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। সীমান্তের অনেক বিষয় সংশ্লিষ্টদের দেখার বিষয়।
Sharing is caring!
………………………..
Design and developed by best-bd