সিলেট ৩রা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা শাওয়াল, ১৪৪৬ হিজরি
প্রকাশিত: ১১:১৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৩
ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মাত্র ১০ টাকার টিকিটে বিভিন্ন জটিল রোগের চিকিৎসা মিলছে। শুধু তাই নয়, এখানে ফ্রিতে মিলছে ওষুধও। এ কারণে স্বাস্থ্যসেবায় সিলেট ছাড়িয়ে দেশের অন্য জেলার মানুষের কাছেও আস্থার প্রতিষ্ঠান হয়ে দাঁড়িয়েছে এ হাসপাতালটি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, মাত্র ১০ টাকার টিকিটে নানান রোগের চিকিৎসা নিতে নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলের রোগীরা আসেন এ হাসপাতালে। সরকারি এ প্রতিষ্ঠানের বহির্বিভাগে প্রতিদিন ৩ হাজারেরও বেশি রোগী চিকিৎসা নেন। দূর-দূরান্ত থেকে এসে কেবল ব্যবস্থাপত্র (প্রেসক্রিপশন) নিয়েই রোগীদের বাড়ি ফিরতে হয় না, এতে লেখা বেশিরভাগ ওষুধও মেলে বিনামূল্যে।
চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীরা জানান, এ হাসপাতালে আগে সপ্তাহে মাত্র দুদিন হৃদরোগের চিকিৎসা সেবা মিলত বহির্বিভাগে। কিন্তু এখন বিশেষায়িত হৃদরোগ বহির্বিভাগ থাকায় পুরো সপ্তাহেই হৃদরোগীরা সেবা নিতে পারেন। উন্নত চিকিৎসা, চিকিৎসকদের আন্তরিকতা ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক পরিবর্তনের কারণে সম্প্রতি সব শ্রেণি-পেশার মানুষের আস্থা অর্জন করতে পেরেছে চিকিৎসালয়টি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতি সপ্তাহের রোববার ও বুধবার সবচেয়ে বেশি রোগী আসেন। এ দুদিন সাড়ে তিন থেকে চার হাজার মানুষ বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেন। বেশিরভাগ রোগী বিনামূল্যে ওষুধও নিয়ে যান। তাছাড়া স্বল্পমূল্যে নমুনা পরীক্ষা করিয়ে থাকেন।
তবে শয্যা সংকটের কারণে হাসপাতালের মেঝেতে থাকতে হয় রোগীদের। কখনও বারান্দায়ও থাকেন রোগীরা। রোগীদের চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হয় চিকিৎসক-নার্সদের। তারপরও নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
এলার্জিজনিত সমস্যা নিয়ে মৌলভীবাজার থেকে এসেছিলেন তৌয়াহীদ আলী। লাইনে দাঁড়িয়ে ১০ টাকা দিয়ে একটি টিকিট কিনে চিকিৎসা নেন তিনি।
বহির্বিভাগ থেকে বেরিয়ে তিনি বলেন, ‘অনেক চিকিৎসকের কাছে গেছি; কিন্তু সুফল পাইনি। সবশেষ আত্মীয়দের পরামর্শে ওসমানী হাসপাতালে এসেছি। চিকিৎসক বলেছেন ১৫ দিন ওষুধ খেতে। ফ্রিতে ওষুধও পেয়েছি। আমার কাছে সেবার ধরন ভালো লেগেছে।’
বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার কালিবাড়ি এলাকার রবিউল ইসলাম বলেন, ‘আমি তিন মাস ধরে প্রতিমাসে একবার আসি নাক-কান-গলা বিভাগে চিকিৎসা নিতে। সিলেটে আসতে যেতে অনেক খরচ হয়। কিন্তু এখানে যে চিকিৎসা পাওয়া যায়, তা আর কোথাও পাওয়া যায় না।’
এ বিষয়ে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ‘৯০০ শয্যার হাসপাতালে প্রতিদিন ভর্তি রোগী থাকেন ২ হাজারের বেশি। আর বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেন প্রায় ৩ হাজার রোগী। চাহিদার তুলনায় কম জনবল নিয়ে আমাদের চলতে হচ্ছে। হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক পরিবর্তন আনায় এখন প্রতিটি ক্ষেত্রেই সুফল মিলছে।’
তিনি আরও বলেন, বহির্বিভাগে কখন চিকিৎসকরা যাচ্ছেন, কেমন রোগী অপেক্ষা করছেন, ভর্তি রোগীদের কীভাবে সেবা দেয়া হচ্ছে, রাতের বেলা নিয়মিত চিকিৎসকরা ওয়ার্ড ভিজিট করছেন কি না – সবকিছু মনিটরিং করা হয়। পুরো হাসপাতাল সিসি ক্যামেরার আওতায়। কেউ কোনো অনিয়মের সুযোগ পাচ্ছে না।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মাহবুবুর রহমান আরও বলেন, হাসপাতালের সব পর্যায়ের কর্মচারীদের নজরে রাখা হয়। কেউ একটি ব্যাগ নিয়ে বের হলে ‘সন্দেহ’ হলে তাকেও চেক করা হয়। মূলত মনিটরিংয়ের কারণে সবকিছুতে পরিবর্তন এসেছে। শুধু সেবার মান বাড়েনি, বেড়েছে রাজস্ব আয়ও। গত বছর রাজস্ব আয় ছিল সোয়া ৮ কোটি টাকা; এ বছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি টাকার ওপরে।
উল্লেখ্য, ৯০০ শয্যার হাসপাতালে প্রতিদিন ভর্তি রোগীর সংখ্যা থাকে অন্তত ২ হাজার ২০০। সীমিত জনবল দিয়ে ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণের বেশি রোগীকে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সব সংকট কাটিয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রচেষ্টায় চিকিৎসাসেবায় দৃষ্টান্ত রেখে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। সেবার মান বাড়ার পাশাপাশি ব্যাপক অবকাঠামোগত উন্নয়নও হয়েছে হাসপাতালটিতে; একই সঙ্গে বেড়েছে এর সুনামও।
Sharing is caring!
………………………..
Design and developed by best-bd