ঈদের ছুটিতে গোয়াইনঘাটে পর্যটকের ঢল ছিলো চোখে পড়ার মতো

প্রকাশিত: ৮:০৫ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৯, ২০২৩

ঈদের ছুটিতে গোয়াইনঘাটে পর্যটকের ঢল ছিলো চোখে পড়ার মতো

নিজস্ব প্রতিবেদক :: পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে পর্যটকের ঢল নেমেছে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে। শনিবার পর্যন্ত পর্যটকের দৃশ্য ছিলো চোখে পড়ার মতো। প্রতি বছর ঈদের ছুটিতে পর্যটক দর্শনার্থীদের আগমন বৃদ্ধি পায় গোয়াইনঘাটের উঁচু-নিচু পাহাড়-টিলা, ঝরনা, সারিবদ্ধ চা বাগান, পাহাড়ের কোলঘেঁষা স্বচ্ছ জলের নদীতে পাথরের খেলা-পাহাড়ি ঝর্ণার সমন্বয়ে রূপলাবণ্য ও নৈসর্গিক সৌন্দর্যে ভরপুর গোয়াইনঘাটের প্রকৃতিকন্যা জাফলং, পান্তুমাই ঝর্ণা, সোয়াম ফরেস্ট রাতারগুল ও জল-পাথরের বিছনাকান্দিতে।

প্রতিবারের ন্যায় এবারও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মেঘ-পাহাড় আর স্বচ্ছ জলরাশির মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য অবলোকনে ছুটে আসছেন দর্শনার্থীরা। পরিবার-পরিজন আর বন্ধু-বান্ধব নিয়ে স্থানগুলো পরিদর্শন করে চলেছেন তারা। জাফলংয়ের জিরো পয়েন্ট ও বিছনাকান্দি ছাড়াও সোয়াম ফরেস্ট রাতারগুল, পান্তুমাই ফাটাছড়া ঝরনা, জাফলং চা বাগান ও জাফলং মায়াবী ঝর্ণাতেও দিনভর পর্যটকদের আনাগোনা ও পদচারণায় মুখর ছিল চোখে পড়ার মতো। এবারের ঈদে সিলেটের পর্যটন স্পটসমূহের মধ্যে সব চাইতে বেশি পর্যটকের উপস্থিতি ছিল জাফলংয়ে। আগন্তুকদের বেশির ভাগ দর্শনার্থী ছিলেন তরুণ-তরুণীরা। গত সোমবার সকালে সরজমিন জাফলং জিরো পয়েন্ট ছিল লোকে লোকারণ্য। দেখা যায়, সকাল থেকেই এখানে দলবেঁধে পর্যটকরা ঘুরতে এসেছেন। সকালে প্রবল বৃষ্টিপাত থাকায় পর্যটকরা এখানে এসে বিপাকে পড়েছিলেন। পরে আবহাওয়া অনুকূলে আসে। বাড়তে থাকে দর্শনার্থীদের সংখ্যা। এ সময় সিলেট তামাবিল মহাসড়কের কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ঈদের দিন থেকেই উপজেলার পর্যটন স্পটে লাখো পর্যটকের মতো সমাগম হয়ে থাকে। পর্যটকদের নিরাপত্তায় এখানে ট্যুরিস্ট পুলিশ, গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ, বিজিবি ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা কাজ করে যাচ্ছেন। দেশের নানা প্রান্ত থেকে বন্ধু-বান্ধব ও পরিবার-পরিজন নিয়ে ভ্রমণে এসে সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। নিজেদের হাতে থাকা স্মার্টফোন কিংবা ডিএসএলআর ক্যামেরা দিয়ে ছবি তুলে আনন্দঘন মুহূর্তকে স্মরণীয় করেও রাখছেন তারা।

কিশোরগঞ্জ থেকে ভ্রমণে আসা মিজান বলেন, ঈদের ছুটিতে পরিবারের সদস্যরা মিলে ঘুরতে এসেছি। জাফলং আসলেই খুব সুন্দর। পাহাড়, পাথরের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েছি।
কুমিল্লা থেকে আসা অপর পর্যটক সিয়াম বলেন, পাথর আর স্বচ্ছ জলের সমাহার দেখে খুবই মুগ্ধ হয়েছি। তবে এখানকার পর্যটকদের জন্য ভালো মানের আরও কিছু রিসোর্ট ও খাবার রেস্টুরেন্ট প্রয়োজন।
কসমেটিক্স ব্যবসায়ী মানিক মিয়া বলেন, ঈদে প্রচুর পর্যটকের সমাগম হয়েছে, বেচা কিনিও অনেক ভালো। এদিকে ঠাঁই ছিল না এখানকার হোটেল-মোটেলগুলোতে। আবাসিক হোটেল রিসোর্ট কটেজগুলো ছিল বুকিং।

জাফলং গ্রীণ রিসোর্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও জাফলং পর্যটন হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি বাবলু বখত জানান, ঈদের ছুটিতে এখানে প্রচুর পরিমাণে পর্যটক বেড়াতে এসেছেন। তাতে আমাদের ব্যস্ততা বেড়ে গেছে। আমাদের আবাসিক হোটেলের অধিকাংশ রুমগুলো আগে থেকেই বুকিং হয়ে গেছে। আশা করছি তা আরও বাড়বে।

পর্যটকদের মূল নিরাপত্তায় থাকা জাফলং ট্যুরিস্ট পুলিশের ইন্সপেক্টর মো. রতন শেখ জানান, ঈদের দিন সকাল থেকেই জাফলংয়ে পর্যটক দর্শনার্থীদের পদভারে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়াও পর্যটকরা বেড়াতে এসে যাতে কোনভাবেই ভোগান্তিতে না পড়েন সেদিকে আমাদের নজর রয়েছে।

গোয়ানঘাটের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তায় গোয়াইনঘাট থানার ওসি কেএম নজরুলের নেতৃত্বও জেলা পুলিশের নিযুক্ত পুলিশ বিভাগের টহল জোরদার ও অভিযান ছিল চোখে পড়ার মতো।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

April 2023
S S M T W T F
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930  

সর্বশেষ খবর

………………………..