সিলেট ৪ঠা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ৫ই শাওয়াল, ১৪৪৬ হিজরি
প্রকাশিত: ৩:১২ অপরাহ্ণ, মে ২৮, ২০২৩
সিলেট মহানগর সংবাদদাতা: রেজিস্ট্রেশন নেই মিটার নেই, রোড পারমিটও নেই, এমনকি বাণিজ্যিকভাবে চলার অনুমতিও নেই। এরকম হাজারো অবৈধ ব্যটারি চালিত টমটম দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এসএমপি’র জালালাবাদ থানা এলাকাধীন উত্তর সিলেটের আঞ্চলিক সবকটি সড়ক। নিবন্ধন ছাড়াই বছরের পর বছর ধরে চলছে অবৈধ ব্যটারি চালিত টমটম। মাস শেষে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে একটি পুলিশ টোকেন দিয়ে এগুলো চলার বৈধতা দিয়েছেন কিছু শ্রমিক নেতা আর থানা পুলিশের কর্তাব্যক্তিরা। এছাড়া এসব অবৈধ ব্যটারি চালিত টমটম চালকদেরও নেই কোন লাইসেন্স। সমিতির সদস্য হলেই গাড়ি চালানো যায়, এতে তাদের কোন ভোগান্তি পোহাতে হয় না। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) জালালাবাদ থানা এলাকাধীন প্রায় ৮টি আঞ্চলিক সড়কে এভাবেই চলছে এসব অবৈধ সিএনজি চালিত অটোরিক্সা এবং ব্যাটারী চালিত টমটম।
সিলেটে মহানগরে ভিতরে অবৈধ টমটম ও অটোরিক্সা নিষিদ্ধ তাকলেও ভ্যান চালক নুরুলের শেল্টারে নগরীর আখালিয়ায় গড়ে উঠেছে বেশ বড় একটি অবৈধ ব্যটারি চালিত টমটম স্ট্যান্ড। আর এসকল অবৈধ ব্যটারি চালিত টমটম নগরীর ভিতরে চলার পিছনে মূলহোতা ও কর্তা হিসেবে দৈনিক অডিটের নামে চলছে নুরুল ইসলাম নামের এক সাবেক ভ্যান চালকের রমরমা চাঁদাবাজি।
সরজমিনে দেখা গেছে- সিলেট নগরীর ৩৭ নং ওয়ার্ডের আওতাধীন আখালিয়া নবাবী মসজিদ সংলগ্ন স্থানে ভ্যান চালক নুরুলের শেল্টারে গড়ে ওঠা অবৈধ ব্যটারি চালিত টমটম স্ট্যান্ডের এক আজব দৃশ্য। এ যেনও এক টমটম কারখানা আর টমটমে ভাঁসছে এই এলাকা।
এ ব্যাপারে স্ট্যান্ডে অবৈধ ব্যটারি চালিত টমটম নিয়ে বসে তাকা কয়েকজন টমটম চালকের সাথে আলাপকালে জানা গেছে- এ স্ট্যান্ডে প্রায় ৮০টি অবৈধ টমটম রয়েছে যা ভ্যান চালক নুরুলের শেল্টারে নগরীর বিভিন্ন সড়ক চষে বেড়ায়। আর এই স্ট্যান্ডে অবৈধ গাড়ি ভর্তি করতে হলে প্রথম দফায় ভ্যান চালক নুরুলকে দিতে হয়ে ১ হাজার থেকে ১৫শ টাকা চাঁদা। এছাড়াও স্ট্যান্ড কেন্দ্রিক অবৈধ টমটম চলাচলের জন্য ট্রাফিক পুলিশ ও স্থানীয় থানা পুলিশের নামে দৈনিক গাড়ি প্রতি ৭০ থেকে ৮০ টাকা হারে চাঁদা উত্তোলন করেন ভ্যান চালক নুরুল। যা বছর শেষে আনুমানিক ১২ থেকে ১৩ লক্ষ টাকার মতো চাঁদা উত্তোলন করেন ভ্যান চালক নুরুল। এদিকে প্রায় ৮ বছর পূর্বে গড়ে ওঠা স্ট্যান্ডের আয় ব্যেরয় কোন হিসাব আজও জানতে পারেন নি টমটম চালকরা বলে অভিযোগ প্রকাশ চালকদের।
অনুসন্ধানে জানা গেছে- প্রায় ১৮ বছর পূর্বে নেত্রকোনা থেকে সিলেটে পাড়িজমান নুরুল ইসলাম। প্রথম দিকে ভ্যান চালাতেন নুরুল। দুই বছর পরে ভ্যান চালানো ছেড়ে দিয়ে অটোরিক্সা চালানো শুরু করেন তিনি। তবে তার কয়েক বছর পর শুরু করেন টমটম চালানো। আর এর কিছুদিন পরপরই কোন অদৃশ্য শক্তির ফলে নুরুল বনে যান এই অবৈধ টমটম স্ট্যান্ডের সেক্রেটারী। আর এতেই বেসামাল ভ্যান চালক নুরুল। প্রায় ৮ বছরে উত্তোলনকৃত চাঁদার প্রায় ১ কোটি টাকার বেশি একাই সাবার করে বসেন ভ্যান চালক নুরুল। রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ বনে গেছেন ভ্যান চালক নুরুল। টমটম চালকদের দাবি প্রশাসনের সকল সেক্টরের সাথে নুরুল রয়েছে গভীর সংখ্যতা যার ফলে মহানগরীর ভিতরে অটো টমটম নিষিদ্ধ তাকলেও অনাসায়ে চলাচল করে ভ্যান চালক নুরুলের অবৈধ প্রায় ৮০টি অবৈধ টমটম।
অবৈধ ব্যটারি চালিত টমটম চালকদের অভিযোগ রয়েছে ভ্যান চালক নুরুল স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজির প্রায় ৮ বছরে উত্তোলনকৃত চাঁদার প্রায় ১ কোটি টাকার বেশি একাই সাবার করে দেশের বাড়িতে দালান ঘর সহ সিলেটে বসে তার আত্মীয়স্বজন দিয়ে ইটের ব্যবসা চালাচ্ছেন ভ্যান চালক নুরুল।।
এব্যাপারে সরজমিন স্ট্যান্ডে চালক নুরুল ইসলামকে পাওয়া নে গেলেও তার ব্যবহৃত সেলফোনে যোগাযোগ করলে তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তা তিনি স্বীকারও করেন নি আবার অস্বীকারও করেন নি। আলাপকালে একপর্যায়ে প্রতিবেদক-কে চাঁদাবাজি মামলায় জড়ানোর হুমকি প্রদান করেন তিনি।
এব্যাপারে জালালাবাদ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম রোকন এর সাথে সরাসরি সাক্ষাৎ করলে তিনি জানান- আমি এ থানায় নতুন আসছি বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি অবিলম্বে খবর নিচ্ছি যদি এরকম দৈনিক প্রতি গাড়ি থেকে ৬০ থেকে ৭০ টাকা করে চাঁদা উত্তোলনের সত্যতা মিলে তাহলে চাঁদাবাজির অভিযোগে নুরুল নামের ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইন অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আশ্বাস প্রদান করেন।
এব্যাপারে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মুহম্মদ আবদুল ওয়াহাব এর সরকারি সেলফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান- বিষয়টি আমার সঠিক জানা নেই। আমাকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করুন অবিলম্বে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো বলে আশ্বাস প্রদান করেন।
Sharing is caring!
………………………..
Design and developed by best-bd