সময় শেষ, কাজ বাকি : ফসল নিয়ে শঙ্কা

প্রকাশিত: ১০:১৬ অপরাহ্ণ, মার্চ ১, ২০২৩

সময় শেষ, কাজ বাকি : ফসল নিয়ে শঙ্কা

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে হাওরের বোরো ফসল রক্ষা বাঁধের নির্মাণ ও সংস্কার কাজের নির্ধারিত সময় গতকাল মঙ্গলবার শেষ হয়েছে। তবে এখনও শেষ হয়নি নির্ধারিত প্রকল্পের কাজ। এর মধ্যে কয়েকটি প্রকল্পে এখনও মাটিই পড়েনি।

উপজেলার সর্ববৃহৎ নলুয়া হাওরের কয়েকটি বাঁধের কাজ পরির্দশনকালে দেখা যায়, প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় এখনও মাটি পড়েনি। তবে কাজ চলমান রয়েছে। হাওরের পোল্ডার-১-এর আওতাধীন ৯ নম্বর প্রকল্পের ১ কিলোমিটার ২৪৬ মিটার দৈর্ঘ্য বাঁধের ৭০০ ফুট এলাকায় এখনও মাটি পড়েনি। ১০ নম্বর প্রকল্পের ভাঙা গর্তে কাজ এখনও চলমান। ১১ নম্বর ও ১৩ নম্বর প্রকল্পের ৩০০ ফুট এলাকায় মাটির কাজ বাকি রয়েছে। এছাড়া, ৩ থেকে ৮ নম্বর প্রকল্পে মাটি ফেলা হলেও শেষ হয়নি বাঁধের নির্ধারিত কাজ।

নলুয়া হাওরাঞ্চলের ভুরাখালি গ্রামের কৃষক সাইদুর রহমান জানান, বাঁধের কাজের সময়সীমা শেষ হলেও এখনও এক কিলোমিটার এলাকায় মাটির কাজ হয়নি। নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ না হলে ফসল নিয়ে শঙ্কা সৃষ্টি হবে।

কাজের ব্যাপারে ১১ নম্বর প্রকল্পের সভাপতি রুবেল মিয়া জানালেন, দুই-তিন দিনের মধ্যে কাজ শেষ করা হবে। ৯ নম্বর প্রকল্পের সভাপতি আব্দুস শহিদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তারা সাড়া মেলেনি। ৪ নম্বর প্রকল্পের সভাপতি রনধীর কান্ত দাস নান্টু জানান, তার প্রকল্পের কাজ শেষ। এখন সেখানে দূর্বা লাগানোর কাজ চলছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, জগন্নাথপুর উপজেলায় এবার ৪৭টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধ নির্মাণ, সংস্কার কাজ করা হচ্ছে। এসব কাজের জন্য ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। নিয়ম অনুযায়ী ১৫ ডিসেম্বর কাজ শুরু করে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার কথা থাকলেও এখনও কাজ শেষ হয়নি।

হাওর বাঁচাও আন্দোলন জগন্নাথপুর উপজেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক দিলাওর হোসেন জানান, নির্ধারিত সময়ে কোনো প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়া দুঃখজনক। কাজের ধীরগতি ও অবহেলায় ফসল নিয়ে চিন্তিত হাওরের কৃষকরা।

কমিটির জগন্নাথপুর শাখার আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাওরের একটি বাঁধেরও শতভাগ কাজ শেষ হয়নি। কয়েকটি প্রকল্পে মাটিই পড়েনি।

তবে পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী হাসান গাজী জানান, কাজে কোনো ধরনের গাফিলতি নেই। নলুয়া হাওরে এখনও যে কয়েকটি স্থানে মাটি পড়েনি সেগুলো প্রকল্পের কাজের আওতাভুক্ত নয় বলে দাবি করেন ওই কর্মকর্তা।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..