সিলেট ৩রা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা শাওয়াল, ১৪৪৬ হিজরি
প্রকাশিত: ৪:০১ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৩, ২০২৩
বড়লেখায় প্রতিনিধি :: মৌলভীবাজারে বড়লেখা উপজেলায় আত্মগোপনে থাকা এক যুবকের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। যুবকের নাম সৈয়দ আশরাফুজ্জামান। সে এল.ডি.পি’র রাজনীতির সাথে জড়িত। স্থানীয় আওয়ামী সন্ত্রাসীদের ১০/১২ জনের একটি দল আশরাফুজ্জামানকে খুঁজতে ঐ বাড়িতে হানা দেয়।
সোমবার (১৩ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার মুড়াউল ইউনিয়নের ঘোলসা গ্রামের সৈয়দ আব্দুস শহীদ-এর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, সৈয়দ আব্দুস শহীদের ছোট ছেলে সৈয়দ আশরাফুজ্জামান রাজনৈতিক দল লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এল.ডিপি)-এর সক্রিয় সদস্য। সে এলাকার যুবক ও তরুণদের এল.ডি.পি তে যোগদানে উৎসাহিত করতো। এছাড়াও আশরাফুজ্জামান ক্ষমতাসীন শেখ হাসিনা সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করতো। গৃহীত নানা প্রকল্প থেকে সরকারের এমপি মন্ত্রীদের টাকা আত্মসাৎ এবং মালামাল লুটপাটের প্রতিবাদ করতো। এর ফলে আশরাফুজ্জামান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের টার্গেটে পরিনত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আওয়ামী লীগ নেতা উজ্জল’র নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী সৈয়দ আব্দুস শহীদ-এর বাড়িতে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এ সময় তারা আশরাফুজ্জামান-এর বড় ভাই কামরুজ্জামানকে চড় থাপ্পড় মারে এবং বলতে থাকে আশরাফ কোথায়? আমরা তার সন্ধান চাই। কতদিন লুকিয়ে থাকবে আমরা তাকে দেখে নিবো। কামরুজ্জামানকে বাঁচাতে বাবা সৈয়দ আব্দুস শহীদ এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা তাকেও শারীরীক ভাবে লাঞ্ছিত করে। সরকার দলীয় সন্ত্রাসীদের হামলায় পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য আহত হন। প্রতিবেশিরা আহতদের উদ্ধার করে বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
আশরাফুজ্জামানের আহত বাবা সৈয়দ আব্দুস শহীদ বলেন, আমার ছেলে রাজনীতি করত, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াত এটাই তার অপরাধ। এই দেশে ভালো কাজের কোনো মূল্য নাই। আমার ছেলেটা সন্ত্রাসীদের ভয়ে জীবন বাঁচাতে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে। তাদের হুমকিতে নিজের দেশে আসতে পারছেনা। এরআগেও সন্ত্রাসীরা আমার ছেলের উপর একাধিকবার হামলা করে আহত গুরুতর করেছে।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে আব্দুস শহীদ বলেন, কোথায় বিচার চাইবো ? এই দেশে কি আইন আছে? পুলিশ হাসিনা সরকারের পোষাকধারী গোন্ডায় পরিণত হয়েছে। থানা অভিযোগ নিয়ে গেলে তাড়িয়ে দেয়। বলে সরকার দলের কারো বিরুদ্ধে মামলা করা যাবে না।
বড়লেখা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সুন্দর বলেন, হামলার বিষয়টি শুনেছি । তবে আমাদের কোনো নেতাকর্মী এতে জড়িত নয়। সরকার সারা দেশে উন্নয়ন করে চলেছে এই বিষয়টি বিরুধী চক্রের কেউ মেনে নিতে পারছে না। তিনি বলেন বিরুধী গোষ্টি নানা অঘটন ঘটিয়ে আওয়ামী লীগের ঘাড়ে দোষ চাপায়।
বড়লেখা থানার ডিউটি অফিসার জালাল আহমেদ হামলার বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাননি উল্লেখ করে বলেন, ওসি স্যার ছুটিতে আছেন। কেউ অভিযোগ করলে আমরা সেটা দেখবো।
Sharing is caring!
………………………..
Design and developed by best-bd