সিলেট ৩রা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা শাওয়াল, ১৪৪৬ হিজরি
প্রকাশিত: ১১:২৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৫, ২০২৩
ক্রাইম সিলেট ডেস্ক :: আব্দালপুরে শুধুই কান্না অনাহারে দিন কাটাছে জগন্নাথ দেবের পরিবার,প্রাণ গেল জগন্নাত দেবের তবু স্বস্তিতে নেই তার পরিবার। বাপ ডেকেও নিজের প্রাণ রক্ষা করতে পারেন নাই জগন্নাথ দেব। এ যেন এক অন্য বাংলাদেশ যেখানে ধর্মের নামে চলছে সাপ্রাদায়িক সহিংসতার নগ্ন এক খেলা।
গত ২৩/১০/২০২৩ ইংরেজী তারিখে মৌলভীবাজার জেলার মৌলভীবাজার সদর থানার আব্দালপুর গ্রামের বাসিন্দা জগন্নাথ দেব মৌলবাদী মুসলিম নেতা মুহিম মিয়ার হাতে খুন হন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ( ৬২) বৎসর।জগন্নাথ দেবের এক নিকট আত্মীয় সুজিত দেব জনান যে, জগন্নাথ দেব তার ব্যাক্তিগত জরুরী কাজে মৌলভীবাজার শহরে গিয়েছিলেন। সেখানে তার সাথে হঠাৎ করে মুহিম মিয়ার সাথে দেখা হয়।
মুহিম মিয়া জগন্নাথ দেবের সাথে জরুরী কথা আছে বলিয়া তাহার সাথে যাওয়ার কথা বলেন। জগন্নাথ দেবের যাওয়ার ইচ্ছা না থাকা সত্বেও জোর করে থাকে শহরের পাশে নির্জন একটি জায়গায় নিয়ে যায়। ঐই জায়গার মুহিম মিয়ার দলের আরো কিছু সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক পূর্ব হইতে অবস্থান করছিল। তখন মুহিম মিয়া জগন্নাথ দেবকে প্রশ্ন করেন যে, কেন তুমি উপজেলা চেয়াম্যানের কাছে আমাদের বিরুদ্ধে নালিশ করেছ , এক পর্যায়ে জগন্নাথ দেবের সাথে মুহিম মিয়ার প্রচন্ড তর্কবিতর্ক শুরু হয়। তখন মুহিম মিয়া তার হাতে থাকা ধারালো চুরি দ্বারা জগন্নাথ দেবকে গুরুত্বর আঘাত করেন। জগন্নাথ দেবের আত্মচিৎকারে আশপাশের লোকজন আগাইয়া আসিলে মুহিম মিয়া সহ তার দলের লোকজন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
আশপাশের লোকজন জগন্নাথ দেব কে প্রথমে স্থানীয় মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়া গেলে রোগীর অবস্থা গুরুত্বর দেখিয়া হাসপাতাল কতৃপক্ষ থাকে জরুরী বিভাগে নিয়ে চিকিৎসা শুরু করেন। পরদিন দুপুর আনুমানিক ১২.০০ ঘটিকার সময় হাসপালাত কতৃপক্ষ জগন্নাথ দেবকে মৃত ঘোষনা করেন। এই ঘটনার পর জগন্নাথ দেবের স্ত্রীর শারীরিক ভাবে খুব অসুস্থ হইয়া মেডিকেল ভর্তি আছেন। তার অবস্থা এখন আশংকাজনক। জগন্নাথ দেবের পরিবারে এখন ছিন্ন ভিন্ন । তার বড় ছেলে প্রদীব দেব মৌলবাদীদের নির্যাতনের স্বীকার হয়ে নিখোঁজ আছেন।
আরেক ছেলে সীমন্ত দেব প্রাণ রক্ষার জন্য এদেশ ত্যাগ করিয়াছেন। এই ঘটনার পর মৌলভীবাজারের নিকটবর্তী হিন্দু সপ্রদায়ের লোকজন মারাত্বক আতংকে আছেন। এই বিষয়ে একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
Sharing is caring!
………………………..
Design and developed by best-bd