তাহিরপুরে রতন চক্রের হরিলুট : আইওয়াস অভিযানে চারটি বালু ভর্তি বাল্কহেড আটক

প্রকাশিত: ১২:১০ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১৫, ২০২৩

তাহিরপুরে রতন চক্রের হরিলুট : আইওয়াস অভিযানে চারটি বালু ভর্তি বাল্কহেড আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার ঘাগড়া নদীর পাড় কেটে ফসলি জমি ধ্বংস করে প্রতিদিন লাখ লাখ ফুট বালু উত্তোলন রতন চক্র। এ নিয়ে ক্রাইম সিলেটে ধারাবাহিক প্রতিবেদক করা হচ্ছে। ফলে চাপের মুখে পড়েন তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ওসি। তারা তাদের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে দেখাতে আইওয়াস অভিযান পরিচালনা বালু খেকোদের উপর। অভিযানের অংশ হিসাবে শতাধীক বাল্কহেডের মধ্যে চারটি বাল্কহেড আটক করেন। সাথে চারজন লোককে আটক করা হয় এবং জরিমানা করা হয়। তবে এই জরিমানার পরিমান সাংবাদিকদের কাছে বলতে নারাজ ওসি-ইউএনও। এ বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য ক্রাইম সিলেট থেকে একাধীকবার যোগাযোগ করা হয়ে সংশ্লিষ্টরা মুঠোফোন রিসিভ করেননি।

আরও পড়ুন কেএই রতন : যাদুকাটা নদীতে রতন সিন্ডিকেটের তান্ডবলীলা : রহস্যজনক কারণে নিরব প্রশাসন

এদিকে লাউড়েরগড়-ঘাগড়া নৌঘাটের খাস কালেকশন বন্ধে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ হাতে পেয়েও তা বাস্তবায়নে উদ্যোগ বা কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না ইউএনও। সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুপ্রভাত চাকমার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এনে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক একটি লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী মুনসুর আলম।

জানা যায়, গত ১১ মঙ্গলবার জুলাই সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের নিকট তাহিরপুরের ইউএনও খাস কালেকশন বন্ধে কেন আদালতের নির্দেশ প্রতিপালন করছেন না মর্মে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী মুনসুর আলম।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ১৪৩০ বাংলা সনের মেয়াদে তাহিরপুরের লাউড়েরগড়-ঘাগড়া নৌঘাটের ইজারার জন্য দরপত্র আহবান করে উপজেলা প্রশাসন। দরপত্রে অংশ নিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতা বিবেচিত হোন উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের মোল্লাপাড়া গ্রমের হাজী বাচ্চু মিয়ার ছেলে মো. মুনসুর আলম। কিন্তু সর্বোচ্চ দরদাতাকে এই নৌঘাটের দখল না বুঝিয়ে উল্টো খাস কালেকশনের ব্যবস্থা করেন ইউএনও। ইউএনওর এমন উদ্ভট আচরণে নৌঘাটটির খাস কালেকশন বন্ধ একই সঙ্গে ঘাটের দখলের আদেশ চেয়ে হাইকোর্টে একটি রীট করেন মুনসুর আলম।

আদালত তার আবেদনটি আমলে নিয়ে ২০ জুন দীর্ঘ শুনানি শেষে লাউড়েরগড়-ঘাগড়া নৌঘাটের খাস কালেকশন বন্ধে একই সঙ্গে ঘাটের দখল কেন বুঝিয়ে দেওয়া হবেনা এর কারণ জানতে চেয়ে স্থগিতাদেশ দেন।ভুক্তভোগী মুনসুর আলম জানান, লাউড়েরগড়-ঘাগড়া নৌঘাটের খাস কালেকশন বন্ধে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের চিটি প্রথমে ইমেইল করে পাঠানো হয়। এবং পরেরদিন সরাসরি ইউএনওর অফিসে গিয়ে দাখিল করি। ৩ জুন স্থগিতাদেশের সার্টিফাইড কপিও জমা করি। এতকিছুর পরও খাস কালেকশন বন্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন। প্রশাসন শুধু মুখেই বলতেছে খাস কালেকশন বন্ধ করে দিয়েছি। কিন্তু আদালতে আদেশের ২৩ দিন পেরিয়ে গেলেও রহস্যজনক কারণে প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে করে খাস কালেকশনের নাম করে অদ্যবধি লুটপাট চালিয়ে যাচ্ছে একটি প্রভাবশালী মহল।

খাস কালেকশন যদি বন্ধই হয় তো কিভাবে একটি প্রভাবশালী মহল এর নাম করে এখনও লুটপাট চালাচ্ছে আর তাদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না এমন এক প্রশ্নের জবাবে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুপ্রভাত চাকমা বলেন, বিষয়টি আমি দেখতেছি।

অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী বলেন, খাস কালেকশন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। খাস কালেকশন তো এখনও চলমান এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আপনি বিষয়টির খোঁজ নিয়ে ইউএনওর সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..