বিশ্বনাথে মেয়রের নির্দেশে প্রবাসীর বৃক্ষকর্তন

প্রকাশিত: ১০:৫৩ অপরাহ্ণ, মে ১৪, ২০২৩

বিশ্বনাথে মেয়রের নির্দেশে প্রবাসীর বৃক্ষকর্তন

নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেটের বিশ্বনাথ পৌরসভার মেয়র মুহিবুর রহমানের নির্দেশে প্রবাসীর কয়েকটি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। গাছের মালিক দাবি করে এমন অভিযোগ করেছেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী পৌরসভার জানাইয়া গ্রামের মৃত সাজিদ উল্লার ছেলে সামছুল ইসলাম (৫৫)।

রোববার সকালে জানাইয়া গ্রামের ১নং গেটের সামনে থাকা প্রবাসীর সাজিদ উল্লা মার্কেটের ভূমিতে নিজের রোপন করা ছয়টির মধ্যে তিনটি রেন্ট্রি জাতের গাছ লোক দিয়ে কাটান মেয়র।

প্রবাসী ও তার আত্মীয় স্বজনদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করলে খবর পেয়ে দুপুরে ঘটনাস্থল গিয়ে তিনজন গাছ কাটার শ্রমিককে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। এছাড়াও গাছের ৬টি টুকরো জব্দ করে গাছের দাবিদার ওই প্রবাসীর জিম্মায় দেয়া হয়েছে।

জানা যায়, বিশ্বনাথ রামপাশা সড়কের পশ্চিম পাশে জানাইয়া গ্রামের ১নং গেটের সামনে সাজিদ উল্লা নামের একটি মার্কেট রয়েছে প্রবাসী সামছুল ইসলামের।

আর ওই মার্কেটের দক্ষিণে ও বিশ্বনাথ হাবড়াবাজার মীরেরচর সড়কের উত্তরপাশে বড় বড় ৬টি রেন্ট্রি গাছ রয়েছে। রোববার সকাল থেকে ওই গাছগুলো কাটা শুরু করেন রামপাশা ইউনিয়নের কাদিপুর গ্রামের মৃত মতছির আলীর ছেলে গাছ কাটার শ্রমিক আব্দুল কালাম (৪৭)।

খবর পেয়ে গাছের দাবিদার প্রবাসী সামছুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে বাঁধা দিয়ে গাছ কাটা বন্ধ করে দেন। এসময় উত্তেজনা বিরাজ করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।

সেই সাথে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে গাছ কাটার শ্রমিক আব্দুল কালাম (৪৭), রনি মিয়া (২২) ও শুকুর মিয়া (২৮) নামের তিনজন থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। পরে দু’জন কাউন্সিলর ফজর আলী ও রফিক হাসানের জিম্মায় তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন এসআই রুমেন আহমদ।

জানতে চাইলে গাছ কাটার শ্রমিক আব্দুল কালাম জানান, তিনি মেয়রের নির্দেশে ওই গাছগুলো কাটা শুরু করেছেন।

এদিকে, প্রবাসী সামছুল ইসলাম জানান, কয়েক বছর পূর্বে তিনি ওই গাছগুলো রোপন করেছেন। সম্প্রতি তিনি লোকমুখে শোনেছেন বিশ্বনাথ হাবড়াবাজার মীরেরচর সড়ক প্রসস্থকরন ও সংস্কার কাজ শুরু হবে।

এতে তার গাছগুলো কাটার প্রয়োজন হবে। তাই তিনি গত ২৭ এপ্রিল সরকারি রাস্তার ভূমি চিহ্নিত করনের জন্য একজন সার্ভেয়ার নিয়োগ দিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।

কিন্তু আবেদনের কোনো সুরাহা হওয়ার আগেই শ্রমিক দিয়ে মেয়র তার তিনটি গাছ কেটে দিয়েছেন।

জানতে চাইলে পৌরসভার মেয়র মুহিবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, প্রায় ১৫ দিন পূর্বে তিনি প্রবাসী সামছুল ইসলামকে মৌখিতভাবে বলেছেন রাস্তার কাজ শুরু হবে।

এতে তার গাছগুলো কেটে নিতে হবে। প্রবাসী তার গাছ কেটে নিতে দীর্ঘদিন দেরি হওয়ায় ও জনস্বার্থে কাজেরও বিলম্ব হচ্ছে। তাই বন বিভাগ ও উপজেলা প্রকৌশলীর লিখিত অনুমতি স্বাপেক্ষে তিনি ওই গাছগুলো কাটিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কাজকে ধমিয়ে রাখতে বিএনপির লোকজন বাঁধাগ্রস্থ করছে। যারা বাঁধা দিচ্ছে তারা সবাই বিএনপি জামায়াতের লোক। আর এসব বিএনপি জামায়াতের লোকজনের সাথে সহযোগীতায় আছেন কিছু সংখ্যাক আ’লীগ নামধারীরা।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..