সিলেট ৫ই এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ৬ই শাওয়াল, ১৪৪৬ হিজরি
প্রকাশিত: ৬:৩৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৫, ২০২৩
নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেটের ঐতিহ্যবাহী ক্বিনব্রিজের চলমান সংস্কার কাজ শেষ করে চলতি মাসের ১৫ তারিখ খুলে দেয়ার কথা ছিলো। দুই মাসে কাজ সম্পূর্ণ না হওয়ায় লোকবল দ্বিগুণ করে সময় আরো ১৫দিন বর্ধিত করা হয়েছে। আগামী নভেম্বরের আগে জনসাধারণের জন্য ব্রিজ খুলছে না বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
গত ১৬ আগস্ট থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত দুই মাস ব্রিজ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করে নোটিশ লাগিয়ে দেয় রেলওয়ের পূর্বাঞ্চল প্রকৌশল বিভাগ। ১৭ আগস্ট থেকে রেলওয়ের সেতু বিভাগ ব্রিজের সংস্কার কাজ শুরু করে। শুরুতে কম লোকবল, বৃষ্টি ও বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারনে কাজ ধীরগতিতে চললেও বর্তমানে লোকবল দ্বিগুণ করে চলছে শেষ পর্যায়ের কাজ।
বৃহস্পতিবার (০৫ অক্টোবর) ব্রিজ পরিদর্শনকালে দেখা যায় তিনভাগে বিভক্ত হয়ে কাজ করছে শ্রমিকরা।
ব্রিজ নির্মাণের পর এবারই প্রথম ক্ষতিগ্রস্ত পাটাতন (ডেই প্লেট) ও লোহার বড় স্পাত (জয়েছ) বদল করছে শ্রমিকরা। ক্বিনব্রিজের উত্তর প্রান্ত অত্যাধিক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেখানে কাজ বেশি হতে দেখা যায়।
পাটাতনের ওপর নির্মিতি কংক্রিটের ঢালাই ৪টি ইলেকট্রিক হাইড্রোলিক ড্রিল দিয়ে ভাঙ্গার কাজ করছিল শ্রমিকদের একটি দল। মরিচা ধরা ১০ ফিট লম্বা ও সাড়ে ৩ ফিট চওড়া ১০ মিলির টেউ প্লেট বা পাটাতন বদল করার কাজ করছিলো আরেকটি দল। তারা গতকাল পর্যন্ত ৬০টি টেউ প্লেট স্থাপন করে। আরো প্রায় ৪০টি টেউ প্লেট স্থাপনের কাজ চলছে। টেউ প্লেটগুলোর জোড়ায় ৩২টি জয়েছ যুক্ত করা হয়েছে। আরো ২৮টি জয়েছ যুক্ত করা হবে। যার প্রত্যেকটার ওজন ৫০০ কেজি মত বলে জানিয়েন শ্রমিকরা।
শ্রমিকদের বড় একটি দল সম্পূর্ণ ব্রিজের পুরাতন রং মেশিনের সাহায্যে তোলে পরিষ্কার করে সৌন্দর্যবর্ধন ও মরিচা প্রতিরোধে মেরুন কালারের রং লাগাতে ব্যস্ত থাকে। কাজের তদারককারী সুমন আহমদ জানান, পুরা ব্রিজ একবার রং করার পর ফাইনালি দ্বিতীয়বার করা হচ্ছে। হিসেবের চেয়ে বেশি স্পাত লাগায় ব্যয়ভার আরো বাড়তে পারে বলে তিনি মনে করেন।
পাটাতনের ভাঙ্গা অংশের সাথে আরো কিছু অংশ তোলে সিলেট সড়ক ও জনপদ (সওজ) কর্তৃপক্ষ পুনরায় ঢালাই দিয়ে চলাচলের উপযোগী করে তুলবে বলে জানা গেছে। তার পর ব্রিজ ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। তবে পূর্ণাঙ্গ কাজ শেষ হতে আরো কয়েক মাস লাগবে।
অভিযোগ উঠেছে, ক্বিনব্রিজের মূল কর্তৃপক্ষ সড়ক ও জনপথ বিভাগের এবং দেখভালের দায়িত্বে থাকা সিলেট সিটি কর্পোরেশন প্রকৌশল বিভাগের কোনো কর্মকর্তাকে সংস্কার কাজের সময় দেখা যায়নি। কাজের স্থলে গিয়ে খোঁজখবর নিলে কাজ যেমন আরো টেকসই হত তেমনি বর্ধিত সময়ের হওয়তো প্রয়োজন হত না। পক্ষান্তের জনসাধারণের কষ্ট কিছুটা লাঘব হত। আর সঠিক সময়ে ব্রিজের কাজ সমাপ্ত হতে পারতো বলে সচেতন মহল মনে করছে।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ডায়নামাইট দিয়ে ব্রিজটি উত্তর পাশের একাংশ উড়িয়ে দেয়। যা স্বাধীনতার পর কাঠ ও বেইলী পার্টস দিয়ে মেরামত করা হয় ও হালকা যান চলাচলের জন্য ব্যবহৃত হয়। পরে ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ রেলওয়ের সহযোগিতায় ব্রিজের বিধ্বস্ত অংশটি লোহা ও কংক্রিট দিয়ে পুনঃনির্মাণ করা হয়। এরপর আর বড় ধরনের সংস্কার হয়নি। এবারই প্রথম মরিচায় ক্ষতিগ্রস্ত হাওয়া পাটাতন তোলে ফেলে নতুন পাটাতন যুক্ত করার কাজ হয়।
Sharing is caring!
………………………..
Design and developed by best-bd