তাহিরপুরে খাস কালেকশনের নামে প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের লাখ লাখ টাকা বাণিজ্য

প্রকাশিত: ৮:২৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৫, ২০২৩

তাহিরপুরে খাস কালেকশনের নামে প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের লাখ লাখ টাকা বাণিজ্য

ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : তাহিরপুরে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে খাস কালেকশনের নামে টোল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে।

‘লাউড়েরগড়-ঘাগড়া’ নৌঘাটের খাস কালেকশন বন্ধে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ’র আদেশ বাস্তবায়ন না করায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুপ্রভাত চাকমার বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ইজারাদার মো. মুনসুর আলম। গত মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকের কাছে তিনি লিখিত অভিযোগ দেন।

জানা যায়, ১৪৩০ বাংলা সনে তাহিরপুর উপজেলার ‘লাউড়েরগড়-ঘাগড়া’ নৌঘাটের ইজারার জন্য দরপত্র আহবান করে উপজেলা প্রশাসন। দরপত্রে ১ কোটি ১৩ লাখ ২১ হাজার টাকার মাধ্যমে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে বিবেচিত হোন ইজারাদার মনসুর আলম। মনসুর আলম ৪৫ লাখ টাকাও একটি ব্যাংকের মাধ্যমে পে অর্ডার করেন। যা এখনও জমা রয়েছে। কিন্তু উপজেলা প্রশাসন ইজারাদারকে নির্ধারিত সময়ে নৌঘাট বুঝিয়ে না দিয়ে ইউনিয়ন সহকারী (ভূমি) কর্মকর্তাকে খাস কালেকশন আদায়ের নির্দেশ দেন। এরপর থেকেই উপজেলা প্রশাসনের আড়ালে প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট এই নৌ-ঘাটে খাস কালেশনের নামে টোল আদায় করছেন। পরে ইজারাদার মনসুর উচ্চ আদালতে এ বিষয়ে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন। গত ২০ জুন রিট শুনানি শেষে ‘লাউড়েরগড়-ঘাগড়া’ নৌ-ঘাটের খাস কালেকশন স্থগিতাদেশ, একই সঙ্গে ঘাটের দখল কেন বুঝিয়ে দেওয়া হবে না রিটকারীকে, সাত দিনের মধ্যে উপজেলা প্রশাসনকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন আদালত। কিন্তু এখন পর্যন্ত এই নৌ-ঘাটে টোল আদায় বন্ধ করা হয়নি।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে বালু ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম ও শাহাজাহান মিয়া বলেন, শুনেছি হাইকোর্ট থেকে এই নৌঘাটে টোল আদায় স্থগিত করা হয়েছে, কিন্তু ইউনিয়ন সহকারী কর্মকর্তার (ভূমি) আড়ালে প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট প্রতিদিনেই এখান থেকে অতিরিক্ত টোল আদায় করছে।

এই প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মধ্যে স্থানীয় উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতারা সরাসরি জড়িত রয়েছেন। তাছাড়া জেলার কিছু অসাধু নেতা আড়াল থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। যার ফলে বিএনপি নেতা রতন মিয়া তার দলবল নিয়ে এই বাণিজ্যে মেতে উঠেছেন। ধ্বংস করা হচ্ছে কৃষকের ফসলী জমি। এনিয়ে কৃষকরা গ্রামে গ্রামে প্রতিবাদ করছেন। কিন্তু কোন প্রতিকার পায়নি তারা। তার মূল কারণ খোদ স্থানীয় সংসদ এই প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত। যেখানে সংসদ জড়িত সেখানে প্রতিবাদ করে কি হবে?

সুমি ও রুস্তম নৌকার মাঝি মাসুক মিয়া ও লায়েস মিয়া জানান, গত তিন সপ্তাহ আগে শুনেছি এ নৌ ঘাটে টোল আদায় স্থগিত করা হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে আগের চেয়ে টোল বেশি নিচ্ছে এখন। শুক্রবার সকালেও তারা টোল নিয়েছে। টাকা না দিতে চাইলে টোল আদায়কারী লোকজন তাদের বেধড়ক মারধর করে।

ইজারাদার মুনসুর আলম জানান, ‘লাউড়েরগড়-ঘাগড়া’ নৌ-ঘাটের খাস কালেকশন বন্ধে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের একটি চিঠি সঙ্গে সঙ্গে প্রথমে উপজেলা প্রশাসনেরই-মেইলে পাঠানো হয়। পরে সরাসরি ইউএনওর অফিসে গিয়ে দাখিল করি আরেকটি আদেশপত্র এবং গত তিন জুন স্থগিতাদেশের সার্টিফাইড কপি জমা করি। কিন্তু গত ২৪ দিনেও রহস্যজনক কারণে নদীতে খাস কালেকশনের নামে টোল আদায় এখনও বন্ধ করা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, উপজেলা প্রশাসনের আড়ালে খাশ কালেকশনের নামে প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট টোল আদায় করছে।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুপ্রভাত চাকমা বলেন, ‘ঘাগড়া- লাউড়েরগড়’ নৌ-ঘাটের খাস কালেকশন উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা পর পরই স্থগিত করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। উপজেলা প্রশাসন কে বলা হয়েছে এই নৌ-ঘাটের টোল আদায় বন্ধ রাখতে।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..